ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
Nagad desktop

বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান ৭ বাধা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:২৪ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৩১ এএম
বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান ৭ বাধা
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

প্রতিবছরই দেশে বাজেটের আকার বাড়ে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কখনোই শতভাগ বাজেট বাস্তবায়নের রেকর্ড নেই। কাগজে-কলমে বড় বাজেট ঘোষণা করা তুলনামূলক সহজ হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবছরই নানা ধরনের কাঠামোগত, আর্থিক ও প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়ে সরকার।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাজেটের আকার প্রতিবছর জ্যামিতিক হারে বাড়লেও তা বাস্তবায়নের হার ক্রমাগত নিম্নমুখী। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরের পর দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।

এমনকি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশে। এই দীর্ঘস্থায়ী অসামঞ্জস্য প্রমাণ করে, আমাদের বাজেট ব্যবস্থাপনায় গভীর কাঠামোগত ও পরিচালনাগত সংকট বিদ্যমান।

অবাস্তব ও অতি-উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, চরম নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত, ক্রমবর্ধমান ঋণ ও সুদের চাপ, নীতিনির্ধারণের অতিকেন্দ্রীকরণ এবং দক্ষ জনবলের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা–এসব বাধা এবারের বাজেট বাস্তবায়নকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে একটা সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে–বাস্তবায়নের সক্ষমতা সীমিত হলেও কাগজে-কলমে বড় বাজেট ঘোষণা করা হয়। শোনা যাচ্ছে, এবারের বাজেট প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার হতে পারে।

কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আমার মনে হয় ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি কার্যকর বাজেট করার বাস্তব অবস্থা নেই। আমাদের বাজেট ব্যবস্থাপনায় একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন রয়েছে। প্রথমে বড় আকারের মূল বাজেট দেওয়া হয়, পরে সংশোধিত বাজেটে সেটি কমে আসে, আর অর্থবছর শেষে দেখা যায় প্রকৃত বাস্তবায়ন আরও কম হয়েছে। ফলে প্রশ্ন হচ্ছে–বড় বাজেট দিলেই কি উন্নয়ন হবে, নাকি বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়াতে হবে? আমার মতে, দ্বিতীয়টিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা

বাজেট ব্যর্থতার মূল সূত্রপাত হয় এর প্রণয়ন প্রক্রিয়া থেকে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রকৃত সক্ষমতা, করের আওতা এবং এনবিআরের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতাকে বিবেচনায় না নিয়ে প্রতিবছর একটি অতি-উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৯ শতাংশ, এর মধ্যে এনবিআরের অংশ ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা; কিন্তু অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাকি দুই মাসে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ১২৮ দশমিক ৬ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা অলৌকিক কিছু ছাড়া অসম্ভব। বিশাল এই রাজস্ব ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ে কর-জিডিপি অনুপাতে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম নিম্নপর্যায়ে রয়েছে। প্রতিবছর উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা পূরণে ব্যর্থতার নজির বেশি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কর-ব্যবস্থার জটিলতা, কর ফাঁকি, সীমিত করজাল এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায় না। ফলে সরকারকে ব্যাংকঋণ বা বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হয়।

এ প্রসঙ্গে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো অর্থের সংস্থান। রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি হলে পুরো বাজেট কাঠামোই চাপে পড়ে যায়।

রাজস্ব বাড়াতে হলে কেবল করের আওতা বাড়ানোর কথা বললেই হবে না, করনীতি ও কর প্রশাসনের কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। বর্তমানে যা হচ্ছে তা হলো–‘বোয়াল মাছ’ অর্থাৎ বড় কর ফাঁকিবাজদের ধরার পরিবর্তে ‘পুঁটি মাছ’ বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ করদাতাদের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। এতে খুব বেশি সুফল পাওয়া যাবে না। বড় কর ফাঁকি বন্ধ না করলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন আসবে না। প্রকৃত সমাধান হলো–কাঠামোগত কর সংস্কার এবং বড় কর ফাঁকিবাজদের করজালের আওতায় আনা।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমাচ্ছে ব্যয়ের কার্যকারিতা

দেশে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করায় বাজেট বাস্তবায়নে নতুন ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অবকাঠামো প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং সরকারি ক্রয়ে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় একই অর্থে কম কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন মূল্যস্ফীতি বেশি থাকে, তখন বাজেটে বরাদ্দের প্রকৃত মূল্য কমে যায়। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ে, সময়ও দীর্ঘায়িত হয়। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকারকে ভর্তুকি ব্যয় বাড়াতে হয়, যা উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য অর্থসংকট সৃষ্টি করতে পারে।

