ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচনি সংলাপ শুরু হচ্ছে ১৩ নভেম্বর। এই সংলাপ চলবে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দুটি সেশনে ৬টি করে ১২টি দলের সঙ্গে আলোচনা হবে। তবে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটকে সংলাপে ডাকা হবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু হবে ১৩ নভেম্বর। সকাল ও বিকেলে দুই দফায় বৈঠক হবে। তবে কোন দলের সঙ্গে কোন তারিখে বসা হবে, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি।’
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের আচরণবিধি চূড়ান্ত করার পরই সংলাপের পূর্ণ সূচি প্রকাশ করা হবে। ইতোমধ্যে ইসি সুশীল সমাজ, নারী প্রতিনিধি, গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপ সম্পন্ন করেছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা আচরণবিধির গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় আছি। তা প্রকাশ হলেই সংলাপের সময়সূচি ও দলভিত্তিক আলোচনা তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে সব দলের মতামত নেওয়াই এই সংলাপের উদ্দেশ্য।’
সচিব জানান, আগামী ১৮ নভেম্বর প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধনের জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ উদ্বোধন করবে নির্বাচন কমিশন। আগে এটি ১৬ নভেম্বর উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু রবিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। এ কারণে ১৮ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। সে দিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশ করা হবে।’
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা অনলাইনে নিবন্ধন করে ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন। এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে প্রবাসী নাগরিক, ভোটের দায়িত্বে থাকা সরকারি চাকরিজীবী ও আইনগত হেফাজতে থাকা ভোটারদের জন্য।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনি আচরণবিধি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। এতে প্রার্থীদের প্রচার, ব্যয়সীমা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নীতিমালা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে নতুন কিছু বিধান সংযোজন করা হয়েছে। আচরণবিধি চূড়ান্ত হওয়ার পরই সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিইসি বলেছেন, ‘সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করাকে আমরা জীবনের শেষ দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি। সব পক্ষের সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়।’
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর অংশীজনদের সঙ্গে নির্বাচনি সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। ওইদিন সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সংলাপ হয়। এরপর সোমবার ৬ অক্টোবর দিনব্যাপী প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাসে বসে ইসি। ৭ অক্টোবর ইসির সংলাপে যোগ দেন বিশেষজ্ঞ ও নারীনেত্রীরা।