ঢাকা ৭ শ্রাবণ ১৪৩১, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪

মিরনজিল্লা হরিজন পল্লী উচ্ছেদে স্থিতাবস্থা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:৪৪ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:৪৪ পিএম
মিরনজিল্লা হরিজন পল্লী উচ্ছেদে স্থিতাবস্থা

রাজধানীর মিরনজিল্লা হরিজন পল্লীতে উচ্ছেদের উপর স্থিতাবস্থা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে বিষয়টি হাইকোর্টে মিমাংসা না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাতে পারবে না ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) এ আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। 

একইসঙ্গে দুই মাসের মধ্যে হাইকোর্টের দেওয়া রুল নিষ্পত্তিরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। 

আদালতে হরিজনদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারাহ হোসেন। এ ছাড়া ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকা, মনোজ কান্তি ভৌমিক ও উৎপল বিশ্বাস।

সিটি করপোরেশনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মুরাদ রেজা।

এর আগে বুধবার (১০ জুলাই) মিরনজিল্লা হরিজন কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযানের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন আপিল বিভাগ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নতুন করে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন। এদিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অনীক আর হক।

এর আগে গেল ১৩ জুন এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি কোনো নোটিশ ছাড়া মিরনজিল্লা পল্লীতে উচ্ছেদ পরিচালনা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। কিন্তু বুধবার আবারও উচ্ছেদের চেষ্টা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। এই বিষয়ে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা করতে বলেছেন আপিল বিভাগ।

অমিয়/

কোটা নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:২৪ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:২৪ পিএম
কোটা নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানি হবে আগামী রবিবার (২১ জুলাই)। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুই শিক্ষার্থীর লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন। বিষয়টি প্রধান বিচারপতি ওয়াবদুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চে শুনানির জন্য কার্যতালিকার ৩ নম্বরে রয়েছে। 

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, রবিবার শুনানি এগিয়ে আনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করবে। কিন্তু একই বিষয়ে আরেকটি লিভ টু আপিলের প্রেক্ষাপটে আদালত রবিবার শুনানির জন্য ধার্য করেছেন। 

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার বিকেলে লিভ টু আপিল করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই শিক্ষার্থী। আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। 

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেয়ে গত মঙ্গলবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি ১৪ জুলাই বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। রায়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলসংক্রান্ত ২০১৮ সালের জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। ২৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্রটি আইনগত কৃর্তত্ববহির্ভূত, ভিত্তিহীন ও অবৈধ ঘোষণা করা হলো। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতি-নাতনিদের জন্য কোটা বলবৎ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো। এ ছাড়া ২০১২ সালে করা ২৩৫ নম্বর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় ও আদেশ; ২০১৩ সালের ২০৬২ নম্বর লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগে রায়ে তা বহাল ও সংশোধিত আদেশ এবং ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারির সরকারি অফিস আদেশ (মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনির কোটা) অনুসারে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতি-নাতনি, জেলা, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কোটাসহ (যদি অন্যান্য থাকে) সব কোটা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো। এ বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব আদেশ পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে পরিপত্র প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হলো। 

রায়ে হাইকোর্ট আরও বলেছেন, নির্ধারিত শ্রেণিগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কোটা পরিবর্তন ও হার কমানো বা বাড়ানোর বিষয়ে এই রায় বিবাদীদের (সরকারের) জন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না। যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় কোটা পূরণ না হলে সাধারণ মেধাতালিকা থেকে শূন্যপদ পূরণ করার ক্ষেত্রে বিবাদীদের (সরকারের) স্বাধীনতা থাকবে। 

২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মুখে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত কোটা পদ্ধতি বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এই পরিপত্রের বৈধতা নিয়ে ২০২১ সালে রিট করেন চাকরিপ্রত্যাশী ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সাতজন সন্তান। চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৫ জুন নির্দেশনাসহ রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় ঘোষণা করেন। এ রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরই মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে দুজন ৯ জুলাই আপিল বিভাগে এ মামলায় পক্ষভূক্ত হন। ১০ জুলাই শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা ঘোষণা করে পরবর্তী শুনানি ৭ আগস্ট ধার্য করেন।

বিএনপির ২০ নেতা-কর্মী কারাগারে

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:৩৩ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:৩৪ পিএম
বিএনপির ২০ নেতা-কর্মী কারাগারে
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শিক্ষক ও বিএনপিপন্থি চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ এবং দলটির ২০ নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গায়েবানা জানাজা শেষে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানায় করা মামলায় এই আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন।
 
আসামি পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। 

তিনি জানান, পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ আসামিদের আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার জন্য এই আবেদন করেন। আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাদের জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

