সড়ক ও জনপথ বিভাগের দীর্ঘদিনের ‘টেন্ডার সিন্ডিকেট’ এখনো ভাঙা সম্ভব হয়নি বলে অকপটে স্বীকার করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। বিদ্যমান সরকারি ক্রয় আইন বা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলসের (পিপিআর) মারপ্যাঁচেই এই সিন্ডিকেট টিকে আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিদ্যুৎ ভবনে সড়ক বিভাগের বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারার কারণ
উপদেষ্টা জানান, বিদ্যমান আইনের কিছু শর্তের কারণে নতুনরা কাজ পাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা টেন্ডার সিন্ডিকেট এখনো পুরোপুরি ভাঙতে পারিনি। এর কারণ হলো আমাদের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস। সেখানে অভিজ্ঞতার যে শর্ত দেওয়া আছে, তার ফলে দেখা যায় একজন ঠিকাদারই ২০ থেকে ৩০টি কাজ পাচ্ছেন, অথচ অন্যরা কোনো কাজই পাচ্ছেন না।’
তিনি আরও জানান, এই অভিজ্ঞতার শর্ত বা ‘ওয়েটেজ’ ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে নতুন এবং যোগ্য ঠিকাদাররা সড়ক নির্মাণে যুক্ত হতে পারেন, সেজন্য বিধিমালা সংশোধন করা হচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনা ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “এখন থেকে আর শুধু ডাম্পিং নয়, বরং ‘স্ক্র্যাপ নীতিমালা’ কার্যকর করা হচ্ছে। ২-৩ বার ফিটনেস ফেইল করলে সেই গাড়ি চিরতরে ধ্বংস বা স্ক্র্যাপ করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া চালকদের দক্ষতা বাড়াতে লাইসেন্স পাওয়ার আগে ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নেওয়ার নিয়ম চালু করা হচ্ছে। বিআরটিসির পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অনুমোদিত বেসরকারি ড্রাইভিং স্কুল থেকেও এই প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে।”
দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণে সহজ নিয়ম
দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দাবির সময়সীমা এক মাস থেকে বাড়িয়ে তিন মাস করা হয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, ‘মানুষ স্বজন হারানোর শোকে আচ্ছন্ন থাকে বলে এক মাসের মধ্যে আবেদন করতে পারত না। এখন সময় বাড়ানো হয়েছে এবং পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোই দুর্ঘটনার তথ্য দিয়ে পরিবারকে সহায়তা করবে।’
জয়ন্ত/এসজি/