সাদিক অ্যাগ্রোর প্রতিষ্ঠান শাহী মিঠাইয়ের চারটি আউটলেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার ভেল্যু এডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) বা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এনবিআর সূত্রে এসব জানা যায়।
সূত্র জানায়, এনবিআর কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একাধিক দল শাহী মিঠাইয়ের চারটি আউটলেটে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কি পরিমাণ বিক্রি করেছে তার হিসাব বের করে। ভ্যাট রিটার্নের তথ্য যাচাই করে। বিশেষভাবে প্রতি মাসে কি পরিমাণ ভ্যাট পরিশোধ করে তা মিলিয়ে দেখে। খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হয় যে, ক্রেতার কাছ থেকে হিসাব কষে ভ্যাট আদায় করলেও তার সবটা এনবিআরের কোষাগারে জমা দেয়নি। বিক্রি, ভ্যাট পরিশোধ- সব ক্ষেত্রেই মিথ্যা তথ্য দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, ছাগলকাণ্ডের পর থেকে মূলত আলোচনায় আসে সাদিক অ্যাগ্রো। একের পর এক সাদিক অ্যাগ্রোর খামারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে অভিযান চালায়। এসব অভিযানে সাদিক অ্যাগ্রোর একটি খামারে অভিযান চালিয়ে ৬টি ব্রাহামা জাতের গরুর সন্ধান পাওয়া গেছে, যার প্রতিটি কোটি টাকা মূল্যের ছিল। এর আগেও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকার সাভারের কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জাতীয় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নীতিমালার আলোকে যেসব গরুর জাত পালনের অনুমতি আছে, সেখানে ব্রাহামা জাতের কোনো অনুমোদন নেই। ফলে এই জাত পালনের কোনো অনুমোদন আমরা দিইনি। কিন্তু অবৈধভাবে আনা ব্রাহামা গরুগুলো ছিল প্রজনন অনুপযোগী।
ফলে নিয়ম অনুসারে এসব প্রজনন অনুপযোগী গরু খামারিদের সংগঠনের কাছে হস্তান্তর করা হয়, কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক ইমরান হোসেন কৌশলে এসব গরু নিজের নামে নিয়ে নিয়েছেন। তার ওপর শর্তানুযায়ী এসব গরুর মাংস বিক্রি না করে কোরবানির পশু হিসেবে বাজারেও বিক্রি করেছেন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনীতে প্রকাশ্যে তিনি এই ব্রাহামা জাতীয় নিষিদ্ধ গরু উঠিয়ে ছিলেন।’