ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
২৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি মেক্সিকোর চোখ গ্রুপসেরায়, দ.কোরিয়ার সামনে নকআউট নিশ্চিতের সুযোগ অপেক্ষা ফুরাচ্ছে ওচোয়ার! ইংল্যান্ডকে জিততে দিল না ঘানা মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গেলেন ফ্রান্সের কোচ অতঃপর দেম্বেলে… প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত?

জরুরি খাদ্যসামগ্রী এখন বিলাসী পণ্য : সিপিডি

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ০৭:৪৪ পিএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৪, ০১:৪৮ পিএম
জরুরি খাদ্যসামগ্রী এখন বিলাসী পণ্য : সিপিডি
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

বিশ্বের ১৭টি উচ্চ, মধ্যম আয় ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের মাথাপিছু খাদ্যে ব্যয় সর্বোচ্চ। অথচ বার্ষিক মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণে এই ১৭ দেশের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। দেশে নিত্যপণ্যের বিদ্যমান মূল্য পরিস্থিতি বিশ্বের ১৭টি দেশের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এ তথ্য জানিয়েছে।

সিপিডি বলেছে, দেশে এখন জরুরি খাদ্যসামগ্রী মূল্যের দিক থেকে বিচার-বিবেচনায় বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের মতো একটি স্বল্প আয়ের দেশে এ ধরনের মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক। এর মূল কারণ হলো বাজার তদারকিতে আইনের প্রয়োগ যথাযথ হচ্ছে না কিংবা আইনের কাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। এ জন্য যে সংস্কার দরকার, তাও হচ্ছে না। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। 

রবিবার (২ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ সিপিডি কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা’ বা আইআরবিডি (ইন্টারিম রিভিউ অন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট) শীর্ষক এক প্রতিবেদনে অর্থনীতির একটি হালনাগাদ চিত্র ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। 

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, কল্পনা করা যায় ভারত, শ্রীলঙ্কা, এমনকি ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার চেয়ে বাংলাদেশে খাদ্যে ব্যয় বেশি। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে যে শ্রীলঙ্কাকে কদিন আগেও আঙুল তুলে কথা বলা হয়েছে, সে দেশের চেয়েও এখন বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেশি। আমরা এখন ৯-১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কাঠামোতে অবস্থান করছি। ফলে নিম্ন, নিম্নমধ্যবিত্ত ও স্বল্প মধ্যবিত্তের আয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাদের আয়-ব্যয়ে চাপ বাড়ছে ও জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের খাদ্যতালিকায় থাকা মোট ৩৪ ধরনের পণ্যের মূল্য ১৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ৩১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। খোদ সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর দেওয়া মূল্যতালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে কোভিডের আগে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি কেজিপ্রতি রসুনের মূল্য ছিল ৫০ টাকা। ২০২৪ সালের মে মাসে সেই মূল্য ৩১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২০৫ টাকা। প্রতি কেজি আদার দাম ১১০ টাকা থেকে ২০৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৩৫ টাকা।

মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫২ টাকা। অথচ বেশি আয়ের মানুষের ভোগের তালিকায় থাকা মিনিকেট ও পাইজাম চালের দাম তুলনামূলকভাবে কম যথাক্রমে ১৫ ও ১৭ শতাংশ বেড়েছে। ময়দার দাম কেজিতে ৬০ শতাংশ বেড়ে আগের মূল্য ৩৬ টাকা থেকে বর্তমানে হয়েছে ৫৭ টাকা ৫০ পয়সা। আটার দাম কেজিতে ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৩৪ টাকা থেকে ৫২ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। 

