ঢাকা ৭ শ্রাবণ ১৪৩১, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪

বরিশাল যুবলীগ: ৩ বছরের কমিটি চলছে ৩১ বছর!

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০৯:৪৭ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:০৮ পিএম
বরিশাল যুবলীগ: ৩ বছরের কমিটি চলছে ৩১ বছর!
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

১৯৯৩ সালের ১৯ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে বরিশাল জেলা যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। ওই সম্মেলনে জাকির হোসেন সভাপতি ও ফজলুল করিম শাহীন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে ২০০৪ সালে নিজামুল ইসলাম নিজামকে আহ্বায়ক, মেজবাহ উদ্দিন জুয়েল, মাহমুদুল হক খান মামুন ও সাহিন সিকদারকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে মহানগর যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। 

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছরের জন্য করা জেলা কমিটির বয়স হয়েছে এখন ৩১ বছর! আর তিন মাসের মহানগর আহ্বায়ক কমিটি চলছে ২০ বছর ধরে! এরই মধ্যে যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদের অনেক নেতা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন যুবলীগের পদ! নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি না হওয়ায় আওয়ামী লীগের সহযোগী এই সংগঠনটি এখন ঝিমিয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতির জন্য জেলা ও মহানগর যুবলীগ নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটির উদাসীনতাকে দায়ী করছেন। 

স্থানীয় যুবলীগ সূত্র জানায়, ৩১ বছর আগে জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া জাকির হোসেন বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

এ ছাড়া ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম শাহিন রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে। ওই কমিটির চার নেতা এরই মধ্যে মারা গেছেন। কয়েকজন থাকছেন প্রবাসে। দেশে যারা আছেন তাদের বেশির ভাগই নিষ্ক্রিয়। অন্যদিকে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক নিজামুল ইসলাম নিজাম এখন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। 

মহানগর কমিটির তিন যুগ্ম আহ্বায়কের মধ্যে মেজবাহ উদ্দিন জুয়েল ও সাহিন সিকদার রাজনীতিতে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। মাহমুদুল হক খান মামুন ২০১৩ সালে দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরনের বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় বহিষ্কার হয়েছেন। জেলা ও মহানগর যুবলীগের কমিটিতে যারা আছেন তাদের বেশির ভাগই বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। ২০১৯ সালে যুবলীগের বয়স সীমা ৫৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। অধিকাংশ নেতা-কর্মী সেই নির্ধারিত বয়স সীমা আরও ১০ বছর আগেই অতিক্রম করেছেন। 

যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব প্রত্যাশী একাধিক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বলেছেন, তিন দশক ধরে জেলা ও দুই দশক ধরে মহানগরের নেতারা পদপদবি আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। তাদের কারণে ছাত্রলীগের অনেক নেতাও যুবলীগ করার বয়স হারিয়েছেন। এতে যুবলীগে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যুবলীগ নেতা জানান, বরিশালের আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন অনেকটা নির্ভর করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ মতামতের ওপর। তবে সম্প্রতি তার বিরোধী শিবির হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম ও হাসানাত আবদুল্লাহ্‌র ছোট ভাই আবুল খায়ের আবদুল্লাহ্ যুবলীগের কমিটি গঠনের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আবুল হাসানাতের মতামত ছাড়াই সেই চেষ্টায় সফলতা আসবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের বরিশালের কমিটি গঠনের বিষয়ে উদাসীনতা রয়েছে।
 
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে তিনটিতে আহ্বায়ক কমিটি এবং সাতটিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে।’ 

তিনি দাবি করেন, ‘কমিটি তিন দশকের পুরোনো হলেও সাংগঠনিক কার্যক্রমে আমরা পিছিয়ে নেই। আমাদের বিশাল কর্মী বাহিনী দিয়ে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করা হয়। কমিটি গঠন কিংবা সম্মেলনের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা এলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। কমিটি হলে যুবলীগে নতুন নেতৃত্ব আসবে।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক নিজামুল ইসলাম নিজাম বলেন, ‘যুবলীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন না আসায় আওয়ামী লীগেও নতুন নেতৃত্ব আসছে না। জেলা ও মহানগরে কমিটি দিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্যোগ নিতে হয়। কিন্তু তেমন কিছু আমরা দেখতে পারছি না। যুবলীগকে আরও শক্তিশালী করতে সম্মেলন জরুরি হয়ে পড়েছে।’

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি দিলে সংগঠন শক্তিশালী হয়। নতুন নেতৃত্ব আসে। রাজনীতিতে গতি আসে।’ 

একই ব্যক্তি আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার বিষয়টি তালুকদার মো. ইউনুসের নজরে আনা হলে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে দুই সংগঠনে একসঙ্গে থাকার বিষয়টি নিয়ে কোনো কিছু উল্লেখ নেই। তবে, যুবলীগের পরবর্তী কাউন্সিলে তারা আর থাকতে পারবেন না।’
 
