ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সংবাদ উপস্থাপক থেকে জনপ্রতিনিধি: শামীমা তন্বীর অসাধারণ অভিযাত্রা ন্যাশনাল ব্যাংকে চাকরির সুযোগ স্বীকৃত কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজতে হবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে ৩০ শতাংশ ডিভিডেন্ড অনুমোদন নারী থাকুক নিরাপদে... মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় চিরচেনা বিলবোর্ড-ব্যানারের অনুপস্থিতি স্বপ্নে জীবিত দেখার দাবি! ১৮ দিন পর তরুণীর কবর খনন নওগাঁয় রেল লাইনের পাশ থেকে কলেজশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা মেসির হ্যাটট্রি গোলে আর্জেন্টিনার জয়, হিলিতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ‘আমরা সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি’, মোদিকে জর্জিয়া মেলোনি সিলেটে একদিনে হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু নাটোরে বলাৎকার মামলায় ২ জন কারাগারে ডলার স্থিতিশীল, বেড়েছে ইউরো ও পাউন্ডের দাম চাঁদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত ১৯৭৮ সালে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাবা, ৪৮ বছর পর একই মাঠে প্রধানমন্ত্রী ছেলে লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় ভাঙচুর সিলেটে বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন চা শ্রমিকরা ‘সমর্থকরা আর্জেন্টিনার এই দলকে নিয়ে পাগল’, ইতিহাস গড়ার পর মেসি সিলেট পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ইরানি কৌশলেই উপসাগর থেকে গোপনে তেল সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ইতিহাস বদলানোর হুঙ্কার টমাস টুখেলের ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজারবাসী রংপুরে আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান ভুট্টু গ্রেপ্তার আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস কচুয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতির হুমকি, ‘সাংবাদিকতা ছুটিয়ে দেব’ ৬০ বছরের অপেক্ষা বনাম ক্রোয়াট ধারাবাহিকতা নওগাঁ সীমান্তে স্থানীয়দের হাতে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তি
Nagad desktop

গাছের ভাষা বুঝতে পারে নতুন এআই মডেল

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:০৬ এএম
গাছের ভাষা বুঝতে পারে নতুন এআই মডেল
এআই মডেল গাছের জেনেটিক ভাষা বুঝতে সক্ষম হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(এআই) মডেল গাছের জেনেটিক ভাষা বুঝতে সক্ষম হয়েছে। ‘প্ল্যান্ট আরএনএ-এফএম (Plant RNA-FM)’ নামের এই মডেল উদ্ভিদের রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ) ডেটা ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত হয়েছে। 

গবেষকরা জানান, এই মডেল উদ্ভিদের আরএনএ ডেটা বিশ্লেষণ করে গাছের কোষের মধ্যে থাকা জেনেটিক ভাষার লজিক ও গঠন বোঝার সক্ষমতা অর্জন করেছে। আরএনএ হলো একটি বড় আণবিক উপাদান, যা জীব ও ভাইরাসে পাওয়া যায়। এর সঙ্গে ডিএনএ-এর মিল রয়েছে। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কোষগুলো একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে আরএনএ ব্যবহার করে, যা গাছের বৃদ্ধি ও গঠন নির্ধারণে সাহায্য করে।

মডেলটি বিশ্বজুড়ে ১ হাজার ১২৪ প্রজাতির উদ্ভিদের ‘জেনেটিক অ্যালফাবেট বা জিনগত বর্ণমালা’ গঠনে ৫৪ বিলিয়ন টুকরা আরএনএ-এর একটি ডেটা সেট ব্যবহার করেছে। মডেলটির প্রশিক্ষকরা বলছেন, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি মানুষের ভাষায় সাড়া দেওয়ার মতো করে আরএনএ-এর ব্যাকরণ ও যুক্তি বুঝতে শিখেছে। ইংল্যান্ডের জন ইনেস সেন্টারের পোস্ট ডক্টরাল গবেষক ড. হাওপেং ইউ জানান, ‘মানব চোখে আরএনএ-এর ক্রম এলোমেলো মনে হতে পারে, তবে আমাদের এআই মডেল এই লুকানো বিন্যাসগুলোকে ডিকোড করতে শিখেছে।’

গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি ‘নেচার মেশিন ইন্টেলিজেন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটার, চীনের নর্থইস্ট নরমাল ইউনিভার্সিটি ও চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষকরাও অংশ নিয়েছেন।

