আগে প্লাস্টিকের মতো বাজেটের আকার বাড়ানো হয়েছে। তাই বিনিয়োগ বাড়েনি, কর্মসংস্থানও হয়নি এবং মনগড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব প্রকাশ করা হতো বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: এসএমই খাতের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- এনবিআরের সদস্য (করনীতি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘জিডিপিতে আমাদের দেশে এসএমই খাতের অবদান মাত্র ৩৪ শতাংশ। ভারতে এটি ৪৫ শতাংশ এবং জাপানে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। আমরা দায়িত্ব নিয়ে বাজেটে এসএমই খাতকে গুরুত্ব দিয়েছি। আগের তুলনায় বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে এসএমই খাতকে আরও চাঙ্গা করতে হবে।’
দেশে বর্তমানে ১৫টি চিনিকলের মধ্যে ৯টি চালু এবং ৬টি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লাভে থাকলেও তা চিনি বিক্রির কারণে নয়, বরং তাদের ডিস্টিলারি ইউনিটের কারণে। আমাদের বুঝতে হবে, এসব চিনিকল ৬০-৭০ বছর আগে স্থাপিত হয়েছিল। তখনকার বাস্তবতা আর আজকের প্রেক্ষাপট এক নয়।
আখ চাষের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আখভিত্তিক চিনিকলগুলোর ধারণা অনেকটা গল্ফ খেলার মতো। গল্ফ যেমন একটি বিলাসী খেলা গাড়িতে গিয়ে একটি শট খেলে আবার গাড়িতে উঠে যাওয়া, আখও অনেকটা তেমন। একটি আখের ফসল ঘরে তুলতে ১৪ মাস সময় লাগে, অথচ সেই আখ দিয়ে মিল চলে মাত্র তিন মাস। বছরে মাত্র তিন মাস চালানোর জন্য একটি কারখানা সচল রাখা এখন আর অর্থনৈতিকভাবে সম্ভব নয়।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘চিনিকলগুলোকে লাভজনক করতে সুগার বিট চাষের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিট চাষে সময় লাগে মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ মাস। ফলে বাকি সময়ে ওই জমিতে অন্য ফসল চাষ করা সম্ভব এবং বিটের পুরো অংশই ব্যবহারযোগ্য। আমরা কিছু চিনিকলকে বিট সুগার মিলে রূপান্তর করব। আবার অনেক জায়গার বড় বড় খালি জমিতে প্লট করে শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হবে।’
তিনি জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন তিনটি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কারখানার উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে রোড শো করা হয়েছে। এ বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছেও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের জন্য জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আকর্ষণীয় প্যাকেজ তৈরি করা হবে। সেখানে পুরোনো কারখানাই চালাতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না। বরং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে মূল লক্ষ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি সার কারখানাগুলো অত্যন্ত লাভজনক। কিন্তু গ্যাসের অভাবে বছরের অনেকটা সময় এগুলো বন্ধ রাখতে হয়, ফলে ডলার ব্যয় করে বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে শুধুমাত্র সার কারখানাগুলোর জন্য একটি ডেডিকেটেড গ্যাস নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি সফল হলে সারাবছর কারখানাগুলো চালু রাখা সম্ভব হবে। তখন আর সার আমদানির প্রয়োজন হবে না। বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
জাহাঙ্গীর/রিফাত/