পাখির মতো লেজের সাহায্যে স্থিতিশীলভাবে উড়তে সক্ষম এমন রোবোটিক কবুতর তৈরি করেছেন এক দল গবেষক। পাখির লেজের অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে রোবোটিক কবুতরের লেজের অংশ। গবেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যতে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও গতিসম্পন্ন বিমান তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
মানুষের তৈরি বিমানের লেজের খাড়া ডানাকে ‘ভার্টিক্যাল স্ট্যাবিলাইজার’ বলা হয়। এটি বিমানের দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে। এটি বিমানের গতিপথ স্থিতিশীল রাখে ও অপ্রত্যাশিতভাবে দিক পরিবর্তন ঠেকায়। তবে নর্থরপ বি-২ স্পিরিটের মতো সামরিক বিমানের ক্ষেত্রে লেজের ডানা ছাড়া তৈরি করা হয়, যেন রাডারে ধরা না পড়ে। তবে এতে বাড়তি ড্র্যাগ বা বায়ুর প্রতিরোধ তৈরি হয়, যা জ্বালানির অপচয় বাড়ায়।
পাখিদের লেজে কোনো খাড়া স্ট্যাবিলাইজার থাকে না। তবু তারা দারুণভাবে উড়তে পারে। এ রহস্য উদঘাটনে নেদারল্যান্ডসের ইউনির্ভাসিটি অব গ্রোনিনজেনের গবেষক ডেভিড লেনটিঙ্ক ও তার দল ‘পিজনবট টু’ (pigeonbot ii) নামের রোবোটিক পাখি তৈরি করেছেন। এই রোবোটিক পাখির নকশায় ৫২টি আসল কবুতরের পালক ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২০ সালে তাদের তৈরি করা আগের মডেলটি পাখির মতো ডানা ঝাপটানো ও আকার পরিবর্তন করে উড়ত। তবে সেটিতেও প্রচলিত বিমানের লেজের মতো অংশ ছিল। নতুন মডেলটিতে পাখির মতো একটি লেজ যুক্ত করেছে। পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে এটি সফলভাবে উড়তে সক্ষম হয়েছে।
লেনটিঙ্ক বলেন, পাখিদের উড়ার সময় স্থিতিশীলতার গোপন রহস্য তাদের লেজের স্বয়ংক্রিয় নড়াচড়ায় লুকিয়ে আছে। একটি কবুতরকে হাত দিয়ে সামনের দিকে বা পাশের দিকে ঝুঁকলে দেখা যায়, তার লেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জটিল পদ্ধতিতে নড়াচড়া করে। এই প্রতিক্রিয়া পাখির স্থিতিশীলতার মূল কারণ। ‘পিজনবট টু’ তে সেই বৈশিষ্ট্য নকল করা হয়েছে।
রোবটটি পরিচালনা করতে নয়টি সার্ভোমোটর ব্যবহার করা হয়েছে, যা লেজের ঘোরা ও পাখার দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থিতিশীলতা ধরে রাখে।একজন অপারেটর সরাসরি পিজনবট উড়াতে পারে না। বরং অপারেটর অটোপাইলটকে উচ্চ স্তরের নির্দেশ দেয়। যেমন এটিকে বাম বা ডানদিকে ঘুরতে বলে। আর এতে থাকা কম্পিউটার সিস্টেম সেই নির্দেশ অনুযায়ী লেজ ও ডানার সঠিক গতি নির্ধারণ করে।
অনেকবার ব্যর্থতার পর পিজনবট টু সফলভাবে উড়তে, মাঝ আকাশে স্থিতিশীল থাকতে ও অবতরণ করতে পেরেছে। গবেষক লেনটিঙ্ক বলেন, ‘খাড়া লেজ ছাড়া উড়ার উপায় আমরা জেনেছি। এই লেজ বিমানের জন্য অপ্রয়োজনীয় ওজন ও বাতাসের বাধা তৈরি হয়, যা জ্বালানি অপচয় বাড়ায়। আমাদের সমাধান বড় আকারের যাত্রীবাহী বিমানের জন্যও কার্যকর হতে পারে। তবে এটি সহজে উৎপাদনের উপযোগী করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।’ সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট


