ঢাকা ৭ শ্রাবণ ১৪৩১, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪

সংশোধন হচ্ছে সিটি করপোরেশনের বিধি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৯ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৯ এএম
সংশোধন হচ্ছে সিটি করপোরেশনের বিধি
ছবি: সংগৃহীত

আগামী জানুয়ারি মাসে রাজধানীর দুই (উত্তর-দক্ষিণ) সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ডিসেম্বরে। তার আগেই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনসংক্রান্ত আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ভোটারদের স্বাক্ষর বাদ দেওয়াসহ ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার সুযোগ যুক্ত করে প্রস্তাবিত খসড়া বিধিমালাটি পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। 

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের আরও কিছু বিধির অসংগতি দূর করতে খসড়া প্রস্তাব তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র খবরের কাগজকে এসব তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে দলীয় ও স্বতন্ত্রদের মধ্যে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে যে বিভাজন রয়েছে, তা বাদ দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সিটিতে প্রার্থী হতে হলে তাকে ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষর যুক্ত করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়, সংশোধিত বিধিমালায় বিধানটি বিলুপ্ত করা হচ্ছে। 

দুজন প্রার্থী সমান ভোট পেলে বিদ্যমান বিধিতে পুনঃভোটের (নির্বাচন) মাধ্যমে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করা হয়। এই দীর্ঘসূত্রতার প্রক্রিয়াটি তুলে দিয়ে লটারির মাধ্যমে তাদের (সমান ভোট পাওয়া প্রার্থীদের) ভাগ্য নির্ধারণের বিধান যুক্ত হচ্ছে।

বিদ্যমান আচরণবিধিতে সিটিতে ভোটারের সংখ্যানুপাতে ব্যয়সীমা ও ব্যক্তিগত ব্যয় করতে হয় মেয়র এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের। জামানতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য এ নিয়ম। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে যত ভোটার থাকুক না কেন, জামানত ১০ হাজার টাকা, নির্বাচনি ব্যয় ৬ লাখ টাকা এবং ব্যক্তিগত ব্যয় করার সুযোগ রয়েছে ৫০ হাজার টাকা।

আর মেয়র প্রার্থীরা ১ লাখ টাকা জামানত, ২ লাখ টাকা ব্যক্তিগত ব্যয় এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা নির্বাচনি ব্যয় করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন এ বিধান রহিত করে নতুন করে জামানত ও ব্যয়সীমা নির্ধারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। 

প্রস্তাবিত ও বিদ্যমান বিধানের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে প্রার্থীদের জামানত বাড়ানোর প্রস্তাব থাকছে। এতে ভোটারের প্রার্থীদের মধ্যে ব্যয়ের ক্ষেত্রে যে ব্যাপক তারতম্য রয়েছে, তা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে নির্বাচন কমিশন বিধিতে সংস্কার আনার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এই খসড়া প্রস্তাবের ওপরে ইসি (নির্বাচন কমিশন) আলোচনা করে বিধিবিধান যুক্ত করবে।
 
নির্বাচনি আইনের কঠিন মারপ্যাঁচে বিদ্যমান আইনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ এখন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষর যুক্ত করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়। যদি স্বাক্ষর সংগ্রহ সম্ভব হয়, আবার রাজনৈতিক কারণে স্বতন্ত্রদের প্রার্থিতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। 

কারণ ৩০০ ভোটারের কোনো একজন কারও মাধ্যমে প্ররোচিত বা প্রভাবিত হয়ে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় অভিযোগ করলে প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ওই ৩০০ ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হয়, যাদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় ভোটার হতে হবে। 

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থন সূচকে এই ৩০০ ব্যক্তির স্বাক্ষর নির্বাচন কমিশন যাচাই করে দেখে। এ ক্ষেত্রে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে পাঁচটি নাম ও স্বাক্ষর নির্ধারণ করা হয়। এই পাঁচ ব্যক্তির তথ্য সরেজমিনে তদন্ত করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ ক্ষেত্রে তথ্যে কোনো গরমিল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হয়। 

একইভাবে প্রার্থী হতে হলে প্রস্তাবক এবং সমর্থককেও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ভোটার হতে হয়। এই কঠিন বিধানটি সিটির বিধি থেকে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে স্বতন্ত্র ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থীদের প্রার্থী হওয়ার পথ সহজ হবে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। 

খসড়া সংশোধনী প্রস্তাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিধিমালা সংশোধনে অনলাইন পদ্ধতিতে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ থাকবে। বর্তমানে সরাসরি অথবা অনলাইন উভয় পদ্ধতিতে মনোনয়নপত্র দাখিলের বিধান রয়েছে। তবে অনলাইন পদ্ধতিতে মনোনয়নপত্র দাখিলের বিধান চূড়ান্ত করা হতে পারে।

এ ছাড়া এবারই প্রথম ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারের সুযোগ পাচ্ছেন প্রার্থীরা। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান নির্বাচনি আইন ও নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রার্থী কিংবা তাদের নির্বাচনি এজেন্টকে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ শনাক্তকরণ সব তথ্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে। একইভাবে প্রতীক বরাদ্দের আগেই নির্দিষ্টসংখ্যক লোকজন নিয়ে জনসংযোগ করতে পারবেন প্রার্থীরা। 

একাধিক ক্যাম্প স্থাপনের পাশাপাশি নির্বাচনি ক্যাম্পে টেলিভিশন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, কোনো প্রার্থী একাধিক পদে মনোনয়ন দাখিল না করতে পারার বিধান সংযুক্ত করার বিষয়গুলো নতুন বিধিতে থাকছে। 

সিটি নির্বাচনে ভুঁইফোঁড় প্রার্থীর সংখ্যা যাতে না বাড়ে, সে জন্য মেয়র ও সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের জামানত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে। মেয়র পদে ১ লাখ এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের জন্য জামানত ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। 

বর্তমানে ওয়ার্ডওয়ারী ভোটের সংখ্যা অনুপাতে জামানত নির্ধারণ করা আছে। বিধিতে জামানত বাজেয়াপ্তের বিধানে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নির্বাচনে যতসংখ্যক ভোট পড়বে তার ১৫ শতাংশ ভোট না পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমার বিধান যুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন সমন্বয়ক নাহিদ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫১ পিএম
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন সমন্বয়ক নাহিদ
ছবি: সংগৃহীত

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ তথ্য জানান।

মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সহিংসতা চালিয়ে সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর দায় সরকারেরই। সরকার আলোচনার কোনো পরিস্থিতি রাখেনি। যদি এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজপথ থেকে সরানো না হয়; যদি হল, ক্যাম্পাস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে না দেওয়া হয়, যদি এখনো গুলি অব্যাহত থাকে তাহলে সরকারকেই সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেবল কোটা সংস্কার করলেই ফয়সালা হবে না। প্রথমে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে সরকার দাবি কর্ণপাত করেনি ৷ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডার দিয়ে আন্দোলন দমনের প্রচেষ্টা করছে। এখন সংলাপের নামে, দাবি আদায়ের নামে নতুন প্রহসন করছে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এ সমন্বয়ক বলেন, ‘সকল ছাত্র হত্যার বিচার করতে হবে। ক্যাম্পাসগুলোকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে। অনতিবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিরস্ত্র করে রাজপথ থেকে অপসারণ করতে হবে। শহিদদের রক্তের উপর কোনো সংলাপ হবে না। সরকারকেই সমাধানের পথ বের করতে হবে।’

নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আহ্বান থাকবে খুনি সরকারকে সমর্থন না দিয়ে ছাত্রদের পাশে থাকুন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান থাকবে বাংলাদেশের জনগণকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসুন। বাংলাদেশে গণহত্যা চলছে।’

‘আমাদেরকে আজকে রাতের মধ্যেই গ্রেপ্তার অথবা গুম করে ফেলতে পারে। আপনারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। সবাই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করুন।’- লেখেন নাহিদ।

এর আগে দুপুরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘কোটা সংস্কারে আমরা নীতিগতভাবে ঐকমত্য পোষণ করি। যেকোনো সময় এ নিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছি।’

খাজা/এমএ/

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫০ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫০ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্পেন ও ব্রাজিল সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বনির্ধারিত গতকাল বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের কারণ জানানো হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আজকের নির্ধারিত স্পেন ও ব্রাজিলে ভিভিআইপি সফরের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের পর পরবর্তী সময় জানানো হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন দিনের সফরে ২১ জুলাই মাদ্রিদ যাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুলাই জি-২০-এর বিশেষ অধিবেশন ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় যোগ দিতে ব্রাজিল যাওয়ার কথা রয়েছে তার।

মোবাইলের পর এবার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:১৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:১৭ পিএম
মোবাইলের পর এবার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত

মোবাইল ইন্টারনেটের পর এবার ধীর গতিতে পাওয়া যাচ্ছে দেশের ব্রডব্যান্ড ইটারনেট সেবাও। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকাল ৫টার পর থেকে ব্রডব্যান্ড ব্যবহারে ধীরগতির এ অভিযোগ ওঠে। 

এ বিষয়ে বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রাহকপর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপিএবি) এর সভাপতি ইমদাদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাজধানীর মহাখালীর খাজা টাওয়ারের পাশে দূযোর্গ ব্যবস্থাপনার ভবনে আগুন লাগায় আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা আমেদের কিছু কেবল পুড়ে গেছে। এর ফলে আমরা ৪০ শতাংশ ডাটা পাচ্ছি না। এ কারণে আমাদেরকে ৬০ শতাংশ ডাটা দিয়ে সার্ভিস দিতে হচ্ছে।’ 

এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যায় পড়ার অভিযোগ করেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। এরপর গত বুধবার মধ্যরাত থেকে ফোরজি কাভারেজ সীমিত করায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কার্যত বন্ধ হয়ে যায় মোবাইল ইন্টারনেট। অনেকে অভিযোগ করেন, তারা ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে প্রবেশ করতে পারছেন না। দীর্ঘচেষ্টায় প্রবেশ করতে পারলেও কোনো বার্তা, ছবি ও ভিডিও পোস্ট করা যাচ্ছিলো না বলেও অভিযোগ ওঠে। সে সময় বেশ কয়েকটি মোবাইল অপারেটরের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন সরকারি নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এ বিষয়ে (কোটা আন্দোলন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে গুজব, মিথ্যা, অপপ্রচার করাটাকে অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে একটি গোষ্ঠী। তাই জাতীয় ও নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পলক বলেন, ‘শুধু দেশের ভেতর নয়, বাইরে থেকেই কিছু কনটেন্ট পোস্ট করা হচ্ছে। তার মানে টাকা দিয়ে মিথ্যা তথ্যটা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে অপকৌশল বা ষড়যন্ত্র, এটা আমরা যখন দেখছি তথ্য–উপাত্ত, গোয়েন্দা সংস্থার সব বিশ্লেষণ, তখন আমরা মনে করেছি, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের যার যতটুকু করার সক্ষমতা আছে, সেটা করা দরকার। যেমন পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা রক্ষার চেষ্টা করছে, তেমনি আমরা সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার প্ল্যাটফর্মে চেষ্টা করছি, জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই।’

‘ইন্টারনেটে গতি কমিয়ে দেওয়া হবে’ এমন ঘোষণা আগে ছিল কী না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ-পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তার স্বার্থে, গোয়েন্দা সংস্থার প্রয়োজনে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার স্বার্থে আমরা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। যত দ্রুত পরিবেশটা নিয়ন্ত্রণে আসবে, আইনশৃঙ্খলা আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, আমরা এই আশঙ্কা থেকে মুক্ত হতে পারব। 

তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি, কোথা থেকে কারা এই অর্থায়ন করছে, কোথা থেকে কারা এই কনটেন্ট তৈরি করছে, তার জন্য আমরা ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থা জোরদার করছি। আমরা আশা করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নয়ন আমরা ঘটাতে পারব।’

তিনি বলেন, ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটার কারণে সাময়িক যে ক্ষতি ও অসুবিধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেটা মেনে নিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার অনুরোধও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিথি/এমএ/

 

খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও ভেজাল নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:৩৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:৪৫ পিএম
খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও ভেজাল নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ
ছবি: সংগৃহীত

খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অনিয়ম দূর করতে খাদ্যপণ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত, অপচয় রোধ এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যা দূর করতে কর্মপন্থা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সংসদ ভবনে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। 

এছাড়া দেশের খাদ্য গুদামগুলোতে নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগে আউটসোর্সিং না করে সরাসরি নিয়োগের পক্ষে সুপারিশ করেন কমিটির নেতারা। কারণ কমিটি মনে করেন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগকৃত নিরাপত্তা প্রহরী খাদ্য বিভাগে নিয়োজিত হলে সরকারি সম্পদ চুরি, দুর্বৃত্তদের সঙ্গে স্থানীয়দের যোগসাজশে সরকারি সম্পদের আত্মসাৎ ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এসময় খাদ্য অপচয় রোধের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক নানা প্রচারণার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়। 

কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের নেতৃত্বে কমিটির সদস্য খাদ্যমন্ত্রী সাধান চন্দ্র মজুমদার, মো. মকবুল হোসেন, আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী, এস এ কে একরামুজ্জামান ও দ্রৌপদী দেবী আগরওয়ালা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা প্রধানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এলিস/এমএ/

আমরা ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছি, এটা দুর্বলতা নয় : ডিবিপ্রধান

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:১১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:১১ পিএম
আমরা ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছি, এটা দুর্বলতা নয় : ডিবিপ্রধান
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, ‘আমাদের সব ধরনের ব্যবস্থা আছে। তবে আমরা ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছি, এটা দুর্বলতা নয়।’

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যকে যারা দুর্বলতা মনে করছেন তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমি অনুরোধ করছি আপনারা ঘরে ফিরে যান।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিবিপ্রধান।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের মধ্যে মাদরাসার ছাত্র, ছাত্রদল, যুবদল, জামায়াত-শিবিরের লোক ঢুকে গেছে। তারা পুলিশের গায়ে হাত দিচ্ছে, ভাঙচুর করছে। আমরা কাউকে ছাড় দেব না।’

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে সকাল থেকে উত্তপ্ত ঢাকা। পুলিশ-আন্দোলনকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক পুলিশ বক্স। রাস্তায় গণপরিবহন নেই বললেই চলে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছেন না। সব মিলিয়ে উত্তাল ঢাকায় জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

খাজা/সালমান/