গবেষকরা মনে করছেন, এই মডেল উদ্ভিদের বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও কৃষিব্যবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এআইয়ের সাহায্যে গাছের ভেতরের লুকায়িত ভাষা বোঝার এই নতুন ধারা কৃষিক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। উদ্ভিদের আরএনএ-এর কার্যকারিতা সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে ও গঠন শনাক্ত করতে গবেষকরা নতুন এআই মডেল ব্যবহার করেছেন। এই মডেল উদ্ভিদের কোষের আরএনএ-তে থাকা জটিল কাঠামোগত বিন্যাস বিশ্লেষণ করে। এসব বিন্যাস উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও চাপসহ বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

জন ইনেস সেন্টার জানিয়েছে, মডেলটির পূর্বাভাস পরীক্ষামূলকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। আরএনএ-এর যে জটিল গঠন মডেলটি চিহ্নিত করেছে, সেগুলো প্রোটিন তৈরি প্রক্রিয়াকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।

গবেষক দলের নেতৃত্বদানকারী অধ্যাপক ইলিয়াং ডিং বলেন, ‘এই সাফল্য উদ্ভিদ সম্পর্কে গভীরভাবে বুঝতে ও এগুলোকে প্রোগ্রাম করার নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। এটি উন্নতমানের শস্য ও পরবর্তী প্রজন্মের এআই-ভিত্তিক জিন নকশায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।’

প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চান মোশাহিদ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চান মোশাহিদ
ছবি: মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিশাপাট গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি ছিল তার তীব্র ঝোঁক। পড়াশোনার পাশাপাশি অব্যবহৃত জিনিসপত্র দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা ছিল তার নেশা। 

মোশাহিদ যখন দশম শ্রেণিতে পড়তেন তখন তার দাদার পুরানো নষ্ট ডিভিডি ভেঙে তার ড্রাইভ ব্যবহার করে মিনি সিএনসি প্লটার মেশিন তৈরি করেছিলেন। এটাই ছিল তার তৈরি করা প্রথম প্রজেক্ট। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি মোশাহিদকে।

২০১৯ সালে হবিগঞ্জের জেকে অ্যান্ড এইচ কে হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২১ সালে শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ১০০ শতাংশ স্কলারশিপ পেয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন।

এই ইউনিভাসিটির উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা বিভাগ থেকে ২০২৬ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি মোশাহিদ নাসা (জিএলইই) মিশন প্রজেক্টের টিম বাংলাদেশের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন।

এ ছাড়াও সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রজেক্টেও কাজ করেছেন।

হবিগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান চর্চায় আকৃষ্ট করতে উদ্ভাবনে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে কাজ করছেন মোশাহিদ। তাই ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ১১ জন সমমনা বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব’।

এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘শায়েস্তাগঞ্জ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট’, প্রযুক্তিপণ্য বিক্রির প্ল্যাটফর্ম ‘রোবটিক্স শপ বিডি’, প্রশিক্ষণের জন্য ‘রোবটিক্স একাডেমি’ এবং তরুণদের ভাবনা তুলে ধরার জন্য ‘দৈনিক দুর্বার’ দৈনিক যুবকণ্ঠ ও ‘অদম্য ম্যাগাজিন’-এর মতো অনলাইন গণমাধ্যম। তার এই প্রতিটি উদ্যোগই একটি আরেকটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।

তার এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মোশাহিদ মজুমদার পেয়েছেন ‘জাতীয় ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’। এই অ্যাওয়ার্ড দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ যুব সম্মাননা।

মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিজ্ঞান আমার ধ্যানে জ্ঞানে। বিজ্ঞান নিয়ে উদ্ভাবন আমি সবসময় স্বপ্ন ছিল নিজের অঞ্চলের জন্য ও দেশের জন্য ভিন্ন কিছু করার। তাই আমি আমার গবেষণা ও উদ্ভাবন কোনো একক প্রজেক্ট বা একাডেমিক গবেষণাপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখিনি। আমার মূল উদ্ভাবন হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম তৈরি করা, যা হবিগঞ্জ তথা বাংলাদেশের হাজারো তরুণকে বিজ্ঞান গবেষণা ও উদ্ভাবনে সরাসরি সম্পৃক্ত করবে।’

