ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে তারল্যসংকটে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও জোন পরিচালক অধ্যাপক নূর নবী মানিক।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে তারল্যসংকটে রয়েছে। অনেক গ্রাহক চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। বিভিন্ন এটিএম বুথেও নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে লুটেরাদের অপসারণ করতে হবে।
সোমবার (১ জুন) নূর নবী মানিক বলেন, গত ২৪ মে দেশের বিভিন্ন শাখার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি আমলে নেয়নি।
ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের বিবৃতিতে ব্যাংক পরিচালনার বিষয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নূর নবী মানিক অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংককে আগের মালিকানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নূর নবী মানিক বলেন, নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
সোমবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে সকালে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল করে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিতে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ করে ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ।
ঘটনার একপর্যায়ে পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিপেটা, জলকামান, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।
পুলিশি বাধার পরও গ্রাহক ফোরামের নেতারা পুনরায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে প্রকাশ্য কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচিতি ছিল না। ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত ব্যানারে এই আন্দোলনকারীদের পরিচিতি ছিল ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। তবে পরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই আন্দোলনকারীদের পরিচিতি ছিল ‘ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’। এ ঘটনায় একমাত্র রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ বিবৃতি দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
আন্দোলনকারী গ্রাহকদের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও জোন পরিচালক নূর নবী মানিক।
আন্দোলনকারী অন্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর পল্টন থানার আমির মো. শাহীন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মনজুর ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খান, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় মো. হাসান, জামায়াতে ইসলামীর কোতোয়ালি থানার আমির মতিউর রহমান, ওয়ারী থানার নেতাসহ দলটির অন্য নেতা-কর্মীরা।
বিক্ষোভের সময় ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন কয়েক হাজার গ্রাহক। তারা সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপ্রীতিকর বক্তব্য ও স্লোগান দেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মানববন্ধন শুরু হলে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিক্ষাভকারীদের ওপর জলকামান ব্যবহার করে, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং লাঠিপেটা করে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের হামলায় প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগকে নেওয়া হয় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের বিভিন্ন শাখায়।