ঢাকা ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ফিফা থেকে জাতিসংঘ! ইনফান্তিনোকে নিয়ে ট্রাম্পের নতুন চমক তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৭ গাজীপুরের আলোচিত নাঈম মাঝি হত্যার রহস্য উদঘাটন নাটোরে টিভির তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই: খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষায় দক্ষ জনশক্তি গড়বে সরকার: মাহ্দী আমিন আবাসন খাতের বিকাশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির প্রতিকী মশাল মিছিল প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে স্বাস্থ্যকর্মীরা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের ২১ দিনে রেমিট্যান্স এল ২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা খাল পুনর্খননে সেচ সংকটের অবসান, স্বস্তিতে মতলবের কৃষকরা বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত চট্টগ্রামে চীনা নাগরিকের টাকা-ডলার চুরি, কারখানার কর্মী গ্রেপ্তার ‘তিস্তা নদী পাগলা হয়া গেইছে, হামার আর কিছু থাকল না’ অপরাধবিষয়ক সিনিয়র সাংবাদিক আবু হেনা রাসেল আর নেই ফটিকছড়িতে মিলল বিচ্ছিন্ন হাত আকস্মিক বন্যায় জম্মু-কাশ্মিরে ২৫ জনের মৃত্যু ইউপি নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, থাকছে না বিশেষ সুবিধা: মির্জা ফখরুল ভারতে সুড়ঙ্গ ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে শুধু ধর্মের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী গাজী নজরুল ইস্যুতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ইসি সাত মাস বেতনহীন রামেক ওসিসির কর্মীরা, কর্মবিরতিতে ব্যাহত জরুরি সেবা ধামরাইয়ে শর্টসার্কিটের আগুনে পুড়ল বসতঘর ডায়মন্ড সিমেন্টের ওমরাহ হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত প্রশ্নফাঁসের জেরে সংসদে অচলাবস্থা, মোদির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির নতুন সভাপতি আবু সুফিয়ান রাজশাহীতে হঠাৎ জ্বালানি আতঙ্ক, পাম্পে দীর্ঘ লাইন ইউক্রেনের নতুন সেনাপ্রধান মিখাইলো দ্রাপাতি ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতি ১৪ হাজার ৪২১ কোটি: সিপিডি

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৪, ০২:১৭ পিএম
আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৪, ০২:২১ পিএম
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতি ১৪ হাজার ৪২১ কোটি: সিপিডি
সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যায় ১৪ হাজার ৪২১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। 

রবিবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

সিপিডি জানায়, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের অঞ্চলগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি জিডিপির দশমিক ২৬ শতাংশ।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, কৃষি ও বন খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। যার পরিমাণ ৫ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। এছাড়া অবকাঠামো খাতে ৪ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জেলা হিসাবে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে নোয়াখালীতে। যার পরিমাণ ৪ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর পর আছে কুমিল্লা জেলা। ক্ষতির পরিমাণ তিন হাজার ৩৯০ কোটি টাকা।

বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণে সমন্বয়হীনতার ঘাটতি ছিল। এ কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধি থাকা দরকার ছিল কি না তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কোনো ব্যক্তি একাধিকবার ত্রাণ পেয়েছেন, আবার অনেকেই পাননি। এ ছাড়া অনেকেই ত্রাণসামগ্রী বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

অমিয়/

তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৭

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৭
খবরের কাগজ ইনেফোগ্রাফিক।

রাজধানীজুড়ে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ।

বুধবার (২২ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিনব্যাপী বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ওই ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. নুর হোসেন ওরফে মুন্না (২০), মো. নাঈম (২০), মো. মামুন হোসেন (২২), মো. দ্বিপু বাহাদুর (২৯), মো. সাইদুল ইসলাম (৩৬), মো. মনিরুল মনু (৪২), মো. আবুল বাশার (৫৩), মো. জাহিদুল ইসলাম (১৮), মো. আলী হোসেন (৪৮), মো. সবুজ (৩৭), মো. মামুন (৫২), মো. নাজমুল ইসলাম (২৫) ও মো. শাহ পারভেজ (৪০)।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- মৃদুল হাসান (২৯), মো. সুজন বেপারী (২৬), মো. শাকিল (২৬), মো. সেলিম ওরফে ডিপজল (২২), মো. সেলিম ওরফে ডিপজল ওরফে রনি, মো. রাকিব (২২), মো. রাজা মিয়া, মো. সবুজ ব্যাপারী ওরফে সবুজ (২২), মো. সবুজ, মো. সুজন, মো. হাসান, মামুন (২৪), মো. সবুজ, মো. নাদিম, মো. জুয়েল মিয়া (৩১), মো. ইমরান (২৭), শেখ শাহিন (৫৫), মামুন (২৪), চঞ্চল রবি দাস (২১), মো. রিহান শেখ (১৯), মো. বাপ্পি শেখ (২০), মো. পলাশ হোসেন (২৫), মো. শাহীন (২৫), মো. সুন্নত (২২) ও মো. রাজু (৪৫)।