ব্যাংকঋণের ওপর অতিনির্ভরতা

যখন রাজস্ব আদায়ে ধস নামে, তখন সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে– হয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া, না হয় উন্নয়ন বাজেট কমিয়ে ফেলা। বাংলাদেশ সরকার সাধারণত দুটি পথ একসঙ্গে বেছে নেয়। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো সামাজিক খাতগুলো। এ ধারা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সামগ্রিক এডিপি ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমিয়ে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা করে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ এক ধাক্কায় ৭৩ শতাংশ কমিয়ে ১১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা থেকে ৫ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। একটি উন্নয়নশীল দেশে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো মৌলিক খাতে এমন গণহারে বাজেট কর্তন দীর্ঘ মেয়াদে মানবসম্পদ উন্নয়নকে পঙ্গু করে দেয়।

এ ছাড়া রাজস্ব ঘাটতি পূরণে সরকার প্রায়ই ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়। কিন্তু ব্যাংক খাত নিজেই বর্তমানে তারল্য সংকট, খেলাপি ঋণ এবং আস্থাহীনতার সমস্যায় রয়েছে। তার ওপর সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে, যাকে ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’ বলা হয়। এতে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি

বাংলাদেশে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় সমস্যা হলো প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি। প্রায়ই দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথমার্ধে ব্যয় কম হয়, আর শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে খরচ বাড়ানো হয়। এতে ব্যয়ের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অনেক প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, দরপত্র বিলম্ব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দুর্বল সমন্বয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয় না। তাই শুধু বড় বাজেট ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এখন জরুরি বলে মনে করছেন ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্যা বাজেটের আকারে নয়, বাস্তবায়ন সক্ষমতায়। বরাদ্দ দেওয়া সহজ, কিন্তু সঠিকভাবে খরচ করাই বড় চ্যালেঞ্জ।’

বৈদেশিক অর্থায়নে অনিশ্চয়তা

বড় অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ডলারসংকট, ঋণের কঠোর শর্ত এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাজেট বাস্তবায়নে ঝুঁকি তৈরি করছে। ডলারের চাপের কারণে আমদানিনির্ভর প্রকল্প ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। এতে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

রাজনৈতিক ও নীতিগত ধারাবাহিকতার প্রশ্ন

বাজেট বাস্তবায়নের জন্য শুধু অর্থ নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নীতিগত ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। কর সংস্কার, ভর্তুকি সংস্কার বা ব্যয় দক্ষতা বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত প্রায়ই রাজনৈতিক কারণে ধীরগতির হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ঘাটতি থাকলে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নীতির ধারাবাহিকতা, প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানো এবং দুর্নীতি কমাতে বড় ধরনের সংস্কার দরকার। 

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা

প্রতিবছর বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি থাকে। কিন্তু বাস্তবায়ন দুর্বল হলে সাধারণ মানুষ তার সুফল পুরোপুরি পান না। বাজেট বাস্তবায়নের হার বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে না পারলে বড় বাজেটের সুফল সীমিতই থেকে যাবে।

অর্থনীতির বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে বাজেট বাস্তবায়ন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কঠিন হতে পারে। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া উচ্চাভিলাষী বাজেট বাস্তবায়ন বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কেবল বড় অঙ্কের বাজেট ঘোষণা নয়, বরং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬
ছবি: সংগৃহীত

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৫৩ জনের।

শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৯২ শিশু। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪৩ জনে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ২৬৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জনের শরীরে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১০ হাজার ১৮৫ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৫ হাজার ২৭৫ জন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে খুলনায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

লাইসেন্স বাতিল হওয়া মগবাজারের আদ-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো (রেফারকৃত) রোগীদের তাৎক্ষণিক ভর্তি ও যথাযথ চিকিৎসা দিতে রাজধানীর বড় ছয়টি সরকারি হাসপাতালকে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক সরকারি চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে৷  

এর আগে গত ১১ জুন এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ঢাকার বড় মগবাজারের আদ-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন বা সেখান থেকে স্থানান্তরিত রোগীদের চিকিৎসা সংকট এড়াতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