বিজ্ঞানমেলা অংশগ্রহণের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে নিজের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন উল্লেখ করে মোশাহিদ বলেন, ‘স্কুলজীবন থেকে আমি বিজ্ঞানমেলায় অংশগ্রহণ করি। আমি দেখলাম বিজ্ঞানমেলা এলেই কেবল স্কুলগুলোতে নামমাত্র অংশগ্রহণের জন্য তাড়াহুড়ো শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ইউটিউব থেকে ধারণা নকল করে কোনোমতে একটি প্রজেক্ট দাঁড় করায়। মেলার পর সেই চর্চার আর কোনো ধারাবাহিকতা থাকে না। আমি চিন্তা করলাম এমন একটি স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সারা বছর বিজ্ঞান নিয়ে ভাবতে পারবে, গবেষণা করতে পারবে।’

এই ভাবনা থেকেই মোশাহিদ ২০১৯ সালে ১১ জন সমমনা বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব’।

সংগঠনটি শুরুর দিকের প্রতিকূলতা, সামাজিক ও পারিবারিক সংশয় থাকলেও কোনো কিছুই দমাতে পারেনি মোশাহিদ ও তার দলকে। তাদের নিরলস পরিশ্রমে ক্লাবটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১১ জন সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা করা এই ক্লাব আজ ২৭ হাজারের বিশাল পরিবার। এই ক্লাবের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে হবিগঞ্জসহ দেশের ২৩৩টিরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

মোশাহিদ গর্বের সঙ্গে বলেন, এই বিজ্ঞান ক্লাবের হাত ধরেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বারবার উচ্চারিত হয়েছে আমার জেলা হবিগঞ্জের নাম। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের অধীনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ২৭ বারেরও বেশি বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে আমাদের ক্লাবটি। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বারবার প্রথম হয়ে ক্লাবের সদস্যরা প্রমাণ করেছে, সুযোগ পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণরাও ইতিহাস গড়তে পারে।

তিনি বলেন, আমি শুধু ক্লাব নয়, শিক্ষার্থীরা রোবটিক্স, প্রোগ্রামিং, ইলেকট্রনিক্স এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল বিষয়ে হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জন করছে। ক্লাবের সদস্যরা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে।

উদ্ভাবনী বাংলাদেশ তৈরিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার বলেন, আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইনোভেশন কালচার বা উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা চাই,বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে আমাদের আজকের এই কনিষ্ঠ বিজ্ঞানীরা। 

শাকিলা ববি/খাদিজা রুমি/

চীনে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তিতে রকেট ট্যাংক ডোমের উৎপাদনে সাফল্য

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
চীনে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তিতে রকেট ট্যাংক ডোমের উৎপাদনে সাফল্য
অ্যালুমিনিয়াম ক্রায়োজেনিক ফর্মিং প্রযুক্তি তৈরি করেছে চীন।

চীনের একটি গবেষণা দল অত্যাধুনিক ক্রায়োজেনিক বা অতিশীতল ফর্মিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকেটের প্রপেল্যান্ট ট্যাংকের গম্বুজ অংশের বড় আকারের উৎপাদন সফলভাবে শুরু করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন সময় ৯০ শতাংশেরও বেশি কমেছে, যা মহাকাশ শিল্পে একটি বড় অগ্রগতি।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছে তালিয়ান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কারিগরি প্রকৌশল স্কুল। তারা বিশ্বের প্রথম বড় আকারের ক্রায়োজেনিক ফর্মিং প্রেস তৈরি করেছে, যা দুই মিটারের বেশি ব্যাসের অ্যালুমিনিয়াম সংকর ধাতুর একখণ্ড রকেট ট্যাংক ডোম তৈরিতে সক্ষম।
একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে বর্তমানে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বছরে প্রায় ১,০০০টি ট্যাংক ডোম উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে চীনের।
তালিয়ান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কারিগরি প্রকৌশল স্কুলের গবেষক ফান সিয়াওবো বলেন, ‘ক্রায়োজেনিক ফর্মিং-এর মূল চাবিকাঠি হলো বড় প্লেটগুলোকে ক্রায়োজেনিক জোনে শীতল করা। সরঞ্জামটি বড় আয়তনের তরল নাইট্রোজেনের দ্রুত পরিবহন ও সুনির্দিষ্ট তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেছে। একইসঙ্গে তাপমাত্রা, চাপসহ একাধিক প্যারামিটারের সমন্বিত লোডিং নিয়ন্ত্রণও সম্ভব করেছে। এটি মাইনাস ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তরল নাইট্রোজেন নিয়ন্ত্রণ, শীতলীকরণ এবং বড় যন্ত্রাংশের স্থিতিশীল উৎপাদন সম্ভব করেছে।’
এই প্রযুক্তির মূল বিষয় হলো বৃহৎ ধাতব পাতকে অতি নিম্ন তাপমাত্রায় নিয়ন্ত্রিতভাবে শীতল করা। ফলে আগে যেখানে একটি ট্যাংক ডোম তৈরি করতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগত, সেখানে এখন তা মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
সাধারণভাবে ধাতু অত্যন্ত ঠান্ডায় ভঙ্গুর হয়ে যায়। কিন্তু এই গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট অবস্থায় অ্যালুমিনিয়াম সংকর ধাতু ক্রায়োজেনিক তাপমাত্রায় আরও নমনীয় ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এই বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করেই দলটি প্রথমবারের মতো অ্যালুমিনিয়াম ক্রায়োজেনিক ফর্মিং প্রযুক্তি তৈরি করেছে।
এই প্রযুক্তিতে মাত্র ৪ মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়াম পাত থেকে এক ধাপে সম্পূর্ণ ট্যাংক ডোম তৈরি করা যায়। উৎপাদিত অংশে পুরুত্বের বিচ্যুতি ০.৩ মিলিমিটারেরও কম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অংশগুলো তৈরি হওয়ার পর আর কোনো ওয়েল্ডিং বা মিলিংয়ের প্রয়োজন হয় না। ফলে কাঠামো হয় আরও শক্তিশালী, হালকা এবং নির্ভরযোগ্য।
এই প্রযুক্তিতে তৈরি ট্যাংক ডোম ইতোমধ্যে চীনের লং মার্চ ১২ ও লং মার্চ ৭-এ রকেটের সফল মিশনে ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণা দলের প্রধান ছি ছাং বলেন, এই প্রযুক্তিতে এমন  ট্যাঙ্ক ডোম তৈরি সম্ভব, যা পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এটি বিমান, মানববিহীন ব্যবস্থা, নতুন শক্তিচালিত যানবাহন এবং উচ্চগতির রেল শিল্পেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই প্রযুক্তি শুধু মহাকাশ শিল্প নয়, বরং উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সূত্র: সিএমজি