এ ছাড়াও নিয়মিত অভিযানে গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- মো. আকবর খান ইমন (২৪), মো. মেরাজুল ইসলাম (২২), খন্দকার মো. ইব্রাহিম (২১), মো. আবির হোসেন (২৫), মো. রবিনুর (২৭), মো. মনোয়ার হোসেন ওরফে রিফাত (২৬), মো. জহুরুল ইসলাম (৩২), মো. লাবলু (২০), মকবুল হোসেন ওরফে মুকুল (২৭), মিজানুর রহমান মুকুল (৪০), শ্রাবন দেওয়ান (২০) মো. সজিব (২১), মো. শামীম হোসেন (৩৬), মিলন (৪২), মো. আলমগীর হোসেন (৩০), মো. মনির হোসেন (৩২), মো. মশিউর রহমান (২৬), ফাহিম (২৩) ও দিপংকর চন্দ্র দাশ ওরফে অভি (৩১)।

তেজগাঁও বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে তেজগাঁও থানার ৩ জন ছাড়াও শেরেবাংলা নগর থানার ১০ জন, মোহাম্মদপুর থানার ২৮ জন, আদাবর থানার ৫ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ৭ জন ও হাতিরঝিল থানার ৪ জন রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

এএফ/

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই: খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই: খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।  

দেশে সংকট তৈরির চেষ্টা থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে মনে করছেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

সাংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ৩১ দিনের ডিজেল, ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের জেট ফুয়েল, ২০ দিনের পেট্রোল এবং ২৫ দিনের ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে। আগামী ৪৮ দিনের মধ্যে জ্বালানি তেলের কোনো ধরনের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।

আমদানি ও সরবরাহের চিত্র তুলে ধরে মুখপাত্র জানান, পাইপলাইনে তেলের যে মজুত আছে তা দিয়ে আগামীতে কোনো সমস্যা হবে না। এছাড়া আগামী ২৪ দিনের মধ্যে দুই লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল দেশে এসে পৌঁছাবে। এর মধ্যে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যেই আসবে এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানির বিষয়ে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশ সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে না; সেখান থেকে কেবল ক্রুড ওয়েল (অপরিশোধিত তেল) কেনা হয়। 

অন্যদিকে, দেশে গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে যুগ্ম সচিব জানান, দিনে দেশে দেশীয় গ্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে মোট চাহিদা তিন হাজার আট মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু বর্তমানে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণেই সিএনজি পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। তবে আগামী দুই-একদিনের মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি সংশোধন হয়ে গ্যাস সঙ্কট কেটে যাবে এবং সিএনজি স্টেশনগুলোর ওপর থেকে চাপ কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

রিফাত/

তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষায় দক্ষ জনশক্তি গড়বে সরকার: মাহ্দী আমিন

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষায় দক্ষ জনশক্তি গড়বে সরকার: মাহ্দী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তোলা হবে। এমন একটি সমাজ বিনির্মাণ করা হবে, যেখানে তরুণদের মধ্যে পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক শিষ্টাচারের বিকাশ ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। 

তিনি বলেন, তারুণ্যের ক্ষমতায়ন মানেই বর্তমান সরকারের ক্ষমতায়ন। প্রধানমন্ত্রী এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলেছেন, যেখানে শিল্পখাত ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে, ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমিক কোলাবরেশনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরে আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস-ইউসেপ বাংলাদেশ আয়োজিত বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস -২০২৬ উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে মাহ্দী আমিন এ কথা বলেন।‌

শ্রমিক বান্ধব সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই ঈদের সময় শ্রমিকদের মধ্যে কোনো ধরনের অসন্তোষ দেখা যায়নি উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বকেয়া, বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা এমন একটি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছি, যা দীর্ঘদিন পর সত্যিকার অর্থে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। সেই জনগণের একটি বড় অংশ ছিল তরুণ সমাজ। 

তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ মূলত চারটি ক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে, দেশের বেসরকারি খাতে, সরকারি খাতে, দেশের বাইরে এবং স্বনির্ভর বা উদ্যোক্তা হিসেবে। এ চারটি ক্ষেত্রকেই আমাদের সমান গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবার চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য হবে না। বরং দেশের চাহিদা ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং একজন শিক্ষার্থী যে বিষয়ে আগ্রহী ও দক্ষ, সেই বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা ও সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য বিভিন্ন ট্রেডভিত্তিক দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। বাস্তব জীবনের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেই প্রশিক্ষণের কার্যকর প্রতিফলন প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা চাই তিন মাস, ছয় মাস বা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন কোর্স ও ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণের আরও বিস্তৃতি ঘটুক। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে অথবা সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, একইভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্যও প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আমরা এমন একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, এসএসসি ও এইচএসসি ভোকেশনাল শিক্ষা, টিটিসিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আসবে।

বর্তমানে ২৩টি ভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, কিন্তু এসব প্রশিক্ষণের কারিকুলাম, সার্টিফিকেশন, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং শেখানো দক্ষতার মধ্যে সামঞ্জস্যতা প্রয়োজন। এই বাস্তবতা অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। লক্ষ্য হচ্ছে, এনএসডিএ-এর সনদ যেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সনদ ও মানের মধ্যে একটি কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে একটি অভিন্ন মানদণ্ড গড়ে উঠবে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করবে।

