রাজধানীর পল্লবীর পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তার। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওই স্কুলে যান রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। সেখানে গিয়ে রামিসার সহপাঠীদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়ে রামিসার সহপাঠীরাও। তারা একে অপরকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু কান্না যেন কারোরই থামছিল না।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রামিসার সহপাঠীরা বলে, ‘রামিসাকে কখনোই ভোলা যাবে না। এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। খুনি যেন কোনোভাবেই পার না পায়।’
রামিসা হত্যার ঘটনায় শুধু রাজধানীর পল্লবী বা মিরপুর নয়, শোকে কাতর সারা দেশের মানুষ। এমন নৃশংসতার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। গতকাল সকালে পল্লবীতে রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ করেছেন সহপাঠী এবং এলাকাবাসী। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও হত্যাকারীর দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আহ্বানে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছে জনতা।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এলাকাবাসী ও সহপাঠীরা পল্লবী থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে থানার ভেতরে ঢুকে পড়েন তারা। রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কারাগারে না রেখে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সোহেল রানার (৩২) স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে আসামি সোহেল রানা।