ঢাকা ৫ শ্রাবণ ১৪৩১, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪

সরকারের গণবিরোধী নীতির কারণে সবকিছুর দাম বেড়েছে: রিজভী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০১:৩৭ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০১:৩৭ পিএম
সরকারের গণবিরোধী নীতির কারণে সবকিছুর দাম বেড়েছে: রিজভী
ছবি : খবরের কাগজ

সরকারের গণবিরোধী নীতির কারণে জ্বালানি তেল, পানি ও বিদ্যুৎসহ সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

তিনি বলেন, ‘তথাকথিত উন্নয়নের নামে প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার পরিবার ও আপনার ঘনিষ্ঠজনকে লুট করার সুযোগ দিয়েছেন। তারা সাধারণ মানুষের জমিজমা ও সম্পদ দখল করেছে। আজকের পত্র-পত্রিকায় তা আসছে। আপনি বলেছেন, আপনি কাউকে ছাড়েন না। আপনিতো বেনজিরকে দেশ থেকে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।’

বুধবার (১৮ জুন) বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

পরে রিজভীর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে আবার নয়াপল্টনে এসে শেষ হয়।

রিজভী বলেন, ‘গ্রামে বিদ্যুৎ শুধু যায়, আসে না, কখন আসে তার কোনো ঠিক নেই। যারা গ্রামের ঈদ করতে গিয়েছিলেন, তারা এসে অনেকে বলেছেন যতটুকু আইপিএসের ব্যাকআপ দরকার সেটুকুতে কিছুই হয়নি। আপনারা দেখেছেন এই ঈদে ঢাকায় গ্যাসের অভাবে মানুষ রান্না করতে পারেনি। বাড়িতে বাড়িতে মাংস নষ্ট হয়ে গেছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে। ফ্রিজ চলে না বিদ্যুতের জন্য, গ্যাসের জন্য আগুন জ্বলে না। শেখ হাসিনার উন্নয়ন আজকে ধপাস করে পড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘ওয়াসার পানি নোংরা ও কীটপতঙ্গে ভরা ময়লা পানি। এক বছর আগে জনগণ ওয়াসার এমডিকে ঘেরাও করেছিলেন। তাকে ওয়াসার পানি খেতে দেওয়া হয়েছিল, সে পানি ওয়াসার এমডি খায়নি। সে ব্যক্তি পানির দায়িত্বে তিনি যদি এই পানি না খান তাহলে সাধারণ মানুষ খাবে কেন?’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বেনজীরের পরিবারে দেশের ভেতরে এত টাকা, তাহলে দেশের বাইরে কত টাকা পাচার করেছেন? একজন সরকারি কর্মকর্তার বেতন কত? তার বেতন হয়তো ৮০-৯০ হাজার টাকা ছিল। তাহলে তার সন্তানদের নামে এত ফ্লাট, বাড়ি, জায়গা-জমি কোথায় থেকে হলো প্রধানমন্ত্রী? কারণ তথাকথিত উন্নয়নের নামে আপনি সুযোগ করে দিয়েছেন বেনজিরদেরকে এবং আপনার ঘনিষ্ঠজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের।’

রিজভী আহমেদ বলেন, ‘আমরা জনগণের পক্ষে, আমরা ন্যায়ের পক্ষে, আমরা অবাধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে। আমাদের রাজপথে আরও জোড়ালোভাবে নামতে হবে। আমাদের হয়তো গুলি করবে, গুম করবে ও ক্রসফায়ার দেবে। তবুও আমাদের শেখ হাসিনার রাজ সিংহাসনকে রাস্তায় উল্টে দিতে হবে।’

মিছিলে আরও অংশ নেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম, সহ-অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের সদস্যসচিব আব্দুর রহিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, যুবদলের সাবেক সহসভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকী, যুবদলের সাবেক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মামুন, ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল, বিএনপি নেতা ডা. তাজুল ইসলাম লোহানী, বিএনপি নেতা ইমতিয়াজ বকুল, জাকির হোসেন, সঞ্জয় দে রিপন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান আউয়াল, মৎস্যজীবী দলেল যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক পাটোয়ারি, কবির উদ্দিন মাস্টার, উত্তরের আহ্বায়ক আমির হোসেন, যাত্রাবাড়ি থানা বিএনপি নেতা শিপন খান, ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ জামাল চৌধুরী আদিত্য, সাব্বির আহমেদ, জাভেদ চৌধুরী, যুবদল নেতা খলিল মৃধা, কাজী মনঞ্জুর রহমান, ছাত্রদল নেতা জাকারিয়া হোসেন ইমন, আশরাফুল আসাদসহ কয়েকশ নেতাকর্মী।

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/

গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:১৫ পিএম
গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জে আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা তৈরীর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। 