লুপাস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য, জিন থেরাপিতে সুস্থ ৫ রোগী

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
লুপাস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য, জিন থেরাপিতে সুস্থ ৫ রোগী
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হাসপাতালে কার টি-সেল থেরাপির এনএইচএস ট্রায়ালের পর যে রোগীদের মারাত্মক লুপাস রোগ সেরে গিয়েছিল (রেমিশনে গিয়েছিল), কেটি টিঙ্কলার ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। ছবি: লুসি নর্থ/পিএ

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য এসেছে। একটি অভিনব জিন থেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে তীব্র লুপাস রোগে আক্রান্ত পাঁচজন রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ (রেমিশন) হয়ে উঠেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই চিকিৎসা পদ্ধতি লুপাস রোগীদের চিরতরে আরোগ্য লাভের পথ দেখাতে পারে।

লুপাস একটি দীর্ঘমেয়াদি অটোইমিউন রোগ। এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম উল্টো নিজের সুস্থ টিস্যু ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করে। এর ফলে কিডনি, ফুসফুস ও হার্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে তীব্র প্রদাহ ও ক্ষতি তৈরি হয়। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। এদের বেশির ভাগই নারী।

এই গবেষণায় রোগীদের শরীর থেকে টি-সেল বা টি লিম্ফোসাইট নামের এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা বের করে নেওয়া হয়। এই কোষগুলো সাধারণত শরীরে সংক্রমিত বা ক্ষতিগ্রস্ত কোষ খুঁজে বের করে ধ্বংস করে। চিকিৎসকরা ল্যাবরেটরিতে এই কোষগুলোকে জিনগতভাবে পরিবর্তন বা মডিফাই করেন, যাতে তারা রোগটিকে চিনে ধ্বংস করতে পারে। পরে ইনফিউশনের মাধ্যমে এই পরিবর্তিত কোষগুলো আবার রোগীর শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এটি রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নতুন করে সেট বা ‘রিসেট’ করে।

এই পদ্ধতিটির নাম ‘কার (সিএআর) টি-সেল থেরাপি’। এটি ইতোমধ্যে ক্যানসার চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এবার লন্ডনের চিকিৎসকরা তীব্র লুপাসে আক্রান্ত ১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী পাঁচজন এনএইচএস রোগীর ওপর এটি সফলভাবে প্রয়োগ করেছেন। চিকিৎসকরা জানান, এই থেরাপি রোগীদের মাত্র একবারই নিতে হয়। এটি সফল হলে লুপাসের চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন আসবে ও রোগীদের আজীবন ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন থাকবে না।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট (ইউসিএলএইচ) এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) যৌথ পরিচালনায় এই এনএইচএস ট্রায়াল বা পরীক্ষাটি চালানো হয়। এতে তীব্র লুপাসে আক্রান্ত মোট নয়জন রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তারা এর আগে কোনো চিকিৎসায় সুস্থ হচ্ছিলেন না। তাদের বেশির ভাগেরই ‘লুপাস নেফ্রাইটিস’ ছিল, যা কিডনির একটি মারাত্মক জটিলতা।