সর্বাধিক ব্যবহৃত খোলা ভোজ্যতেলের (পাম অয়েল) লিটারপ্রতি দাম ১০৬ শতাংশ বেড়ে ৬৩ টাকা থেকে ১৩০ টাকা হয়েছে। খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে যথাক্রমে ৮৫ ও ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বড় দানা ও ছোট দানা দুই ধরনের মসুর ডালের দাম যথাক্রমে বৃদ্ধি পেয়েছে ৯৫ ও ৮৮ শতাংশ। পেঁয়াজের দাম ১৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৭২ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। যদিও মাঝপথে পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছিল। শুকনা মরিচ ও কাঁচা মরিচ দুটিরই দাম বেড়েছে দ্বিগুণ থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত। শুকনা মরিচ আগে এক কেজি পাওয়া যেত ২০০ টাকায়, যা বর্তমানে ৪১০ টাকার মতো। অন্যদিকে ৩০-৪০ টাকার কাঁচা মরিচ বর্তমানে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। হলুদের দাম প্রতি কেজিতে ৭০ শতাংশ বেড়ে ২০০ থেকে ৩৪০ টাকা হয়েছে। 

গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৪৮৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৬৫ টাকা। দর বৃদ্ধির হার ৫৮ শতাংশ বা অর্ধেকেরও বেশি। ব্রয়লার মুরগির দাম ৫৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি ১৩৫ টাকা থেকে ২১৫ টাকা হয়েছে। ইলিশ ও রুই মাছের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৩৫ ও ১০ শতাংশ। সহজলভ্য পুষ্টির অন্যতম উৎস ডিমের দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। গুঁড়া দুধের দাম ৪৩ থেকে ৮০ শতাংশ বেড়েছে। চিনির দাম বেড়েছে ১৫২ শতাংশ। লবণের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ। 

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশে মাথাপিছু খাদ্যে ব্যয় ৯২৪ ডলার (বছরে)। প্রতি ডলার ১১৭ টাকা দরে এর বিনিময় মূল্য দাঁড়ায় ১ লাখ ৮ হাজার টাকা। দেশে বর্তমানে মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণ ৭ হাজার ৮০৫ ডলার বা ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ মাথাপিছু খাদ্যে ব্যয় ১২ শতাংশ। প্রতিবেশী দেশ ভারতে মাথাপিছু খাদ্যে ব্যয় মাথাপিছু জিডিপির ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় এ ব্যয় জিডিপির ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। উচ্চ আয়ের দেশ কলম্বিয়া ও ব্রাজিলে মাথাপিছু খাদ্যব্যয় যথাক্রমে জিডিপির ৪ দশমিক ৬৬ ও ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আরও যেসব দেশে খাদ্যব্যয় বাংলাদেশের তুলনায় কম, সেগুলো হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ভিয়েতনাম, আলজেরিয়া, ইরাক, মরক্কো, জর্ডান, লাওস, তিউনিসিয়া, বলিভিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। 

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, দেশে জিডিপি বেড়েছে, কিন্তু কর্মসংস্থান বাড়ছে না। আয় বৃদ্ধির হারও জিডিপি অনুপাতে বাড়েনি। এ বছর জিডিপির হিসাবে সংগতি নেই। অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে, যা সচরাচর সম্ভব হয় না। তবে আশার কথা হলো, জিডিপি নিয়ে প্রতি তিন মাসে একটি প্রতিবেদন সরকার প্রকাশ করছে। এতে অর্থনীতির সূচক-সম্পর্কিত একটি ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, যা নীতিমালা প্রণয়নে কাজে লাগানো সম্ভব।

প্রবন্ধকার বলেন, ‘সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা নেই। জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বাজেটের বরাদ্দ ব্যয়ে সক্ষমতা নেই। তার পরও অপ্রয়োজনীয় ও বাহুল্য ব্যয় থেকেই গেছে। এটা অনেকটা সরকারের স্ববিরোধিতা। সরকার একদিকে সংকোচনমূলক ব্যবস্থার কথা বলছে, অন্যদিকে নিজেই বন্ড ইস্যু করে ঋণ নিচ্ছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। বিদেশ ভ্রমণ ও গাড়ি কেনার মতো প্রকল্প আমরা দেখতে পাচ্ছি।’ 