বিক্ষোভ মিছিলটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় পৌর যুবলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লিংকন মোল্যা, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি এস এম দ্বীন ইসলাম বক্তব্য রাখেন। 

এ কর্মসূচিতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটির নেতারা অংশ নেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘আন্দোলনের নামে সারা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে। এ আন্দোলনের নামে মহান স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করে রাজকারদের প্রতি সাফাই গাওয়া হচ্ছে। যা কখনো ছাত্রলীগ মেনে নেবে না। আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত ও শিবির তাদের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। ছাত্রলীগ তা প্রতিহত করবে।’ 

বাদল সাহা/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা দেশে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালাচ্ছে: কাদের

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৬ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৬ পিএম
বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা দেশে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালাচ্ছে: কাদের
ওবায়দুল কাদের

বিএনপি-জামায়াতের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা সারা দেশে ব্যাপক সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘তাদের লক্ষ্য, সরকার হটানোর দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন। কোটা তাদের কাছে কোনো ইস্যু নয়।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন।

অশুভ শক্তির ঘৃণ্য তৎপরতা থেকে মাতৃভৃমিকে রক্ষায় সারা দেশের নেতা-কর্মীদের সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকার নির্দেশ দেন কাদের।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ।

রাজু/সালমান/

আন্দোলনত শিক্ষার্থীরা মুক্তির সন্তান: রিজভী

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০২:৫০ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০২:৫০ পিএম
আন্দোলনত শিক্ষার্থীরা মুক্তির সন্তান: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুক্তির সন্তান বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। বৈষম্যবিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যেন স্বপ্নের বিপ্লব হয়ে ওঠছে। আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুক্তির সন্তান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। 

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা যেমন সেদিন তরুনদের ফরাসি বিপ্লব দেখেছি, আমরা যেমন মার্কিন স্বাধীনতার বিপ্লব দেখেছি এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। ফরাসি বিপ্লবের মূল্যমন্ত্র  স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব বা মৃত্যু তার প্রতিধ্বনি দেখতে পাচ্ছি সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে। ১৭৭৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা বিপ্লব সংঘটিতে হয়েছিল, সেখানে স্বাধীনতার লড়াইয়ের জন্য যারা সংগ্রাম করেছেন, সেখানেও তৈরি হয়েছিল আমাদের ‘৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতো সন অব লিবার্টি অর্থাৎ মুক্তিরপুত্র তারা। এই কোটা সংস্কার আন্দোলনের জন্য যারা লড়াই করছেন, জীবন দিচ্ছেন তারা সবাই মুক্তির সন্তান।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দাবি আদায়ের লড়াইয়ে ছাত্রলীগ ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ আক্রমণ করে এ পর্যন্ত আটজন নিষ্পাপ মাছুম কিশোর তরুণকে হত্যা করা হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে এই আক্রমণ চলছে। গুলি, রাবার বুলেট, টিয়ার সেল,সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে রণক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ডাকা শান্তিপূর্ণ কমপ্লিট শাটডাউন চলমান কর্মসূচিতে বিজিবি, র‌যাব, পুলিশ,সোয়াত পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর মতো ন্যাক্কারজনক হামলা চালাচ্ছে। এর সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগ আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরাও আক্রমণ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, বেগম রোকেয়াসহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অধিকারের পতাকা নিয়ে স্বৈরাচারের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে- এটা যেন বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের জন্য সেই হীরণ্ময় প্রেরণা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভারতের একজন চিত্রশিল্পী একটি কার্টুনও এঁকেছেন। কোটা সংস্কারের এই আন্দোলন দেশের অধিকারহারা মানুষকে উৎসাহ দিচ্ছে, অনুপ্রাণিত করছে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিকের করা এক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী।

এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবনকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ স্টেটমেন্ট দিয়ে বলেছে শ্রাবনকে নাকি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমাম হোসেন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম আমার সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছিলেন। আমি লেখালেখি শেষ করে যখন বের হয়ে যাই, ওরাও তখন বের হয়ে যায়। যাওয়ার পথে রাস্তা থেকে অথবা অন্য কোনো স্থান থেকে ধরে এনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক দেখানো হয়েছে। 

এছাড়াও রাজশাহী জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল সরকার বিকো, টাঙ্গাইল শহর বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান আলম, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ কবির সুমন, সদর ছাত্রদলের শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাজীপুর, চাঁদপুর,ফরিদপুর বিএনপি অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সারাদেশে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মিজানুর রহমান/অমিয়/

স্বাধীনতাবিরোধীরা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে: চসিক মেয়র

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ১০:০৩ এএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ১১:০৬ এএম
স্বাধীনতাবিরোধীরা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে: চসিক মেয়র
ছবি: খবরের কাগজ

