উলি ম্যামথ এক সময় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বরফাচ্ছন্ন তুন্দ্রা অঞ্চলে বিচরণ করত। প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বছর ধরে টিকে থাকা এই প্রাণী প্লাইস্টোসিন যুগের শেষভাগে প্রায় ১০ হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
উলি ম্যামথ সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণা, তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট, কারণ এদের দেহাবশেষ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জীবাশ্মে পরিণত না হয়ে বরফে সংরক্ষিত ছিল। ফলে এই বিশালকায় স্তন্যপায়ী প্রাণীর গঠন ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে গবেষণা করা সহজ হয়েছে।
শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য
পুরুষ উলি ম্যামথের উচ্চতা ছিল প্রায় ১২ ফুট (৩.৫ মিটার), আর স্ত্রী ম্যামথ ছিল সামান্য ছোট। এদের লম্বা, বাঁকানো দাঁত প্রায় ১৬ ফুট (৫ মিটার) পর্যন্ত লম্বা ছিল। এদের পেটের নিচের অংশে ৩ ফুট (১ মিটার) পর্যন্ত লম্বা লোমশ চুলের একটি আস্তরণ থাকত, যা তীব্র ঠাণ্ডা থেকে সুরক্ষা দিত। এদের ছোট কান ও খাটো লেজ শরীরের তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করত। শুঁড়ের মাথায় দুটি আঙুলের মতো অংশ ছিল, যা ঘাস, শাখা-প্রশাখা ও অন্যান্য উদ্ভিদ সংগ্রহে ব্যবহৃত হতো।
নামকরণ ও বিবর্তন
‘ম্যামথ’ শব্দটি রাশিয়ান শব্দ ‘মামুট’ বা ‘আর্থ মোল’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘মাটির তলদেশের প্রাণী’। অতীতে অনেকেই মনে করত, এই প্রাণীগুলো মাটির নিচে বাস করত এবং সূর্যের আলোতে আসার পর মারা যেত। এ কারণে তাদের সর্বদা মৃত ও অর্ধেক চাপা অবস্থায় পাওয়া যেত।
প্রথমদিকে উলি ম্যামথের কঙ্কালকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কোনো দানব জাতির অবশেষ বলে মনে করা হতো। তবে আধুনিক গবেষণায় জানা গেছে, উলি ম্যামথ এবং বর্তমান সময়ের হাতির মধ্যে ৯৯.৪ শতাংশ জিনগত মিল রয়েছে। হাতি ও উলি ম্যামথের বিবর্তনীয় পথ আলাদা হয়ে যায় প্রায় ৬০ লাখ বছর আগে, একই সময় যখন মানুষ ও শিম্পাঞ্জির বিবর্তন পৃথক হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, উলি ম্যামথ আদিম মানুষের সঙ্গে সহাবস্থান করত। শুধু খাদ্য হিসেবে নয়, এদের হাড় ও দাঁত অস্ত্র ও শিল্পকর্ম তৈরিতে ব্যবহৃত হতো।


