ঢাকার মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার (২০) অভিযোগের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম খাসকামরায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রিমান্ডে নিয়ে ছয়দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সহিদুল ওসমান মাসুম আসামিকে আদালতে হাজির করেন। আসামি স্বেচ্ছায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হন এবং বিধি মোতাবেক তা রেকর্ড করার আবেদন করেন।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) আয়েশার স্বামী রাব্বিও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের পর গত বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) আয়েশার জন্য ছয়দিন এবং তার স্বামী রাব্বি শিকদারের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। আগের দিন বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার চরকয়া গ্রাম থেকে স্বামী-স্ত্রী দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর আয়েশা খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ৮ ডিসেম্বর সকাল প্রায় ৭টার সময় বাদী আজিজুল ইসলাম নিজ কর্মস্থলে যান। কর্মস্থল থেকে তিনি একাধিকবার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন।
নিরুপায় হয়ে বেলা প্রায় ১১টার দিকে বাসায় ফেরেন। তিনি দেখেন, তার স্ত্রী গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ও রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং তার মেয়ের গলার ডান পাশে কাটা আহত অবস্থায় মেইন গেটের দিকে পড়ে আছে। মেয়েকে উদ্ধার করে পরিছন্নকর্মী মো. আশিকের মাধ্যমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাদী আজিজুল বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখেন, আসামি আয়েশা সকাল ৭:৫১ মিনিটে বাসায় কাজ করার জন্য প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯:৩৫ মিনিটে তার মেয়ের একটি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চলে যান।
ভবনের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, সকাল ৭:৫১ থেকে ৯:৩৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় আয়েশা তার স্ত্রী ও মেয়েকে ছুরি বা অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যা করেছেন। পরে নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে নির্বিঘ্নে বাসা থেকে বেরিয়ে যান।
জলিল উজ্জ্বল/রিফাত