পরীক্ষায় ছয়জন রোগীকে কার-টি থেরাপির কম ডোজ ও তিনজনকে বেশি ডোজ দেওয়া হয়। কম ডোজ পাওয়া রোগীদের গড়ে ১১ মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। বেশি ডোজ পাওয়া তিনজনকে এখন পর্যন্ত মাত্র তিন মাস পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা আশা করছেন, তারাও সুস্থ হয়ে উঠবেন। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, রোগীদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয়েছে ও লুপাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কিডনির কার্যকারিতা স্থিতিশীল বা উন্নত হয়েছে।

ইউসিএলএইচের (ইউসিএলএইচ) বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক কার্ল পেগস বলেন, ‘এই ফলাফলগুলো সত্যিই যুগান্তকারী ও লুপাস নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষদের জন্য নতুন আশা জোগাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদিও আরও গবেষণার প্রয়োজন, তবে কার টি-সেল থেরাপি যে ইমিউন সিস্টেম রিসেট করতে পারে এবং রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি অটোইমিউন রোগের চক্র থেকে মুক্ত করতে পারে, তা একটি অসাধারণ অগ্রগতি। যদি বড় পরিসরের গবেষণায় এই ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত হয়, তবে লুপাস নিরাময়ের সম্ভাবনা আর অধরা থাকবে না।’

এই চিকিৎসায় সুস্থ হওয়া ৫২ বছর বয়সী কেটি টিঙ্কলার ৩১ বছর ধরে এই রোগে ভুগছিলেন। ২০ বছর বয়স থেকে তীব্র লুপাসের কারণে তিনি ফিটনেস ইনস্ট্রাক্টরের চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। এই রোগের কারণে তার জয়েন্টগুলো ফুলে যেত এবং প্রচণ্ড ব্যথা হতো। তার কিডনি, ফুসফুস ও হার্টের ক্ষতি হয়েছিল এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে তিনি সেপসিস ও মাল্টি-অর্গান ফেইলিউরের শিকার হন এবং তাকে ইনটেনসিভ কেয়ারে কোমায় রাখা হয়েছিল।

এখন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা সারে-র গিল্ডফোর্ডের বাসিন্দা কেটি বলেন, ‘আগের জীবন এবং এখনের জীবনের কথা ভাবলে মনে হয় দিন আর রাত।’ তিনি আরও বলেন, ‘লুপাসের কারণে আমার পুরো শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জয়েন্টগুলোতে এত ব্যথা ছিল যে, মাঝেমাঝে আমি হাঁটতে পারতাম না। হাত দিয়ে মগ তুলে নিতে পারতাম না। আমার কিডনি, হার্ট ও ফুসফুস—সবই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু এখন আমার আর এই সমস্যাগুলো নেই। এটি আমার জন্য একটি অলৌকিক ঘটনা। দুই বছর আগের জীবন আর এখনের জীবনের মধ্যে কোনো মিল নেই। নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’
তিন দশকেরও বেশি সময় পর কেটি এখন লুপাসের প্রধান লক্ষণগুলো থেকে মুক্ত। তিনি গত এক দশকের মধ্যে এই প্রথম স্কিইং করতে পেরেছেন এবং নিজের মেয়ের বিয়েতে নাচতেও পেরেছেন।

উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:১২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক
ছবি সিএমজি