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে পিছিয়ে পড়ছে এনবিআর। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের বিশাল অর্থের কেনাকাটা করমুক্ত রাখা হয়েছে। অথচ মেট্রোরেলের ভাড়ায় ভ্যাট আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ধরনের নীতি কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। কারণ কর-ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া আমরা দেখেছি সরকারের আয় কম, অথচ ঋণ করছে বেশি। আয় না থাকায় আবার ঋণ করে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হচ্ছে। সরকার বৈদেশিক ঋণের দায়ভারে বাহুল্য তৈরি করছে। প্রকৃত অর্থে এমন অনেক বৈদেশিক ঋণ আছে, যার যৌক্তিকতা হয়তো নেই। এ ধরনের বৈদেশিক ঋণ বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে দুর্নীতি রোধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাহ্যিক খাতের অস্থিরতা রোধে রেমিট্যান্স বাড়াতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখতে পাচ্ছি না। এযাবৎ ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ৩৫ শতাংশের মতো। আমদানি নিয়ন্ত্রণ, ডলারের দর বৃদ্ধি, সুদহার বৃদ্ধি এবং অফশোর আমানত বাড়ানোর চেষ্টা এ ক্ষেত্রে কাজে আসবে কি না, তার মূল্যায়ন এখনই করা যাচ্ছে না। গত পাঁচ বছরে ২৮ লাখ লোক প্রবাসে গেছে। সে অনুপাতে রেমিট্যান্স বাড়েনি। অবৈধ পথে হুন্ডি-হাওলার মাধ্যমে রেমিট্যান্সের টাকা দেশে আসছে। অর্থাৎ বড় অঙ্কের প্রবাসী আয় বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বৈধ পথে রেমিট্যান্স না আসায় রিজার্ভে বড় পতন হয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।’

প্রবন্ধে বলা হয়, সরকার এত এত ইকোনমিক জোন করল, কিন্তু সেগুলোতে বিনিয়োগ নেই। ওয়ান স্টপ সার্ভিস কাজ করছে কি না, তার মূল্যায়ন নেই। রিজার্ভ পুনর্গঠন করতে হলে বৈদেশিক বিনিয়োগও লাগবে। কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। সারের স্থানীয় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আমদানি করতে হচ্ছে বেশি। এতে বাড়তি ব্যয়ের দায় পড়ছে কৃষকের ওপর। কৃষিঋণের টাকা প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতে চলে যাচ্ছে। একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য যে অব্যাহতভাবে দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়ছে। বিশেষ করে ধান, সবজি ও ফলমূলের উৎপাদন বেড়েছে। একফসলি জমিকে পুনঃপুনঃ আবাদের আওতায় আনা যেতে পারে। দেশে প্রায় ১১ লাখ একর আবাদযোগ্য পতিত জমি রয়েছে।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘২০৪১ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির একটি চাহিদা প্রক্ষেপণসংবলিত মাস্টারপ্ল্যান করেছে সরকার। তাতে কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক গতি-প্রকৃতির কাঠামোগত পরিবর্তনকে আমলে নেওয়া হয়নি। এতে চাহিদার পরিমাণ বেড়ে গেছে। সিপিডি একটি নিরপেক্ষ চাহিদাবিষয়ক প্রক্ষেপণ করেছে। তাতে দেখা যায়, অর্থনীতির পরিবর্তিত প্রবণতা আমলে নিলে গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদার পরিমাণ কমে আসবে। তাতে সরকারের কষ্টার্জিত আয় সাশ্রয় হবে এবং সে অর্থ অন্য কোনো কল্যাণকর বা উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা যাবে।

সিপিডির পক্ষ থেকে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম অবিলম্বে সরকারকে এ মাস্টারপ্ল্যান রিভাইজ করার দাবি জানান।

উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল
রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে অবশেষে ব্যাখ্যা দিল ভারত।

 মঙ্গলবার (২৩ জুন) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, তিনি নিজেই বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ২৮তম বৈঠকে যোগ দিতে তিনি একটি সার্ক ভিসাসহ ব্যক্তিগত পাসপোর্টে এখানে এসেছিলেন। দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। তার সফরের উদ্দেশ্য যে একটি বহুপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেওয়া–সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে তিনি নিজের ইচ্ছায় ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। 

গত ১৪ জুন দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে ২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বসিয়ে রাখার পর তার ঢাকায় ফিরে আসার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে রণধীর জয়সওয়াল এই ব্যাখ্যা দেন।