যুবলীগের বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বদি খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিভাগের বরিশাল মহানগর, জেলা ও ঝালকাঠি জেলা যুবলীগের সম্মেলন হয়নি। অচিরেই এই তিন সাংগঠনিক ইউনিটের সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।’

গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:১৫ পিএম
গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জে আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা তৈরীর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। 

বিক্ষোভ মিছিলটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় পৌর যুবলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লিংকন মোল্যা, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি এস এম দ্বীন ইসলাম বক্তব্য রাখেন। 

এ কর্মসূচিতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটির নেতারা অংশ নেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘আন্দোলনের নামে সারা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে। এ আন্দোলনের নামে মহান স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করে রাজকারদের প্রতি সাফাই গাওয়া হচ্ছে। যা কখনো ছাত্রলীগ মেনে নেবে না। আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত ও শিবির তাদের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। ছাত্রলীগ তা প্রতিহত করবে।’ 

বাদল সাহা/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা দেশে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালাচ্ছে: কাদের

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৬ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৬ পিএম
বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা দেশে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালাচ্ছে: কাদের
ওবায়দুল কাদের

বিএনপি-জামায়াতের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা সারা দেশে ব্যাপক সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘তাদের লক্ষ্য, সরকার হটানোর দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন। কোটা তাদের কাছে কোনো ইস্যু নয়।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন।

অশুভ শক্তির ঘৃণ্য তৎপরতা থেকে মাতৃভৃমিকে রক্ষায় সারা দেশের নেতা-কর্মীদের সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকার নির্দেশ দেন কাদের।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ।

রাজু/সালমান/

আন্দোলনত শিক্ষার্থীরা মুক্তির সন্তান: রিজভী

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০২:৫০ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০২:৫০ পিএম
আন্দোলনত শিক্ষার্থীরা মুক্তির সন্তান: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুক্তির সন্তান বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। বৈষম্যবিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যেন স্বপ্নের বিপ্লব হয়ে ওঠছে। আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুক্তির সন্তান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। 

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা যেমন সেদিন তরুনদের ফরাসি বিপ্লব দেখেছি, আমরা যেমন মার্কিন স্বাধীনতার বিপ্লব দেখেছি এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। ফরাসি বিপ্লবের মূল্যমন্ত্র  স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব বা মৃত্যু তার প্রতিধ্বনি দেখতে পাচ্ছি সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে। ১৭৭৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা বিপ্লব সংঘটিতে হয়েছিল, সেখানে স্বাধীনতার লড়াইয়ের জন্য যারা সংগ্রাম করেছেন, সেখানেও তৈরি হয়েছিল আমাদের ‘৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতো সন অব লিবার্টি অর্থাৎ মুক্তিরপুত্র তারা। এই কোটা সংস্কার আন্দোলনের জন্য যারা লড়াই করছেন, জীবন দিচ্ছেন তারা সবাই মুক্তির সন্তান।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দাবি আদায়ের লড়াইয়ে ছাত্রলীগ ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ আক্রমণ করে এ পর্যন্ত আটজন নিষ্পাপ মাছুম কিশোর তরুণকে হত্যা করা হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে এই আক্রমণ চলছে। গুলি, রাবার বুলেট, টিয়ার সেল,সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে রণক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ডাকা শান্তিপূর্ণ কমপ্লিট শাটডাউন চলমান কর্মসূচিতে বিজিবি, র‌যাব, পুলিশ,সোয়াত পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর মতো ন্যাক্কারজনক হামলা চালাচ্ছে। এর সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগ আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরাও আক্রমণ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, বেগম রোকেয়াসহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অধিকারের পতাকা নিয়ে স্বৈরাচারের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে- এটা যেন বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের জন্য সেই হীরণ্ময় প্রেরণা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভারতের একজন চিত্রশিল্পী একটি কার্টুনও এঁকেছেন। কোটা সংস্কারের এই আন্দোলন দেশের অধিকারহারা মানুষকে উৎসাহ দিচ্ছে, অনুপ্রাণিত করছে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিকের করা এক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী।

এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবনকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ স্টেটমেন্ট দিয়ে বলেছে শ্রাবনকে নাকি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমাম হোসেন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম আমার সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছিলেন। আমি লেখালেখি শেষ করে যখন বের হয়ে যাই, ওরাও তখন বের হয়ে যায়। যাওয়ার পথে রাস্তা থেকে অথবা অন্য কোনো স্থান থেকে ধরে এনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক দেখানো হয়েছে। 

এছাড়াও রাজশাহী জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল সরকার বিকো, টাঙ্গাইল শহর বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান আলম, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ কবির সুমন, সদর ছাত্রদলের শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাজীপুর, চাঁদপুর,ফরিদপুর বিএনপি অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সারাদেশে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মিজানুর রহমান/অমিয়/

স্বাধীনতাবিরোধীরা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে: চসিক মেয়র