চীনের নিম্ন-আকাশ অর্থনীতি খাতে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেশটির প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং ইভিটিওএল উড়োজাহাজের ইঞ্জিন উৎপাদন লাইনে এসেছে। শুক্রবার পূর্ব চীনের চিয়াংসু প্রদেশের উসি শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইঞ্জিন সরবরাহ করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অ্যারো ইঞ্জিন করপোরেশন অব চায়না এর অ্যারোইঞ্জিন কন্ট্রোল সিস্টেম ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এইই২৫ নামের এই বৈদ্যুতিক বিমান ইঞ্জিনটি টর্ক ঘনত্বের ক্ষেত্রে দেশের নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি টর্ক ঘনত্বের ফলে ইঞ্জিনের ওজন কম হয় এবং উড়োজাহাজে বেশি যাত্রী বা পণ্য বহন করা সম্ভব হয়। 
এইই২৫ ইঞ্জিনটি বিমানের ব্যাটারিতে সঞ্চিত বৈদ্যুতিক শক্তিকে রোটর সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় উত্তোলন শক্তি  ও থ্রাস্টে রূপান্তর করে।  
ইঞ্জিনটিতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—মূল মোটর ও এর কন্ট্রোলার, কুলিং সিস্টেমের মোটর ও কন্ট্রোলার, এবং ভ্যারিয়েবল-পিচ অ্যাকচুয়েটর ও কন্ট্রোলার—একীভূত করা হয়েছে। এর ফলে বিমান নির্মাতারা সহজে ইঞ্জিনটি স্থাপন করে সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাফল্য চীনের বৈদ্যুতিক বিমান ও নগর আকাশ পরিবহন প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

সূত্র: সিএমজি

মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের একজন প্যারালিম্পিয়ান ও সার্জন বিশ্বের প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশে গিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ছোট বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনে থাকার বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইসা) নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল গত বছর মহাকাশে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তাবিত ‘হেভেন-১’ মহাকাশ স্টেশনে তিনি একটি অভিযানে অংশ নিতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ভাস্ট’ এই হেভেন-১ স্টেশনটি তৈরি করছে। একটি একতলা বাসের চেয়ে কিছুটা ছোট এই স্টেশনে চারজন নভোচারী থাকতে পারবেন। এর ভেতরে রয়েছে ম্যাপল কাঠের আস্তরণ, পৃথিবী দেখার জন্য একটি বড় জানালা এবং একটি গবেষণাগার।

ম্যাকফল বলেন, এটি একটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর সুযোগ। দুই সপ্তাহের এই অভিযানে মহাকাশের পরিবেশ তার শরীরে কেমন প্রভাব ফেলে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রস্থেটিক লিম্বসের ওপর মহাকাশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গগুলো সাধারণত সেন্সর এবং মাইক্রোপ্রসেসরের সাহায্যে কাজ করে।

ম্যাকফলের এই গবেষণাটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বড় সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। এটি হালকা এবং সহজে মানিয়ে নেওয়া যায় এমন কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির নকশায় সাহায্য করবে। এছাড়া হাড়ের ক্ষয় ও পেশি কমে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যাগুলো বুঝতে এটি অবদান রাখবে। অঙ্গ হারানোদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে এই গবেষণা পথ দেখাবে।

বিজ্ঞানের লক্ষ্য ছাড়াও ম্যাকফল মনে করেন এই অভিযান প্রতিবন্ধী মানুষের কাজের পরিধি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে। তিনি বলেন, আমরা দেখাতে চাই যে, শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও নভোচারী হতে পারেন। আমরা প্রমাণ করেছি যে, এটি সম্ভব এবং সুযোগ দিলে তারাও সমান পারদর্শী।

ইউকে স্পেস এজেন্সি এই অভিযানের জন্য তহবিল সংগ্রহে ভাস্টকে সহায়তা করবে। ম্যাকফল ও অন্য নভোচারীরা স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে হেভেন-১ স্টেশনে যাবেন। এছাড়া আগামী বছর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ভাস্টের একটি ব্যক্তিগত অভিযানে অংশ নেওয়ার বিকল্প সুযোগও তার রয়েছে।

৪৫ বছর বয়সী ম্যাকফল ১৯ বছর বয়সে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার ডান পা হারান। হাসপাতাল ছাড়ার পর তিনি খেলাধুলায় মনোযোগ দেন এবং ২০০৮ সালের বেইজিং প্যারালিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। পরে তিনি একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২২ সালে তিনি ইসার ‘ফ্লাই’ প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হন।

ম্যাকফল বলেন, একজন ভালো নভোচারী হওয়া এবং নিজের কাজ সঠিকভাবে করা আমার মূল অগ্রাধিকার। আমি এটিকে কোনো প্রচারণার অংশ বানাতে চাই না। আমি একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে নতুন কিছু করতে পেরে আনন্দিত। তবে সবার আগে আমি এমন কাজ করতে চাই যা মহাকাশ বিজ্ঞান এবং পৃথিবীর সমাজ উভয়ের জন্য মূল্যবান হয়।

এই অভিযান সফল হলে ২০১৬ সালের পর ম্যাকফল হবেন মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক। তার এই যাত্রাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/আবরার জাহিন