ইথিওপিয়ান নেকড়েকে পৃথিবীর সবচেয়ে বিরল বুনো কুকুরের প্রজাতি হিসেবে ধরা হয়। এবার এই নেকড়েকে সম্পূর্ণ নতুন ভূমিকায় দেখা গেল। এই মাংসাশী প্রাণীকে ফুলের মধু পান করতে দেখা গেছে। গবেষকদের মতে, তারা হয়তো ফুলের পরাগায়নেও ভূমিকা রাখছে। এটিই প্রথমবারের মতো কোনো বড় মাংসাশী প্রাণীকে পরাগায়নে অংশ নিতে দেখা গেল।
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল ইথিওপিয়ার বেল পর্বতমালায় ‘রেড হট পোকার’ ফুলে নেকড়েদের এই আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন। গবেষক দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ইউনির্ভাসিটি অব অক্সফোর্ডের গবেষকরা। এই ফুলের মধু মিষ্টি ও সুস্বাদু। গবেষণাপত্রটি চলতি বছরের ১৯ নভেম্বর ইকোলজি নামের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, একেকটি নেকড়ে একবারে প্রায় ৩০টি ফুলে গিয়ে মধু পান করে।
ইউনির্ভাসিটি অব অক্সফোর্ডের অধ্যাপক ও ইথিওপিয়ান উলফ কনজারভেশন প্রোগ্রামের (ইডব্লিউসিপি) প্রতিষ্ঠাতা ক্লাওডিও সিলেরো বলেন, ‘বেল পর্বতমালায় স্থানীয় শিশুদের এই ফুলের মধু চুষেতে দেখে, আমিও এটি চেখে দেখেছিলাম। তখন আমি বুঝতে পারি, মধুটি মিষ্টি ও প্রাকৃতিক শক্তির উৎস। পরে নেকড়েদের এটি পান করতে দেখে আমি নিশ্চিত হই, তারা এই খাবার খুব উপভোগ করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি নেকড়েদের মাঝে একটি সাধারণ আচরণ। আমরা এর পরিবেশগত গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করছি।’
ইথিওপিয়ান নেকড়ে আফ্রিকার সবচেয়ে বিপন্ন প্রাণী ও বিশ্বের সবচেয়ে বিরল বন্য ক্যানাইন প্রজাতির মধ্যে অন্যতম। মনে করা হয় বর্তমানে এদের সংখ্যা ৫০০-এর কম। বেল পর্বতমালায় এই নেকড়েদের একাধিক দলকে মধু পান করতে দেখা গেছে। এদের আচরণ আরও চমকপ্রদ। কারণ এ পর্যন্ত কোনো বড় মাংসাশী প্রাণীকে এই ধরনের পরাগায়নকারী ভূমিকায় দেখা যায়নি।
গবেষকদের মতে, ফুল থেকে মধু পান করার সময় নেকড়েদের মুখে ফুলের পরাগ লেগে যায়। এরপর যখন তারা এক ফুল থেকে অন্য ফুলে যায়, তখন ওই পরাগ স্থানান্তরিত হয়। এভাবে মৌমাছি বা প্রজাপতির মতো তারাও পরাগায়নের কাজ করে।
গবেষণাপত্রের সহ-লেখক ও ইডব্লিউসিপির সিনিয়র বিজ্ঞানী স্যান্ড্রা লাই বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে, এই বিরল প্রজাতি সম্পর্কে আমাদের জানার অনেক কিছু বাকি আছে। এটি ইথিওপিয়ার হাইল্যান্ড অঞ্চলের জটিল বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্যের ওপর আলোকপাত করে। তবে এই অঞ্চলের বাসস্থান ধ্বংস ও টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার ফলে এই প্রজাতি মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে।’
গবেষকরা বলছেন, পরাগায়নের ক্ষেত্রে ইথিওপিয়ান নেকড়ের ভূমিকা পরিবেশগত গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে এই আবিষ্কার পরাগায়ন, প্রাণীর খাদ্যাভ্যাস ও বাস্তুতন্ত্রের জটিল সম্পর্ক আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। পরের বার কেউ ‘নেকড়ে এল!’ বলে সতর্ক করলে, হয়তো সেটি একজন মালী হবে, রাখাল নয়। সূত্র: লাইভ সায়েন্স