কোটা আন্দোলনের নামে স্বাধীনতাবিরোধীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে মেয়রের আহ্বানে নগরীর মুরাদপুর সিরাজ শপিং কমপ্লেক্স চত্বরে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধীরা একাত্তরে পরাজয়ের যন্ত্রণা আজও ভুলতে পারেনি। এ কারণে সুযোগ পেলেই বিভিন্ন ইস্যুতে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা করে তারা। কোটা আন্দোলনের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, একটি অশুভ শক্তি বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষের সঙ্গে লড়াই করে অতীতে সফল হতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। সাধারণ ছাত্রসমাজ নিরীহ, তারা উচ্ছৃঙ্খল নয়। এদেরকে সামনে রেখে জামায়াত-শিবিরসহ সবগুলো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি একজোট হয়ে মাঠে নেমেছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক শেখ হাসিনার কর্মীরা ধৈর্য ধারণ করে আছি এবং সজাগ দৃষ্টি রাখছি কখন স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে মোকাবিলা করতে হবে। একাত্তরে যে হাতে অস্ত্র চালিয়েছি, সেই হাত আজও সচল আছে। প্রয়োজনে একাত্তরের মতো আবারও স্বাধীনতাবিরোধীদের মোকাবিলা করব আমরা।’

মেয়র আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত দেবেন কখন কি করতে হবে। তার সিদ্ধান্তের আগে আমরা কোনো কিছুতে এগিয়ে যাব না। আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি আমাদের ভাইদের যারা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ছয়তলা থেকে ফেলে দিয়েছে, রগ কেটে দিয়েছে, মাথার খুলি বের করে দিয়েছে। এরা কারা? এদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে।’ 

এ সময় বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য আবদুচ ছালাম, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, সিডিএ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুছ, শফিক আদনান, মশিউর রহমান, চন্দন ধর, হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, দেবাশীষ নাথ দেবু, আজিজুর রহমান আজিজ, এম আর আজিম, মো. সালাউদ্দিন,কাউন্সিলর এম আশরাফুল আলম, মো. মোবারক আলী, নুরুল আলম মিয়া, আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল, মো. ইসরারুল হক, নুর মোস্তফা টিনু, এরশাদুল আলম বাচ্চু, মো. ইলিয়াছ প্রমুখ।

সভা শেষে মেয়রের নেতৃত্বে শত শত নেতা-কর্মীসহ নাগরিকরা মিছিল নিয়ে মুরাদপুর থেকে ওয়াসা পর্যন্ত বিক্ষোভ করে জমিয়তুল ফালাহ্ জাতীয় মসজিদ ময়দানে নিহত ছাত্রলীগ কর্মীদের গায়বানা জানাজায় অংশ নেন।

ইফতেখারুল/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

কোটা আন্দোলনে ৬ জন নিহতের ঘটনায় হেফাজতের নিন্দা

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৯:১০ এএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ১২:২৬ পিএম
কোটা আন্দোলনে ৬ জন নিহতের ঘটনায় হেফাজতের নিন্দা
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় শিক্ষার্থীসহ ছয়জন নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

বুধবার (১৭ জুলাই) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজেদুর রহমান এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে দুই নেতা বলেন, ‘ঢাবিসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শান্তিপ্রিয় শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে ছয় শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে। মেয়েদেরকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। এমনকি হাসপাতালে ঢুকেও আহতদের ওপর হামলা করা হয়েছে। যুদ্ধের ময়দানেও নারীদের ওপর আক্রমণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনেরও চরম লঙ্ঘন। অথচ আলোকিত জাতীয় বিদ্যাপীঠে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর এমন নৃশংস হামলা কোনো বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারেন না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তারা বলেন, ‘কোটা সংস্কারের দাবি অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত একটি দাবি। কোটার নামে মেধাবীদের বঞ্চিত করা জুলুম। ইসলাম সব ধরনের জুলুম ও বৈষম্যের বিপক্ষে। সংবিধান অনুযায়ী কোটা প্রাপ্যদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ন্যায়ানুগ অনুপাতে আলোচনার মাধ্যমে কোটা সংস্কার করে বিদ্যমান সংকট ও অস্থিরতার নিরসন করা সম্ভব। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরপেক্ষ রাখা জরুরি। দমন-পীড়নের মাধ্যমে সমাজকে বিভক্ত করলে তা রাষ্ট্রের শেকড়কে দুর্বল করে দেয়। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।’

নেতারা বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতো। তারা দেশের ভবিষ্যৎ। আলোচনার মাধ্যমে তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবির সমাধানের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। আমরা নিহতদের পরিবারকে গভীর সমবেদনা এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থার জন্য দাবি জানাচ্ছি।’

এ ছাড়া তারা আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং নিহতদের মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সবুজ/পপি/অমিয়/