ইউসেপ ৮০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়, যা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক বলেও মন্তব্য করেন মাহ্দী আমিন বলেন, তবে এই চিত্রটি এখনও সারা দেশে প্রতিফলিত করতে হবে। দেশের অনেক স্থানে শিক্ষার্থীরা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণ করছেন, পলিটেকনিকে পড়াশোনা করছেন, প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, কিন্তু এরপরও তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হচ্ছে না। তাই বৈশ্বিক সেরা অনুশীলন এবং বাংলাদেশের সফল প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর মডেলকে আমরা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা চাই ইউসেপের এই সাফল্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে সমগ্র বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠুক। সে লক্ষ্যেই আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। অন্তর্ভুক্তিমূলক বলতে বুঝি সবার জন্য সমান সুযোগ, ন্যায্যতা এবং মানসম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের নিশ্চয়তা। রাজধানী ঢাকার শিক্ষার্থীরা যে মানের শিক্ষা, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়, সেই একই সুযোগ দেশের প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছেও পৌঁছে দিতে হবে। যেখানে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানেও আমরা এমন একটি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যাতে কোনো শিক্ষার্থী শুধু অবস্থানের কারণে পিছিয়ে না থাকে।

মো. আলী/নাঈম

আবাসন খাতের বিকাশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
আবাসন খাতের বিকাশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রিহ্যাবের প্রতিনিধিদল। ছবি: পিএমও

দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যেন আবাসন খাতে অনিয়ম করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস-সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠকে দেশের আবাসন শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, পরিকল্পিত নগরায়নের চ্যালেঞ্জ, ড্যাপ বাস্তবায়নের ফলে উদ্ভূত বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা এবং এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে রিহ্যাব প্রতিনিধিদল জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর আবেদন জানায়। পাশাপাশি আবাসন খাতে বিভিন্ন সরকারি সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। এছাড়া যৌক্তিকভাবে ভবনের ফ্লোর এরিয়া রেশিও এবং রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে উলম্ব নগরায়নের ওপর জোর দেওয়া হয় বলেও জানান সহকারী প্রেস-সচিব শাহরিয়ার পামির।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নগরায়ন শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না, দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে।’ একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষা করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল, সহ-সভাপতি-২ আবু খালিদ মোহাম্মদ বারকাতুল্লাহ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ম্যানেজার মুশফিকুল আলম খন্দকার।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন, কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো. রেজাউল করিম, সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) নাসির মজুমদার, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জালাল ঘানি খান এবং স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ কাইয়ুম। সূত্র: বাসস

এসজি/ 

প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে স্বাস্থ্যকর্মীরা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে স্বাস্থ্যকর্মীরা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি:সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কেউ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। জনগণের স্বাস্থ্যের যত্ন নিশ্চিত করতে এবং মারাত্মক রোগগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে সরকার সারা দেশে ‘হোম-টু-হোম হেলথ স্ক্রিনিং’ (ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা) কার্যক্রম শুরু করবে।

বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের লেক পার্কে হাইজিন ফর হেলথ বাংলাদেশের (সুস্বাস্থ্যের জন্য স্বাস্থ্যবিধি বাংলাদেশ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকার ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিবে। এর ৮০ শতাংশই হবে নারী। এই নারী কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে সাধারণ নারীদের স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার কীভাবে পরীক্ষা করতে হয়, তা শেখাবেন। যাতে প্রাথমিক অবস্থাতেই রোগ শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়।

স্বাস্থ্যকর্মীরা একটি বিশেষ বক্স নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাবেন এবং রক্তচাপ, ওজন, ডায়াবেটিস, লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষার পাশাপাশি ঘরে বসেই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুবিধা দেবেন।

তিনি বলেন, সুস্থ থাকতে হলে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকার বিকল্প নেই। একটি সুস্থ ও জ্ঞানভিত্তিক সমৃদ্ধ জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হলো জনসচেতনতা ও সুস্বাস্থ্য।

সারাদেশে সিজারিয়ান সেকশন বাড়ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ শিশু সিজারিয়ান সেকশনের (সিজার) মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করছে। সিজারের পর প্রকৃতি ও সৃষ্টিকর্তার দেওয়া সবচেয়ে বড় প্রোটিনের উৎস 'শালদুধ' শিশুকে দেওয়া হচ্ছে না।

মায়েদের কর্মব্যস্ততা, অবহেলা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর হার কমে যাচ্ছে, যা শিশুদের মারাত্মক পুষ্টিহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলে (যেমন ব্রাজিলে) তীব্র প্রোটিনের অভাবে রোগীরা আমাশয়ে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

সভায় মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ এর খেতাব প্রাপ্ত সামানজার সাঈদ, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর আজরা মাহমুদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, গুলশান সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মৃধাসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জয়ন্ত সাহা/এএফ