নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন এখন প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বাসে, ট্রেনে বা জনাকীর্ণ স্থানে বাইরের কোলাহল এড়িয়ে গান শোনার জন্য এটি অনেকের প্রথম পছন্দ। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদি ও অতিরিক্ত ব্যবহার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক শ্রবণ প্রক্রিয়ায় বিরূপ পরিবর্তন আনতে পারে।
নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন মূলত বাইরের শব্দকে শনাক্ত করে এবং তার বিপরীতে একটি ‘উল্টো তরঙ্গ’ তৈরি করে শব্দকে ঠেকিয়ে দেয়। এতে ব্যবহারকারী খুব স্বচ্ছ অডিও শুনতে পান। যেহেতু বাইরের শব্দ কম থাকে, তাই ভলিউম খুব বেশি বাড়ানোর প্রয়োজন হয় না। এটি কানের সুরক্ষায় সহায়ক মনে হতে পারে। এই সুবিধার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের এই হেডফোন ব্যবহারে উৎসাহিত করেন।
তবে আপাতদৃষ্টিতে সুবিধাজনক মনে হলেও এর একটি অন্ধকার দিক রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ‘অডিটরি প্রসেসিং ডিজঅর্ডার’ (এপিডি) নামের একটি সমস্যা বাড়ছে। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা ভিড় বা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে অন্যের কথা বা শব্দ স্পষ্টভাবে আলাদা করতে বা বুঝতে পারেন না।
গবেষকদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিকশিত হয়। এটি অনেকটা শরীরের মাংসপেশির মতো। যেমন- প্রতিদিন দীর্ঘ পথ সাইকেল চালালে পায়ের পেশি শক্তিশালী হয়, তবে হাতের পেশি অতটা গঠিত হয় না। ঠিক তেমনি, মস্তিষ্ক যখন কেবল শব্দরোধী হেডফোনের ‘পরিশোধিত অডিও’ শুনতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন কোলাহলের ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় শব্দ বাছাই করার স্বাভাবিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। দিনের পর দিন কৃত্রিম নিস্তব্ধতায় থাকার ফলে মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার অংশটি সঠিকভাবে বিন্যস্ত হতে পারে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিডিও দেখার সময় সাবটাইটেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ও হেডফোনের অতিমাত্রার নির্ভরতা মস্তিষ্কের এই বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। অডিটরি থেরাপির মাধ্যমে মস্তিষ্ককে পুনরায় প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হলেও সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো প্রযুক্তির পরিমিত ব্যবহার। বাইরের জগতের স্বাভাবিক শব্দ শোনা ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে হেডফোনের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।