যে ছয়টি সরকারি হাসপাতালকে আদ-দ্বীনের রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও ভর্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—
 # ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
 # স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
 # শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
 # মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
 # কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল
 # বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, আদ-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উক্ত হাসপাতাল থেকে রেফারকৃত কোনো রোগী এলে তাকে যেন ফিরিয়ে না দিয়ে তাৎক্ষণিক যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা হয়। 

জয়ন্ত সাহা/এসএন

হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন শেষে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৫২৪৯১ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন।

 শুক্রবার (১২ জুন) হজ অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, তিনটি নির্ধারিত বিমান সংস্থার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মোট ১২৩টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫৫টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৪৭টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১২৩টি ফ্লাইটের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ২৮৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় ৪৮ হাজার ২০২ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।

এবার হজ পালন করতে গিয়ে ৩৩ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারীসহ মোট ৪৯ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৫ জন, মদিনায় ১৩ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন।

হজ বুলেটিন অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪১০ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌদি আরবের মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬২ হাজার ২৪৩ জনকে এবং আইটি হেল্প ডেস্ক মক্কা ও মদিনায় ২৭ হাজার ৪১০ জন হাজিকে সেবা প্রদান করেছে।

এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ২১ মে প্রাক হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজ শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

এসএন/

সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:২১ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ । ছবি: সংগৃহীত

‘গণমানুষের বাজেট’ আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে। যারা দলীয়করণ বলছে, তারা খুবই নিকৃষ্ট লোক।’

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে কক্সবাজার পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ কী বিএনপির জন্য নেওয়া হয়েছে। অবশ্যই নয়, এটি বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তসহ সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। মানুষের চাহিদা হলো— নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই বাজেট কি গণমুখী নয়? এটি কি দরিদ্রবান্ধব নয়? এটি কি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন নয়? নিঃসন্দেহে এই বাজেট গণমুখী, দরিদ্রবান্ধব এবং জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এছাড়া আমাদের যে অঙ্গীকারগুলো ছিল— কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, সেসব বিষয়ও এই বাজেটে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এই বাজেটে একদিকে জনগণের ওপর করের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে রাজস্ব আয়ের পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলে উন্নয়ন বাজেটে দেশীয় আয়ের অবদানও বাড়বে। আমরা যদি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সবসময় ব্যাংক ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকি, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরশীলতার চক্র থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না। সেই লক্ষ্য থেকেই আমরা রাজস্বভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এটিই আমাদের সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং নির্বাচনী জোটের সমর্থনে গঠিত সরকারের বাজেট। কেউ যদি এটিকে ‘দলীয় বাজেট’ বলে আখ্যায়িত করেন, তাহলে আমি বলব— গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারের বাজেটকে শুধুমাত্র দলীয় বাজেট হিসেবে চিহ্নিত করা একটি অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত মন্তব্য।

এসএন/

ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:১২ পিএম
ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় এক ঘণ্টা বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক হয়েছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামসহ মেটার বেশির ভাগ প্ল্যাটফর্ম।

এর আগে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বড় ধরনের বিভ্রাটের খবর আসে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। আর সচল হওয়ার খবর পাওয়া যায় রাত সোয়া ৮টার দিকে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেবা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম— ডাউনডিটেক্টরে জমা হওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটের পর থেকে ফেসবুকের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারে সমস্যা নিয়ে অভিযোগ বাড়তে থাকে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে অ্যাপ ব্যবহারে।

ডাউনডিটেক্টরের পরিসংখ্যান বলছে, মোট অভিযোগের ৫৬ শতাংশই ছিল অ্যাপ-সংক্রান্ত। এছাড়া ২৬ শতাংশ ব্যবহারকারী লগইন সমস্যার কথা জানান। ওয়েবসাইট ব্যবহারে সমস্যার অভিযোগ আসে ১১ শতাংশ প্রতিবেদনে।

ব্যবহারকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, রোমানিয়া, মিয়ানমার, মধ্যপ্রাচ্য ও ফিলিপিন্সসহ বিশ্বের নানা অংশে সেবা বন্ধ থাকে।

সমস্যার কারণে কিছু ব্যবহারকারী ফেসবুক অ্যাপ চালু করতে, অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে কিংবা স্বাভাবিকভাবে সেবা ব্যবহার করতে বাধার মুখে পড়েন।

এসএন/