চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানাধীন শাপলা ছড়া পাড় এলাকায় প্রকাশ্যে কাটা হচ্ছে সরকারি মালিকানাধীন পাহাড়। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা ৪০ লাখ টাকার কন্ট্রাক নিয়ে এই পাহাড় কাটছেন। চক্রটির সঙ্গে আকবরশাহ থানার এক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
মূলত প্লট তৈরি করে বিক্রির উদ্দেশ্যেই পাহাড় কাটা হচ্ছে। খবর পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে পাহাড় কাটা চক্র তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করে। তাদের আচরণ ছিল মারমুখী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাহাড় কাটার মূল হোতা রোকন। তার হয়ে কাজ করছে ইলিয়াছ। ইলিয়াছ নিয়োগ দিয়েছেন মো. খোকন প্রকাশ ডিস খোকন ও মো. ইব্রাহিম প্রকাশ ইব্রাহিম ভান্ডারীকে। খোকন নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিলেও তার কোনো পদ নেই। ইব্রাহিম নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করলেও তিনি আসলে দলটির সমর্থক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে পাহাড়টির চারপাশে কাঁচা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। কয়েকটি ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে মানুষ। আবার কিছু ঘর খালি। ঘরগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন পাহাড়ঘেরা আছে। এই আড়ালেই প্রতিরাতে পাহাড় কাটা হয়। কাটা মাটি সরিয়ে নেওয়া হয় দূরে। পাহাড়ের আশপাশে সব সময় সশস্ত্র পাহারা থাকে। অচেনা কেউ গেলে তাকে থামানো হয়, নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, চক্রটির লক্ষ্য আশপাশের আরও তিনটি পাহাড় কেটে সমতল করা। পরে সেসব জমি প্লট আকারে বিক্রি করা হবে। প্রতি কাঠা আট থেকে ১০ লাখ টাকায় জমি বিক্রি হয়ে যায়। জমির মালিক সরকার হলেও এভাবে বারবার হাতবদল হয়। একসময় সেখানে পাকা দালানও গড়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষায়, ‘এভাবেই পাহাড় কেটে বসতি তৈরি হয়।’
আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর যখন সহযোগিতা চায় আমরা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করি।’ থানার কর্মকর্তাদের যোগসাজশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ কেন পাহাড় কাটায় সহযোগিতা করবে? পরিবেশ উপদেষ্টার নির্দেশ ছিল- পাহাড়ের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। মালিক সরকারি হোক বা বেসরকারি। পরিবেশ অধিদপ্তর যদি মামলা করে তাহলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।’
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর তাদের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পাহাড় কাটার প্রমাণ মিলেছে। চক্রটিকে নোটিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পাহাড় কাটার স্থানে গিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন বলেও স্বীকার করেন তিনি।