এসএন/

জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:০২ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মঙ্গলবার দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ‘শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, এখন সময় এসেছে জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিকে কাজে এবং অঙ্গীকারকে ফলাফলে পরিণত করার, যাতে বিশ্ব আত্মবিশ্বাসের সাথে ভবিষ্যৎকে আলিঙ্গন করতে পারে। আমরা আশা করি, কপ-৩১ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে এবং বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ ‘শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ’ শীর্ষক এক অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়, আমরা এটিকে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আমরা এখানে উপস্থিত সকলে মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।

তিনি বলেন, কোনো দেশ একা জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার। কপ-৩১ এবং কপ-৩২ এর দিকে তাকিয়ে আমরা তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চাই। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য, সহজসাধ্য এবং চাহিদা-সাপেক্ষ হতে হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও ত্বরান্বিত হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে, আমাদের ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’ (জিসিএফ)-এর বৃহত্তর সংহতকরণ এবং কার্যকরীকরণ প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজনও অপরিহার্য। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন কোনো নীতিগত বিকল্প নয়, এটি একটি অপরিহার্য বিষয়। ইউএনসিটিএডি’র মতে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশমন ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ এখানে শুধু জলবায়ু সংকটে একটি সম্মুখসারির রাষ্ট্র হিসেবেই নয়, বরং বৈশ্বিক সমাধানে আগ্রহী একটি জাতি হিসেবেও সমবেত হয়েছি। 

তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার একটি অগ্রণী জলবায়ু-সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ প্রবৃদ্ধি এখন আমাদের জাতি গঠন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমি  ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ভাবি এবং যার জন্য আমি সচেষ্ট থাকি। এটি জীবন, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার বিষয়।

জলবায়ু সংক্রান্ত বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আমরা আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার  কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করার পরিকল্পনা করেছি। আমরা পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কৃষিকে সহায়তা করতে এবং জলবায়ুগত অভিঘাত মোকাবিলার লক্ষ্যে আমাদের প্রধান নদীর উপর পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা একটি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারেজকেও আধুনিকীকরণ করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করেছি। স্কুল, সম্প্রদায় এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী একটি আন্দোলনের মাধ্যমে, যেমন ‘এক শিক্ষার্থী, এক গাছ কর্মসূচি’র মাধ্যমে, আমরা বনাঞ্চল সম্প্রসারণ করব, জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করব, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব এবং তাপমাত্রা হ্রাস করব।

বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য বিনিয়োগ করছি এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ মান চালু করছি। একই সাথে, আমাদের সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর, বায়ু, বর্জ্য থেকে শক্তি এবং অন্যান্য সমাধানের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বাংলাদেশের অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা পাটজাত পণ্য এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব পরিবহনের মতো সবুজ শিল্পকেও উৎসাহিত করি।  সবুজ বিনিয়োগ এবং কার্বন-ক্রেডিটের সুযোগ উন্মোচনের জন্য একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশ সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন এবং চক্রাকার অর্থনীতি উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনাও করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবুজ উৎপাদন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি। এখন আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি যে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড প্রত্যয়িত কারখানার মধ্যে ৬৯ টিই বাংলাদেশের।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই তাদের মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে লাখ লাখ মানুষের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কপ-৩১ এর উচিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কাঠামো কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য ও চেতনাকে পুনঃনিশ্চিত করা। এ প্রসঙ্গে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপকে উৎসাহিত করতে, ঐকমত্য গড়ে তুলতে এবং সম্মিলিত পদক্ষেপকে অনুপ্রাণিত করার জন্য একটি মূল্যবান মঞ্চ।

নাঈম/

‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

জুয়া, অনলাইন জুয়া এবং অনলাইন বেটিংসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের অনৈতিক ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটিতে এসব অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জয়নুল আবেদীন।

বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটি বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। পরে তিনি প্রস্তাব করেন, কমিটি পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করবে। এ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং বিলটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষার পর প্রস্তাবিত বিলটি সংসদে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই জুয়ার বিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থসামাজিক ও মানসিক ক্ষতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন হালনাগাদ করে নতুন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত এই আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, বাজি, টোটালাইজেটর, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড এবং উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এলিস/এসএন

আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব
ছবি: সংগৃহীত

আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ হজরত মওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা. জি. আ.) বলেছেন- ইসলামে আদবের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। একজন মানুষের ঈমান, আমল ও চরিত্রের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় তার আদব-আখলাকের মাধ্যমে। মানুষকে মানুষের মাঝে সম্মানিত করে তার সম্পদ নয়, তার বংশ নয়, বরং তার আদব ও চরিত্র। আদব এমন একটি গুণ, যা একজন মানুষকে সমাজে মর্যাদাবান করে তোলে। “আদব ছাড়া ইলম হলো ফলহীন বৃক্ষের মতো”। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন আদব ও উত্তম চরিত্রের সর্বোত্তম নমুনা। তাঁর জীবন আমাদের জন্য আদবের সর্বোত্তম শিক্ষা।

পীর ছাহেব কেবলা আরও বলেন- আদবের প্রথম ধাপ হলো আল্লাহর সাথে আদব। এরপর পিতা-মাতার সাথে আদব। আজ অনেক সন্তান পিতা-মাতার কথা শুনতে চায় না। শিক্ষকদের সাথে আদব, আলেমদের সাথে আদব, প্রতিবেশীদের সাথে আদব বর্তমান যুগে আমরা অনেকেই শিক্ষিত হচ্ছি, কিন্তু আদব শিখছি না। ফলে সমাজে অশান্তি, পারিবারিক কলহ এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আমাদের উচিত কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেদের চরিত্র গঠন করা। মনে রাখতে হবে, আদব মানুষকে সম্মানিত করে পক্ষান্তরে আদবহীনতা মানুষের মর্যাদা নষ্ট করে।

সোমবার (২২ জুন) মাগরিবের পর ছারছীনা দরবার শরীফ জামে মসজিদে হজরত পীর ছাহেব কেবলা পবিত্র হজব্রত পালন শেষে দেশে এসে ছারছীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়ায়ে ইসলামিয়া, ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত ছাত্রদের উদ্দেশ্যে নসিহত করতে গিয়ে একথা বলেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- ছারছীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়ায়ে ইসলামিয়া, ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার আসাতিজায়ে কেরামগণ।

এসএন/

বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী
সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে চীন ও ভারতের সঙ্গে, যা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি মূলত কয়েকটি প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত। শিল্প খাতে কাঁচামাল, জ্বালানি পণ্য এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির ওপর উচ্চ আমদানি নির্ভরশীলতার কারণে এই ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।

সংসদে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীন থেকে ভারী যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স, শিল্প কাঁচামাল ও মূলধনী পণ্যের বিপুল আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ ওই অর্থবছরে দেশটিতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী ভারত। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। তুলা, রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের বড় আকারের আমদানির কারণে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে মাত্র ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের সঙ্গেও যথাক্রমে ৭৯৯ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ও ৭২৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। কাতারের সঙ্গে ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার, সৌদি আরবের সঙ্গে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং ওমানের সঙ্গে ২১৯ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে।
পূর্ব এশিয়ার উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে তাইওয়ানের সঙ্গে ৮০৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ৭৪০ দশমিক ০২ মিলিয়ন ডলার, জাপানের সঙ্গে ৪৮৯ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার এবং হংকংয়ের সঙ্গে ১৯৯ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৮১ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার। ইউরোপ ও ইউরেশিয়ার মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ৪১৪ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি হয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকায় ব্রাজিলের সঙ্গে ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, আর্জেন্টিনার সঙ্গে ৭৬৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার এবং প্যারাগুয়ের সঙ্গে ৮৩ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে।

আফ্রিকা অঞ্চলেও বাণিজ্য ঘাটতির বিস্তার রয়েছে। মরক্কো, বেনিন, ক্যামেরুন, মালি, বুর্কিনা ফাসো, মোজাম্বিক ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা গেছে। পাশাপাশি ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৩২০ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২৯৭ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আমদানিনির্ভরতার কারণেই এই বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য কৌশল ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

এলিস/এসএন