ঢাকা ৫ শ্রাবণ ১৪৩১, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪

মন্দায় রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে : সিপিডি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১০:২৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ১০:২৮ পিএম
মন্দায় রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে : সিপিডি
ছবি : খবরের কাগজ

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশে চাহিদার তুলনায় ৪৬ শতাংশ উদ্বৃত্ত সক্ষমতা রয়েছে। বাড়তি এ সক্ষমতার জন্য ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধ করতে বাধ্যবাধকতা থাকায় রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। চলমান সামষ্টিক অর্থনীতির মন্দাজনিত পরিস্থিতিতে এ ধরনের বাড়তি অর্থ ব্যয় কেবলই অপচয়।

রবিবার (২৩ জুন) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক ইন সেন্টারে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরে সিপিডি।

সিপিডি জানায়, দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াট। সেখানে বিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে টাকা যাচ্ছে সরকারের তহবিল থেকে।

বক্তারা বলেন, সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় বেশি থাকলেও দেশের মানুষ ঘরবাড়ি ও শিল্পে বিদ্যুৎ পায় না। অথচ বাড়তি সক্ষমতার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হয় সরকারকে। যে বিদ্যুৎ আমরা পাই না, তার জন্য রাষ্ট্রকে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ অর্থ জনগণের দেওয়া কর থেকে ব্যয় করা হয়। সুতরাং এ ধরনের চুক্তিসমূহ সংশোধন করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলেও ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের জন্য বাড়তি খরচ (ক্যাপাসিটি চার্জ) বহন করছে সরকার। এই সক্ষমতা দেশের অর্থনীতির মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ উৎপাদন না করলেও দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দিতে হয় ক্যাপাসিটি চার্জ। এই চার্জের নামে এখন হাজার হাজার কোটি টাকা চলে যাচ্ছে সরকারের তহবিল থেকে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম তার উপস্থাপনায় বলেন, দেশে এখন বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ব্যবহার করা না গেলেও কেন উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে? 

তিনি বলেন, সরকার এখন যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করেছে, তা ২০৩০ সালেও প্রয়োজন হবে না। আজ থেকে ছয় বছরে চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১৯ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। ২৫ শতাংশ রিজার্ভ ধরলে তখন ২৩ হাজার ২৫২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ হলেই হয়।

গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, সক্ষমতা বাড়লেও এখনো দেশে হচ্ছে লোডশেডিং। গরমে গড়ে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেটে লোডশেড করা হয়। বাজেটে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত নিয়ে স্পষ্ট কিছু নেই। সরকার এই খাত নিয়ে কী করবে, সে ব্যাপারেও অন্ধকারে সবাই। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য ও হামিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাসের কথা বলে দাম বাড়ানো হলো, কিন্তু লোডশেডিং কমেনি। ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ডিজেল দিয়ে, সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস এনে কারখানা চালাতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে গেছে। অনেক কারখানা বন্ধ হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ না থাকায় দেশে বিনিয়োগ আসছে না। প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি। শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে ২২ শতাংশ। 

বাজেটের অধিকাংশ ব্যয় অনুন্নয়ন খাতে হয় দাবি করে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য হাজার কোটি টাকা খরচ করে দামি গাড়ি কেনা হচ্ছে, যেখানে ভারতের মন্ত্রীরা নিজেদের দেশের গাড়িতে চড়েন। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মাত্র চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করে এখন উৎপাদনক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াট পার করেছে। এতে জিডিপি বেড়েছে। মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে ধন্যবাদ দিতেই হবে। কাজ করতে গেলে কিছু ভুলত্রুটি হবে, তা সংশোধন হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও হবে।

ভারতের বিনিয়োগ পলিসির কথা তুলে ধরে এ কে আজাদ বলেন, তাদের জমি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সাবিসিডাইজড, পাঁচ বছরের জন্য কর্মীদের বেতন দেয় সরকার, বিনিয়োগ তো সে দেশেই হবে। তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না হলে কর্মসংস্থান হবে না। 

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলেও দেশে সুবিধা মিলছে না। কারণ ডলারের দাম বেশি। আজ প্রাইমারি এনার্জি থাকলে বিদ্যুৎ খাতের যেসব বিষয় নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে তা হতো না।

অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, সবার আগে একটি আধুনিক জ্বালানি নীতিমালা প্রয়োজন। তা না করে শুধু জোড়াতালি দিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ জন্য একের পর এক মাস্টারপ্ল্যান ফেল করছে। বিদ্যুৎ খাতের বিশেষ বিধান বাতিল করতে হবে। টেন্ডার ছাড়া প্রকল্প নেওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এখনো ১২-১৩ টাকায় সৌরবিদ্যুতের চুক্তি হচ্ছে। যেটা ৮-৯ টাকায় করা সম্ভব দরপ্রক্রিয়ায় গেলে। 