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ১০:০৩ এএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ১১:০৬ এএম
স্বাধীনতাবিরোধীরা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে: চসিক মেয়র
ছবি: খবরের কাগজ

কোটা আন্দোলনের নামে স্বাধীনতাবিরোধীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে মেয়রের আহ্বানে নগরীর মুরাদপুর সিরাজ শপিং কমপ্লেক্স চত্বরে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধীরা একাত্তরে পরাজয়ের যন্ত্রণা আজও ভুলতে পারেনি। এ কারণে সুযোগ পেলেই বিভিন্ন ইস্যুতে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা করে তারা। কোটা আন্দোলনের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, একটি অশুভ শক্তি বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষের সঙ্গে লড়াই করে অতীতে সফল হতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। সাধারণ ছাত্রসমাজ নিরীহ, তারা উচ্ছৃঙ্খল নয়। এদেরকে সামনে রেখে জামায়াত-শিবিরসহ সবগুলো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি একজোট হয়ে মাঠে নেমেছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক শেখ হাসিনার কর্মীরা ধৈর্য ধারণ করে আছি এবং সজাগ দৃষ্টি রাখছি কখন স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে মোকাবিলা করতে হবে। একাত্তরে যে হাতে অস্ত্র চালিয়েছি, সেই হাত আজও সচল আছে। প্রয়োজনে একাত্তরের মতো আবারও স্বাধীনতাবিরোধীদের মোকাবিলা করব আমরা।’

মেয়র আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত দেবেন কখন কি করতে হবে। তার সিদ্ধান্তের আগে আমরা কোনো কিছুতে এগিয়ে যাব না। আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি আমাদের ভাইদের যারা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ছয়তলা থেকে ফেলে দিয়েছে, রগ কেটে দিয়েছে, মাথার খুলি বের করে দিয়েছে। এরা কারা? এদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে।’ 

এ সময় বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য আবদুচ ছালাম, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, সিডিএ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুছ, শফিক আদনান, মশিউর রহমান, চন্দন ধর, হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, দেবাশীষ নাথ দেবু, আজিজুর রহমান আজিজ, এম আর আজিম, মো. সালাউদ্দিন,কাউন্সিলর এম আশরাফুল আলম, মো. মোবারক আলী, নুরুল আলম মিয়া, আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল, মো. ইসরারুল হক, নুর মোস্তফা টিনু, এরশাদুল আলম বাচ্চু, মো. ইলিয়াছ প্রমুখ।

সভা শেষে মেয়রের নেতৃত্বে শত শত নেতা-কর্মীসহ নাগরিকরা মিছিল নিয়ে মুরাদপুর থেকে ওয়াসা পর্যন্ত বিক্ষোভ করে জমিয়তুল ফালাহ্ জাতীয় মসজিদ ময়দানে নিহত ছাত্রলীগ কর্মীদের গায়বানা জানাজায় অংশ নেন।

ইফতেখারুল/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

কোটা আন্দোলনে ৬ জন নিহতের ঘটনায় হেফাজতের নিন্দা

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৯:১০ এএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ১২:২৬ পিএম
কোটা আন্দোলনে ৬ জন নিহতের ঘটনায় হেফাজতের নিন্দা
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় শিক্ষার্থীসহ ছয়জন নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

বুধবার (১৭ জুলাই) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজেদুর রহমান এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে দুই নেতা বলেন, ‘ঢাবিসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শান্তিপ্রিয় শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে ছয় শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে। মেয়েদেরকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। এমনকি হাসপাতালে ঢুকেও আহতদের ওপর হামলা করা হয়েছে। যুদ্ধের ময়দানেও নারীদের ওপর আক্রমণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনেরও চরম লঙ্ঘন। অথচ আলোকিত জাতীয় বিদ্যাপীঠে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর এমন নৃশংস হামলা কোনো বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারেন না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তারা বলেন, ‘কোটা সংস্কারের দাবি অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত একটি দাবি। কোটার নামে মেধাবীদের বঞ্চিত করা জুলুম। ইসলাম সব ধরনের জুলুম ও বৈষম্যের বিপক্ষে। সংবিধান অনুযায়ী কোটা প্রাপ্যদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ন্যায়ানুগ অনুপাতে আলোচনার মাধ্যমে কোটা সংস্কার করে বিদ্যমান সংকট ও অস্থিরতার নিরসন করা সম্ভব। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরপেক্ষ রাখা জরুরি। দমন-পীড়নের মাধ্যমে সমাজকে বিভক্ত করলে তা রাষ্ট্রের শেকড়কে দুর্বল করে দেয়। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।’

নেতারা বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতো। তারা দেশের ভবিষ্যৎ। আলোচনার মাধ্যমে তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবির সমাধানের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। আমরা নিহতদের পরিবারকে গভীর সমবেদনা এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থার জন্য দাবি জানাচ্ছি।’

এ ছাড়া তারা আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং নিহতদের মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সবুজ/পপি/অমিয়/