ডেসটিনি গ্রুপের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীন বলেছেন, ‘ডেসটিনিতে যারাই বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান বোর্ডের। যদি আমাকে আবার এমডি করা হয়, তা হলে আমি বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারব। সরকার ব্যাংক হিসাব খুলে দিলে পরবর্তী মাস থেকেই টাকা দেওয়া শুরু করা যাবে।’
বুধবার (১৪ মে) সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, তার গড়া রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ আ-আমজনতা পার্টির’ নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি’।
রফিকুল আমীন বলেন, ‘ডেসটিনি ছাড়া আমি কোনো নতুন কোম্পানি শুরু করিনি। একটি ই-কমার্স কোম্পানি শুরু করেছিলাম, তবে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে আমি এখনো ডেসটিনির পরিচালনা বোর্ডে প্রবেশ করতে পারিনি। এটি বলতে পারি, ডেসটিনির নাম ভাঙিয়ে আমি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেইনি। ফলে এই প্রতিষ্ঠানের কোনো ঋণের দায় নেই। ডেসটিনি গ্রুপের ছয় থেকে সাত হাজার কোটি টাকার সম্পদ আছে, তবে ব্যক্তি পর্যায়ে এখন দায় আছে তিন হাজার কোটি টাকা।’
ডেসটিনির সাবেক এমডি বলেন, ‘আমি যতদিন ডেসটিনির দায়িত্বে ছিলাম, ততদিন সততার সঙ্গে ব্যবসা করেছি। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট সরকার মিথ্যা অভিযোগ তুলেছিল। ফলে সে সময় আমি সরকারের রোষানলে পড়েছিলাম। আমার নামে মিথ্যা মানি লন্ডারিং মামলা করা হয়েছিল।’
বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির আহ্বায়ক রফিকুল আমীন বলেন, ‘দেশের মধ্যে যারা অবিচার জুলুমের শিকার, আমি আমার নতুন রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। অবিচার জুলুম এই বিষয়গুলো আমরা নির্মূল করতে চাই। আমি যখন ঢাকার জেলখানায় ছিলাম তখন দেখেছি, অসংখ্য মজলুম আছে, যারা বিনা অপরাধে জেল খেটে যাচ্ছে। তাদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে, আমি নিজে সাক্ষী এ রকম অসংখ্য মানুষের।’
রাজনৈতিক দলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জেলে থাকা অবস্থাতেই আমজনতা পার্টি করার পরিকল্পনা করেছি। নামও সেই সময় ঠিক করেছি। পরে যখন দেখলাম ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত এ রকম একটা গ্রুপ একই নামে দল করেছে, তাদের দলের নাম আমজনতা দল। সেই দলের নেতা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, আমাকে তারা বিষয়টি খুলে বলেছেন। আমি তাদের কথা বুঝতে পেরে, তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে, আমার দলের নাম আমি পরিবর্তন করে নিয়েছি। মূলত তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমার দলের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি নামকরণ করেছি।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল রকিকুল আমীনের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ আ-আমজনতা পার্টি’ আত্মপ্রকাশ করেছিল। সেই নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি’ রাখা হয়েছে।
২০১২ সালের ৩১ জুলাই রফিকুল আমীনসহ ডেসটিনির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজধানীর কলাবাগান থানায় দুটি পৃথক মামলা করে। মামলায় ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি ও ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে রফিকুল আমীন এই মামলাগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হন এবং কারাভোগ করেন। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।