ডা. সায়ন্থ ছাড়া এ মামলায় কারাগারে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন, দারুস-সালাম থানার ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম খান জুয়েল, তুরাগ থানার বিএনপির আহ্বায়ক মো. আমান উল্লাহ ভূঁইয়া, দিল মোহাম্মদ, মো. নওয়াব আলী, দারুস-সালাম থানায় ১২নং ওয়ার্ড যুবদল সেক্রেটারি শেখ মর্তুজা আলী, রূপনগর থানার শ্রমিক দলের সেক্রেটারি মো. শামছুল আলম মিন্টু, বিএনপি নেতা এস এম মশিউর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন আহম্মেদ, মো. আবুল বাশার ভূঁইয়া, ফজলুর রহমান, ইকতারুল ইসলাম মিতু, মো. মাছুম, আমির হোসেন, মনির হোসেন, পটুয়াখালী জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সুজন, মো. কামরুল হাসান, মো. হামিদুর রহমান হাম্মাদ, রফিকুল ইসলাম, মো. ফয়েজ আহমেদ, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন। 

গতকাল ১৭ জুলাই বুধবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে বিএনপি আয়োজিত গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের চার-পাঁচ শ নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। 

মামলায় অভিযোগ করা হয়, জানাজা শেষে তারা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট দিয়ে বের হয়ে মিছিলসহ অরাজকতা সৃষ্টি করেন। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে পল্টন মোড়ে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য তাদের অনুরোধ করেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু তারা অনুরোধ অমান্য করে পুলিশের ওপর মারমুখী হয়ে ওঠেন এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। সেই সঙ্গে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান ও রাস্তায় থাকা যানবাহন ভাঙচুর করেন। 

এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আলাউল হক বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন। এতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে চার থেকে পাঁচ শ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

রাজাকার ছাড়া সব নাগরিককে মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা চেয়ে রিট

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১২:৪৭ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১২:৪৭ এএম
রাজাকার ছাড়া সব নাগরিককে মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা চেয়ে রিট
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

একাত্তর সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের পক্ষে সহায়তাকারী রাজাকার বাহিনী ব্যতীত বাংলাদেশের সব নাগরিককে মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করে নতুনভাবে সবার নামসম্বলিত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তৈরি করার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুস আলী আকন্দ। এতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, বর্তমানের মুক্তিযোদ্ধা তালিকা বাতিল করে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশবিরোধী রাজাকার বাদে সব নাগরিককে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করে নতুনভাবে সবার নামসহ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করার নির্দেশ দেওয়া হোক।

ইউনুস আলী আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধানে বলা হয়েছে, আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হইবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা, যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে; আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমরা যাহাতে স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি লাভ করিতে পারি এবং মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্ক্ষার সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে পারি, সেজন্য বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য।’ এখানে ‘আমরা’ শব্দটি চারবার ব্যবহার করা হয়েছে। সুতরাং তখনকার সব জনগণই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন মর্মে ঘোষণা করা আবশ্যক। এ জন্য আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন।

কোটা বহালের রায় বাতিলে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৪, ১০:১৮ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৪, ১০:১৮ পিএম
কোটা বহালের রায় বাতিলে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধাসহ বিদ্যমান কোটা বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। 

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই আপিল আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে আগামী ৭ আগস্ট আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। 

হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি গত রবিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। রায়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল-সংক্রান্ত ২০১৮ সালের জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। ২৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্রটি আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত, ভিত্তিহীন ও অবৈধ ঘোষণা করা হলো। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতি-নাতনিদের জন্য কোটা বলবদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো। এ ছাড়া ২০১২ সালে করা ২৩৫ নম্বর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় ও আদেশ; ২০১৩ সালের ২০৬২ নম্বর লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগে রায়ে তা বহাল ও সংশোধিত আদেশ এবং ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারির সরকারি অফিস আদেশ (মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনির কোটা) অনুসারে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতি-নাতনি, জেলা, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কোটাসহ (যদি অন্যান্য থাকে) সব কোটা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো। এ বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব, আদেশ পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে পরিপত্র প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হলো। 

রায়ে হাইকোর্ট আরও বলেছেন, নির্ধারিত শ্রেণিগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কোটা পরিবর্তন ও হার কমানো বা বাড়ানোর বিষয়ে এই রায় বিবাদীদের (সরকারের) জন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না। যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় কোটাপূরণ না হলে সাধারণ মেধাতালিকা থেকে শূন্যপদ পূরণ করার ক্ষেত্রে বিবাদীদের (সরকারের) স্বাধীনতা থাকবে। 

২০১৮ সালে কোটাব্যবস্থা সংস্কার আন্দোলনের মুখে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত কোটাপদ্ধতি বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এই পরিপত্রের বৈধতা নিয়ে ২০২১ সালে রিট করেন চাকরিপ্রত্যাশী ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সাতজন সন্তান। চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৫ জুন নির্দেশনাসহ রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় ঘোষণা করেন। এ রায়ে স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরই মধ্যে কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে দুজন গত ৯ জুলাই আপিল বিভাগে এই মামলায় পক্ষভুক্ত হন। ১০ জুলাই শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা ঘোষণা করে পরবর্তী শুনানি ৭ আগস্ট ধার্য করেন।  

মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের আরও অর্থ-সম্পদ ক্রোক-ফ্রিজের নির্দেশ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৪, ১০:১১ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৪, ১০:১১ পিএম
মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের আরও অর্থ-সম্পদ ক্রোক-ফ্রিজের নির্দেশ
কার্টুন : নিয়াজ চৌধুরী তুলি

ছাগলকাণ্ডে দেশজুড়ে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমান ও তার দুই স্ত্রী, ১ ছেলে, ১ মেয়ে ও ভাইয়ের নামে আরও বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের (অবরুদ্ধ) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

এর মধ্যে মতিউরের প্রথম স্ত্রীর ছেলে তৌফিকুর রহমান অর্ণবের নামে রাজধানীর বসুন্ধরার আই ব্লকে জাপান স্ট্রিট নামের বাণিজ্যিক ভবনে তিনটি কার পার্কিংসহ ৮ হাজার ৭০ বর্গফুটের কমার্শিয়াল স্পেস, দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার ও ভাই এম এ কাইয়ুম হাওলাদারের নামে গাজীপুরের টঙ্গীতে ১৩৭ দশমিক ২৮ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মতিউর, তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ, প্রথম পক্ষের স্ত্রীর ছেলে তৌফিকুর রহমান অর্ণব, মেয়ে ফারজানা রহমান ইপ্সিতা ও দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতারের নামে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল সুজ লিমিটেড ও সোনালী সিকিউরিটিজসহ ১৯টি প্রতিষ্ঠানে মোট ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫১৭টি শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনের করা আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ওই সব সম্পত্তি ক্রোক ও ফ্রিজের নির্দেশ দেন।

এর আগেও দুই দফায় মতিউর তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিপুল অর্থ-সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গত ১১ জুলাই মিরপুরের চারটি ফ্ল্যাট ও সারা দেশে ২৩৬৫ শতাংশ জমি ক্রোক এবং সাড়ে ১৩ কোটি টাকাসহ ১১৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তারও আগে গত ৪ জুলাই আরেক আদেশে মতিউর রহমান ও তার দুই স্ত্রী, ১ ছেলে ও ১ মেয়ের নামে ঢাকায় দুটি বহুতল ভবন, দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, নরসিংদীর রায়পুরা ও বরিশালের মুলাদীতে ১০ একর ৩৬ শতাংশ (১০৩৬ শতাংশ বা ৬২৮ কাঠা বা ৩১ বিঘা) জমি ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মতিউর ও তার দুই স্ত্রী- লায়লা কানিজ ও শাম্মী আখতার, প্রথম পক্ষের বড় ছেলে তৌফিকুর রহমান অর্ণব ও মেয়ে ফারজানা রহমান ইপ্সিতার সম্পদের হিসাব চেয়ে গত ২ জুলাই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে সম্পদবিবরণী দাখিলের জন্য তাদের ২১ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের নিজ নিজ ও তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে থাকা যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী কমিশনে দাখিল করতে বলা হয়েছে। 

মতিউর রহমানের দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গত ৪ জুন সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। পরে ২৩ জুন দুদকের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান শুরু হলে তাদের নামে থাকা অর্থ-সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ, বিএসইসি, দেশের সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও ভূমি অফিসে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দুদকের চিঠি পেয়ে বিএফআইইউ ও বিএসইসি স্বউদ্যোগে মতিউর ও তার স্ত্রী-সন্তানের নামে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিও অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ২০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ১৬টি বিও অ্যাকাউন্টের তথ্য দুদকে পাঠিয়েছে। এদিকে ঢাকার তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স, নরসিংদীর রায়পুরা, বরিশালের মুলাদীসহ বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে অন্তত ৪৫টি দলিলের তথ্য-উপাত্ত দুদকে আসে। 

মতিউর রহমানের ছেলে গত ঈদুল আজহার সময় ইফাত মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল এবং ঢাকার বিভিন্ন খামার থেকে ৭০ লাখ টাকার গরু কিনেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। এরপর থেকে মতিউর রহমানের ছেলের দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি, গাড়ি, আলিশান জীবনযাপন; মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে রিসোর্ট, শুটিং স্পট, বাংলো বাড়ি, জমিসহ নামে-বেনামে অঢেল সম্পত্তির তথ্য বেরিয়ে এলে বিষয়টি দেশ বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়। ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ গরু আমদানি ও বিক্রির বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগে সাভারে গো-প্রোজনন কেন্দ্র এবং সাদিক অ্যাগ্রোতে অভিযান চালিয়েছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযান শেষে মোট ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ১৫টি গরু জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় দুর্নীতির অভিযোগে সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ৫ কর্মকর্তাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার একটি মামলা করেছে দুদক।