ইতিহাসের অন্যতম জটিল মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে নাসা। এই অভিযানের নাম আর্টেমিস থ্রি। সম্প্রতি এই মিশনের জন্য চারজন নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। আগামী ২০২৭ সালে তারা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে যাত্রা করবেন। সেখানে স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের তৈরি বাণিজ্যিক মুন ল্যান্ডারের ডকিং বা মহাকাশযানের সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হবে।
আর্টেমিস থ্রি মিশনের চার নভোচারীর মধ্যে রয়েছেন নাসার কমান্ডার র্যান্ডি ব্রেসনিক। তিনি একজন সাবেক টেস্ট পাইলট। মিশনের পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার নভোচারী লুকা পারমিতানো। তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের প্রথম ইতালীয় কমান্ডার ছিলেন। মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে থাকছেন নাসার আন্দ্রে ডগলাস ও ফ্র্যাঙ্ক রুবিও। এর মধ্যে ফ্র্যাঙ্ক রুবিও টানা ৩৭১ দিন মহাকাশে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সর্বোচ্চ সময় মহাকাশে কাটানোর রেকর্ড গড়েছেন। এছাড়া নাসার ব্যাকআপ ক্রু হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন রবার্ট হাইন্স।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলবে এই মিশন। এটি আগের আর্টেমিস টু মিশনের চেয়ে চার দিন বেশি দীর্ঘ হবে। এই বাড়তি সময়ে নাসা তাদের গুরুত্বপূর্ণ লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম এবং উড্ডয়নের সময় ডকিং ব্যবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ পাবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালে আর্টেমিস ফোর মিশন পরিচালিত হবে। এই মিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চাঁদের বুকে পা রাখবেন মার্কিন নভোচারীরা।
প্রাথমিকভাবে আর্টেমিস থ্রি মিশনের মাধ্যমেই চাঁদে অবতরণের কথা ছিল। কিন্তু ল্যান্ডার রকেটগুলোর প্রস্তুতিগত বিলম্বের কারণে এই মিশনকে পৃথিবীর কক্ষপথের পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে রূপান্তর করা হয়। চাঁদে অবতরণের বিষয়টি এখন আর্টেমিস ফোর এবং আর্টেমিস ফাইভ মিশনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আর্টেমিস ফাইভ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে নাসার স্থায়ী ঘাঁটির ভিত্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই অভিযান নাসার ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদে পৌঁছাতে স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’ এবং ব্লু অরিজিনের চন্দ্র অবতরণ যানের ওপর নির্ভর করছে নাসা। সম্প্রতি এই দুই ব্যবস্থার কিছু কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। তবে প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে, তারা সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
মহাকাশযানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীরা বিজ্ঞানীদের সঙ্গেও কাজ করবেন। তারা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল, মহাকাশের আবহাওয়া এবং অরবিটাল ড্র্যাগ নিয়ে গবেষণা করবেন। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা মহাকাশযানের উচ্চতা সময়ের সঙ্গে কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে অরবিটাল ড্র্যাগ বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
নাসার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী প্রশাসক নিকি ফক্স জানিয়েছেন, আগের মিশনটি শুধু চাঁদকে ঘিরে আবর্তিত হলেও এবারের মিশনটি পৃথিবীর পরিবেশ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে। এর মাধ্যমে মহাকাশের আবহাওয়া আমাদের বায়ুমণ্ডলকে কীভাবে প্রভাবিত করে এবং মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তিগুলোকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সে সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানা সম্ভব হবে।