যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো এক মৃত দাতার দান করা জরায়ু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে একটি সুস্থ ছেলেশিশু জন্ম নিয়েছে। লন্ডনের কুইন শার্লটস অ্যান্ড চেলসি হাসপাতালে হুগো পাওয়েল নামের এই শিশুর জন্ম হয়। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল ৩ দশমিক শূন্য ৯ কেজি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে একে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিশুটির মা গ্রেস বেল পেশায় একজন আইটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার। তিনি ‘মেয়ার-রোকিটানস্কি-কাস্টার-হাউসার’ (এমআরকেএইচ) সিনড্রোম নামের একটি বিরল জন্মগত সমস্যায় ভুগছিলেন। এই সমস্যার কারণে নারীদের জরায়ু গঠিত হয় না অথবা সেটি অপরিণত অবস্থায় থাকে। গ্রেস কিশোর বয়সে জানতে পেরেছিলেন যে তিনি কোনোদিন মা হতে পারবেন না। তবে ২০২৪ সালে এক মৃত দাতার জরায়ু প্রতিস্থাপনের পর ডিসেম্বরে তিনি সন্তানের জন্ম দেন। গ্রেস এই ঘটনাকে একটি ‘অলৌকিক’ বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গ্রেস তার দাতার পরিবারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার দাতা এবং তার পরিবারের প্রতি ধন্যবাদ জানানোর ভাষা আমার নেই। একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের প্রতি তাদের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ আজ আমার মা হওয়ার আজন্ম স্বপ্ন পূরণ করেছে।’ ওই দাতার জরায়ু ছাড়াও আরও পাঁচটি অঙ্গ অন্য চারজন ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যা তাদের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে।
দাতার বাবা-মা জানিয়েছেন, কন্যাসন্তানকে হারিয়ে তাদের পৃথিবী থমকে গেলেও অঙ্গদানের মাধ্যমে তিনি যে অন্যদের মাঝে বেঁচে আছেন, তা তাদের জন্য গর্বের। তারা মনে করেন, তাদের মেয়ের রেখে যাওয়া করুণা ও ভালোবাসার এই উত্তরাধিকার অন্য অনেক জীবনকে স্পর্শ করবে।
এই পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে ছিলেন ‘উম্ব ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউকে’ চ্যারিটির ক্লিনিক্যাল লিড অধ্যাপক রিচার্ড স্মিথ। গ্রেস ও তার সঙ্গী স্টিভ পাওয়েল তাদের সন্তানের মধ্যনাম রেখেছেন ‘রিচার্ড’, মূলত ওই অধ্যাপকের প্রতি সম্মান জানিয়ে। অধ্যাপক স্মিথ এই জন্মকে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের ফসল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি জানান, দম্পতি যখন মনে করবেন তাদের আর সন্তানের প্রয়োজন নেই, তখন গ্রেসের শরীর থেকে এই জরায়ুটি অপসারণ করা হবে। এতে গ্রেসকে আজীবন ‘ইমিউনোসপ্রেস্যান্ট’ ওষুধ খেতে হবে না।
বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত মৃত দাতার জরায়ু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে মাত্র ২৫ থেকে ৩০টি শিশু জন্ম নিয়েছে। সাধারণত জরায়ু প্রতিস্থাপনের দুই-তৃতীয়াংশ জীবিত দাতার কাছ থেকে আসে এবং বাকি এক-তৃতীয়াংশ মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে জরায়ু দান করা সাধারণ অঙ্গদান প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত নয়। কোনো ব্যক্তি অঙ্গদানের তালিকায় নাম লেখানো থাকলেও তার মৃত্যুর পর পরিবারের কাছ থেকে জরায়ু দানের জন্য আলাদাভাবে অনুমতি নিতে হয়।