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) পুরোপুরি দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের নামে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি সমন্বয় করা হয়েছে। বিপিসির দুর্নীতি প্রমাণিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকার বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা ছাড়াই বিদ্যুৎ কিনছে। আবার কমিশনকে পাশ কাটিয়ে গণশুনানি ছাড়াই নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করছে।

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন সমন্বয়ক নাহিদ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫১ পিএম
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন সমন্বয়ক নাহিদ
ছবি: সংগৃহীত

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ তথ্য জানান।

মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সহিংসতা চালিয়ে সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর দায় সরকারেরই। সরকার আলোচনার কোনো পরিস্থিতি রাখেনি। যদি এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজপথ থেকে সরানো না হয়; যদি হল, ক্যাম্পাস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে না দেওয়া হয়, যদি এখনো গুলি অব্যাহত থাকে তাহলে সরকারকেই সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেবল কোটা সংস্কার করলেই ফয়সালা হবে না। প্রথমে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে সরকার দাবি কর্ণপাত করেনি ৷ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডার দিয়ে আন্দোলন দমনের প্রচেষ্টা করছে। এখন সংলাপের নামে, দাবি আদায়ের নামে নতুন প্রহসন করছে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এ সমন্বয়ক বলেন, ‘সকল ছাত্র হত্যার বিচার করতে হবে। ক্যাম্পাসগুলোকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে। অনতিবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিরস্ত্র করে রাজপথ থেকে অপসারণ করতে হবে। শহিদদের রক্তের উপর কোনো সংলাপ হবে না। সরকারকেই সমাধানের পথ বের করতে হবে।’

নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আহ্বান থাকবে খুনি সরকারকে সমর্থন না দিয়ে ছাত্রদের পাশে থাকুন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান থাকবে বাংলাদেশের জনগণকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসুন। বাংলাদেশে গণহত্যা চলছে।’

‘আমাদেরকে আজকে রাতের মধ্যেই গ্রেপ্তার অথবা গুম করে ফেলতে পারে। আপনারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। সবাই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করুন।’- লেখেন নাহিদ।

এর আগে দুপুরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘কোটা সংস্কারে আমরা নীতিগতভাবে ঐকমত্য পোষণ করি। যেকোনো সময় এ নিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছি।’

খাজা/এমএ/

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫০ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫০ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্পেন ও ব্রাজিল সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বনির্ধারিত গতকাল বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের কারণ জানানো হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আজকের নির্ধারিত স্পেন ও ব্রাজিলে ভিভিআইপি সফরের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের পর পরবর্তী সময় জানানো হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন দিনের সফরে ২১ জুলাই মাদ্রিদ যাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুলাই জি-২০-এর বিশেষ অধিবেশন ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় যোগ দিতে ব্রাজিল যাওয়ার কথা রয়েছে তার।

মোবাইলের পর এবার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:১৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:১৭ পিএম
মোবাইলের পর এবার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত

মোবাইল ইন্টারনেটের পর এবার ধীর গতিতে পাওয়া যাচ্ছে দেশের ব্রডব্যান্ড ইটারনেট সেবাও। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকাল ৫টার পর থেকে ব্রডব্যান্ড ব্যবহারে ধীরগতির এ অভিযোগ ওঠে। 

এ বিষয়ে বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রাহকপর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপিএবি) এর সভাপতি ইমদাদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাজধানীর মহাখালীর খাজা টাওয়ারের পাশে দূযোর্গ ব্যবস্থাপনার ভবনে আগুন লাগায় আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা আমেদের কিছু কেবল পুড়ে গেছে। এর ফলে আমরা ৪০ শতাংশ ডাটা পাচ্ছি না। এ কারণে আমাদেরকে ৬০ শতাংশ ডাটা দিয়ে সার্ভিস দিতে হচ্ছে।’ 

এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যায় পড়ার অভিযোগ করেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। এরপর গত বুধবার মধ্যরাত থেকে ফোরজি কাভারেজ সীমিত করায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কার্যত বন্ধ হয়ে যায় মোবাইল ইন্টারনেট। অনেকে অভিযোগ করেন, তারা ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে প্রবেশ করতে পারছেন না। দীর্ঘচেষ্টায় প্রবেশ করতে পারলেও কোনো বার্তা, ছবি ও ভিডিও পোস্ট করা যাচ্ছিলো না বলেও অভিযোগ ওঠে। সে সময় বেশ কয়েকটি মোবাইল অপারেটরের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন সরকারি নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এ বিষয়ে (কোটা আন্দোলন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে গুজব, মিথ্যা, অপপ্রচার করাটাকে অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে একটি গোষ্ঠী। তাই জাতীয় ও নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পলক বলেন, ‘শুধু দেশের ভেতর নয়, বাইরে থেকেই কিছু কনটেন্ট পোস্ট করা হচ্ছে। তার মানে টাকা দিয়ে মিথ্যা তথ্যটা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে অপকৌশল বা ষড়যন্ত্র, এটা আমরা যখন দেখছি তথ্য–উপাত্ত, গোয়েন্দা সংস্থার সব বিশ্লেষণ, তখন আমরা মনে করেছি, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের যার যতটুকু করার সক্ষমতা আছে, সেটা করা দরকার। যেমন পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা রক্ষার চেষ্টা করছে, তেমনি আমরা সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার প্ল্যাটফর্মে চেষ্টা করছি, জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই।’

‘ইন্টারনেটে গতি কমিয়ে দেওয়া হবে’ এমন ঘোষণা আগে ছিল কী না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ-পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তার স্বার্থে, গোয়েন্দা সংস্থার প্রয়োজনে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার স্বার্থে আমরা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। যত দ্রুত পরিবেশটা নিয়ন্ত্রণে আসবে, আইনশৃঙ্খলা আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, আমরা এই আশঙ্কা থেকে মুক্ত হতে পারব। 

তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি, কোথা থেকে কারা এই অর্থায়ন করছে, কোথা থেকে কারা এই কনটেন্ট তৈরি করছে, তার জন্য আমরা ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থা জোরদার করছি। আমরা আশা করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নয়ন আমরা ঘটাতে পারব।’

তিনি বলেন, ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটার কারণে সাময়িক যে ক্ষতি ও অসুবিধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেটা মেনে নিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার অনুরোধও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিথি/এমএ/

 

খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও ভেজাল নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:৩৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:৪৫ পিএম
খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও ভেজাল নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ
ছবি: সংগৃহীত

খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অনিয়ম দূর করতে খাদ্যপণ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত, অপচয় রোধ এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যা দূর করতে কর্মপন্থা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সংসদ ভবনে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। 

এছাড়া দেশের খাদ্য গুদামগুলোতে নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগে আউটসোর্সিং না করে সরাসরি নিয়োগের পক্ষে সুপারিশ করেন কমিটির নেতারা। কারণ কমিটি মনে করেন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগকৃত নিরাপত্তা প্রহরী খাদ্য বিভাগে নিয়োজিত হলে সরকারি সম্পদ চুরি, দুর্বৃত্তদের সঙ্গে স্থানীয়দের যোগসাজশে সরকারি সম্পদের আত্মসাৎ ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এসময় খাদ্য অপচয় রোধের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক নানা প্রচারণার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়। 

কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের নেতৃত্বে কমিটির সদস্য খাদ্যমন্ত্রী সাধান চন্দ্র মজুমদার, মো. মকবুল হোসেন, আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী, এস এ কে একরামুজ্জামান ও দ্রৌপদী দেবী আগরওয়ালা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা প্রধানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এলিস/এমএ/

আমরা ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছি, এটা দুর্বলতা নয় : ডিবিপ্রধান

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:১১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:১১ পিএম
আমরা ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছি, এটা দুর্বলতা নয় : ডিবিপ্রধান
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, ‘আমাদের সব ধরনের ব্যবস্থা আছে। তবে আমরা ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছি, এটা দুর্বলতা নয়।’

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যকে যারা দুর্বলতা মনে করছেন তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমি অনুরোধ করছি আপনারা ঘরে ফিরে যান।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিবিপ্রধান।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের মধ্যে মাদরাসার ছাত্র, ছাত্রদল, যুবদল, জামায়াত-শিবিরের লোক ঢুকে গেছে। তারা পুলিশের গায়ে হাত দিচ্ছে, ভাঙচুর করছে। আমরা কাউকে ছাড় দেব না।’

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে সকাল থেকে উত্তপ্ত ঢাকা। পুলিশ-আন্দোলনকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক পুলিশ বক্স। রাস্তায় গণপরিবহন নেই বললেই চলে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছেন না। সব মিলিয়ে উত্তাল ঢাকায় জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

খাজা/সালমান/