মহাকাশে ভেসে আছে আলোকোজ্জ্বল এক রহস্যময় হাত। একটি বিশাল নক্ষত্রের সুপারনোভা বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হয়েছে এই হাত-আকৃতির নীহারিকা (নেবুলা)। ‘এমএসএইচ ১৫-৫২’ (MSH 15-52) নামের এই নীহারিকার একটি নতুন রঙিন ছবি তৈরি হয়েছে নাসার চন্দ্রা এক্স-রে অবজারভেটরি ও অস্ট্রেলিয়া টেলিস্কোপ কমপ্যাক্ট অ্যারে (এটিসিএ) থেকে পাওয়া রেডিও ডেটা থেকে।
এই নীহারিকার কেন্দ্রে রয়েছে ‘বি১৫০৯-৫৮’ (B1509-58) নামের একটি পালসার, যা মূলত একটি দ্রুত ঘূর্ণায়মান নিউট্রন নক্ষত্র। এর ব্যাস মাত্র ২০ কিলোমিটারের মতো হলেও এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় সাতবার ঘোরে। এর চৌম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীর চেয়ে ১৫ ট্রিলিয়ন গুণ বেশি শক্তিশালী। এই পালসার থেকে প্রচণ্ড শক্তিশালী কণা ও বায়ু নির্গত হয়ে নীহারিকাটিকে হাতের মতো আকৃতি দিয়েছে। প্রায় ১৫০ আলোকবর্ষজুড়ে বিস্তৃত এই নীহারিকা দেখতে যেন মানুষের হাত প্রসারিত হয়ে আছে সুপারনোভা ‘আরসিডব্লিউ ৮৯’-এর ধ্বংসাবশেষের দিকে, যা থেকে পালসারের জন্ম।
নতুন ছবিতে নীহারিকাটির বিভিন্ন অংশকে ভিন্ন ভিন্ন রঙে দেখানো হয়েছে। নীল ও হলুদ রঙে চন্দ্রা এক্স-রে এবং লাল রঙে এটিসিএ-এর রেডিও তরঙ্গ দেখা যাচ্ছে। ছবিতে লাল রং রেডিও তরঙ্গকে, নীল-কমলা-হলুদ এক্স-রেকে এবং সোনালি অংশ হাইড্রোজেন গ্যাসকে নির্দেশ করছে। যেখানে রেডিও আর এক্স-রে মিলেছে, সেখানে বেগুনি রং ফুটে উঠেছে, যা পালসার বাতাসের সংঘর্ষের এলাকা নির্দেশ করে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এক্স-রে অংশে দেখা যায় উজ্জ্বল ‘আঙুল’ আর জেটের মতো গঠন, যার রেডিও প্রতিরূপ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো পালসারের চৌম্বক ক্ষেত্র বরাবর বেরিয়ে আসা শক্তিশালী কণার ধারা।
আবার কাছাকাছি থাকা আরেকটি সুপারনোভার ‘আরসিডব্লিউ ৮৯’-এর ধ্বংসাবশেষের অমসৃণ আলো ইঙ্গিত দিচ্ছে হাইড্রোজেন মেঘের সঙ্গে সংঘর্ষের। তবে কিছু রহস্য এখনো অমীমাংসিত। বিস্ফোরণ তরঙ্গের সীমারেখা এক্স-রেতে স্পষ্ট হলেও রেডিও তরঙ্গে অনুপস্থিত, যা নতুন সুপারনোভা অবশিষ্টাংশের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক।
গবেষকরা বলছেন, এ আবিষ্কার পালসার ও সুপারনোভা ধ্বংসাবশেষের সম্পর্ক বোঝার নতুন দিগন্ত খুলে দিলেও অনেক প্রশ্ন এখনো অজানা। পালসার এবং সুপারনোভার ধ্বংসাবশেষ কীভাবে এমন বিস্ময়কর মহাজাগতিক কাঠামো তৈরি করে, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে ভবিষ্যতে আরও গবেষণার প্রয়োজন। এই গবেষণা ২০ আগস্ট ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়েছে।


