বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের তিন শতাব্দীরও বেশি আগে লেখা এক চিঠিতে পৃথিবীর ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। নিউটনের মতে, ২০৬০ সালে পৃথিবী ধ্বংস হতে পারে।
মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্বের জনক আইজ্যাক নিউটন ১৭০৪ সালে লেখা এক চিঠিতে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ২০৬০ সালে পৃথিবীর অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাবে। তবে তিনি ‘শেষ’ শব্দের পরিবর্তে ‘রিসেট’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, যিশুখ্রিষ্ট ও সাধুরা পৃথিবীতে এক হাজার বছরের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ফিরে আসবেন।
নিউটন কেবল বিজ্ঞানের জন্য বিখ্যাত নন, তিনি ধর্মতত্ত্ব নিয়েও গবেষণা করেছিলেন। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব কিংস কলেজের অধ্যাপক স্টিফেন ডি. স্নোবেলেনের মতে, নিউটন বাইবেলের ‘বুক অব ড্যানিয়েল’-এ উল্লিখিত তারিখগুলো ব্যবহার করে এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।
চিঠিতে নিউটন লেখেন, ‘তিন বছর ছয় মাস সময়কাল ৪২ মাস বা ১ হাজার ২৬০ দিন সমান, যদি প্রতি মাসকে ৩০ দিন ধরে গণনা করা হয়, যেমনটি প্রাচীন ক্যালেন্ডারে করা হতো।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘স্বল্পস্থায়ী সাম্রাজ্যের দিনগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী রাজত্বের বছর ধরে গণনা করলে, ১ হাজার ২৬০ দিনের সময়কাল ৮০০ খ্রিষ্টাব্দে তিনটি রাজার সম্পূর্ণ বিজয় থেকে গণনা করা হয়, তবে ২০৬০ খ্রিষ্টাব্দে পৃথিবী শেষ হবে।
নিউটন বলেন, ‘এটি হয়তো আরও পরে শেষ হতে পারে। তবে এর আগে শেষ হওয়ার কোনো কারণ দেখি না।’ অধ্যাপক স্নোবেলেনের মতে, নিউটন একজন বিজ্ঞানী নন, বরং একজন ‘ন্যাচারাল ফিলোসোফার বা প্রাকৃতিক দার্শনিক’ ছিলেন।
নিউটনের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্বারোপ করে স্নোবেলেন বলেন, ‘নিউটনের কাছে ধর্ম ও বিজ্ঞান আলাদা কিছু ছিল না। বরং তিনি বিশ্বাস করতেন যে প্রকৃতির গবেষণা ঈশ্বরের অস্তিত্ব ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের একটি মাধ্যম।’
‘Isaac-Newton.org’ ওয়েবসাইটে ‘স্টেটমেন্ট অন দ্য ডেট ২০৬০’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে স্নোবেলেন বলেছেন, ‘নিউটনের কাছে ধর্ম এবং আমরা এখন যাকে বিজ্ঞান বলি তার মধ্যে কোনো অভেদ্য বাধা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, ইংরেজ পলিম্যাথ বিশ্বাস করতেন যে বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীর ব্যাখ্যা কোনো উদাসীনতার বিষয় নয়, বরং এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।
নিউটনের এই গণনা মূলত ধর্মীয় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে। যদিও তিনি বিজ্ঞানের অন্যতম পথপ্রদর্শক, তার এই ভবিষ্যদ্বাণী ধর্মীয় ব্যাখ্যার সঙ্গে জড়িত। তাই এটি আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিচার করা সম্ভব নয়।
তবে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানীর এই দৃষ্টিভঙ্গি তার চিন্তার বহুমুখিতা ও গভীর অনুসন্ধিৎসার পরিচয় বহন করে। তার গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল, যা আজও মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করছে।


