ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা
Nagad desktop

বিএনপি-জামায়াত বাগযুদ্ধ, নির্বাচন ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:০৯ এএম
আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:১১ এএম
বিএনপি-জামায়াত বাগযুদ্ধ, নির্বাচন ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা
বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে বাগযুদ্ধ বাড়ছে। দল দুটির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে মধ্যমসারির নেতারাও এখন বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন। দুই দলই একে অপরের বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী লীগের ভাষায়’ কথা বলার অভিযোগ তুলেছেন। এ ছাড়া সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় দল দুটির নেতারা সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন। চলমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলেও এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, উদ্বেগ ‘স্পর্শ’ করেছে আওয়ামীবিরোধী তথা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের জড়িত সুধী সমাজের প্রতিনিধিদেরও। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ক্ষমতার লড়াই ও পারস্পরিক অনাস্থার কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনের আগেই সংঘাত বেড়ে যেতে পারে। 

গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নানা ইস্যুতে দীর্ঘ ২৫ বছরের মিত্র জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব স্পষ্ট হয়েছে। দল দুটির নেতারা প্রকাশ্যে বাহাসে লিপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব প্রকাশ পাচ্ছে নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে। গত শনিবার জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং রবি ও সোমবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর তা আরও ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। 

গত শনিবার সিলেটে আট দলের সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘একদল চাঁদাবাজির কারণে জনগণের ঘৃণা কুড়িয়েছে, আরেক দল আবার তার চেয়ে বেশি শক্তি নিয়ে চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে। একদল দখলদার, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, আরেক দল বেপরোয়া দখলদার হয়ে উঠেছে। একদল জনগণের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, আরেক দল একই পথ ধরেছে, এমনকি তাদের মধ্যে মারামারিতে নিজেদের শেষ করে দিচ্ছে।’

জামায়াতের আমিরের এই বক্তব্যে বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যা অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে গত রবিবার ঢাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে। সেখানে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘তাদেরকে তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে। ১৯৭১ সালে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে কীভাবে লাখ লাখ মানুষ হত্যা করেছে, ঠিক যেভাবে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। শুধু হত্যাই করেনি তাদের সহকর্মীরা কিভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল। এই কথাটি আমাদের মনে রাখতে হবে।’

পাশাপাশি সাম্প্রতিককালে বিএনপিকে লক্ষ্য করে জামায়াত নেতারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে দুর্নীতির বিষয়ে যেসব অভিযোগ করেছেন, তার জবাবও দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, পলাতক স্বৈরাচার বিএনপির সম্পর্কে যেভাবে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াত, আমরা ইদানীং লক্ষ্য করছি কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল ঠিক একই সুরে কথা বলার চেষ্টা করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাদেরও তো দুজন ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে সেসময় সরকারে ছিল। গত সোমবারও আরেক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেছেন, ‘এখন দেশে এক ধরনের প্রচারণা চলছে- একজন বিশেষ কেউ ভালো, আর বাকি সবাই খারাপ। এটা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিজেদের ভোট বাড়ানোর জন্য দল দুটি কথার মারপ্যাঁচে একে অপরকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছে। আর জামায়াত দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির ইস্যুকে তুলে ধরছে। তবে এই ‘চাপান-উতর’ চলমান থাকলে সামনে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এতে নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, রাজনীতিতে একদল আরেক দলের প্রতি আক্রমণাত্মক কথা বলতে থাকলে সামনে সহিংসতা বাড়তে পারে। এগুলো রাজনীতির ভাষা নয়। সব দলকে অপ্র্যাশিত আক্রমণাত্মক ভাষা পরিহার করা উচিত। শেখ হাসিনা সরকারের আমলের মতো রাজাকার ও মুক্তিযুদ্ধ ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। শেখ হাসিনার মতো আচরণ কেউ প্রত্যাশা করে না। 

তিনি বলেন, সংকট থেকে উত্তরণের জন্য নির্বাচন খুব জরুরি। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সব পক্ষকেই সহযোগিতা করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল আচারণ করতে হবে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিনাত আরা নাজনীন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের এখানে রাজনৈতিক কালচার হলো নেগেটিভ। একদল আরেক দলের প্রতি পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থাহীনতায় রয়েছে বেশি। এ জন্য একে অপরের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করে। এমন আচরণ ভালো রাজনীতির লক্ষণ নয়। আমাদের পজিটিভ রাজনৈতিক কালচার গড়ে তুলতে হবে। রাজনীতিতে পারস্পরিক সৌহাদ্যর্পূণ হতে হবে। 

তিনি বলেন, একে অপরের বিরুদ্ধে দোষ-ত্রুটি না খুঁজে বরং কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। ইশতেহার তুলে ধরলে জনগণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কাকে ভোট দেবে। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ‘রাজাকার বা দুর্নীতিবাজ’ দুই দলেরই ক্রমান্বয়ে ভোট কমছে!

এর আগে দল দুটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। গত ১১ নভেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বক্তৃতায় বলেন, ‘জামায়াতের টিকিট কাটলেই কি কেউ বেহেশতে যেতে পারবে? যারা এসব মুনাফেকি করে, তাদের কাছ থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।’

এরপর ২০ নভেম্বর খুলনায় এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছে। তারা বর্তমানে মাহফিলে বাধা দেয়, মা–বোনদের বৈঠক বা তালিম প্রোগ্রামে বাধা দেয়। এটি করে তারা জামায়াতকে নয়, মূলত ইসলামকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এরপর বিএনপি নেতারা জামায়াতের বিরুদ্ধে ধর্ম ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কড়া ভাষায় তার জবাব দিয়েছেন। গত ৩ নভেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘জামায়াতের জন্য আওয়ামী লীগই ভালো ছিল। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিরুদ্ধে ছিল, তারা এখন ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে।’

এরপর শিবির নেতা ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, ‘লন্ডন, দিল্লি, পিন্ডিতে বসে আর কোনো রাজনীতি চলবে না। নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি-দেশেই হবে সিদ্ধান্ত।’

সবশেষ গত সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জামায়াতকে উদ্দেশে করে বলেন, তারা (জামায়াত) কেবলই বলছে যে, এখানে একটু মার্কাতে ভোট দিলে তরতরাইয়া জান্নাতে যাবে। তার আগে ইহকালে কীভাবে চলব এর কোনো বক্তব্য নেই। শুধুমাত্র ধর্মের নামে একটা ট্যাবলেট বিক্রি করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার পরিকল্পনা করছে।

এদিকে, বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে উভয় দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও। নিজ দলের প্রশংসা ও প্রতিপক্ষ দলকে ইঙ্গিত করে সমালোচনামূলক নানা পোস্ট করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। এতে দল দুটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে তিক্ততা বেড়েই চলছে। এই ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ চলমান পরিস্থিতিতে সম্প্রতি পাবনা, চট্টগ্রাম, ঝিনাইদহ, চাঁদপুর, রাজশাহী ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু খবরের কাগজকে বলেন, ওরা (জামায়াতে ইসলামী) ১৯৭১ সালের গায়ের দাগ মুছতে না পারলে তো বাগযুদ্ধ হতে থাকবে। ইতিহাসের সত্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আমরা কথা বলছি। কিন্তু তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য যা বলছে, তার কোনো প্রমাণ নেই।

তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন চোরাগোপ্তা হামলা করছে। রাজনীতিতে হামলা হবে কেন? চোরাগোপ্তা হামলা হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে। 

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো কেউ কারও শত্রু নয়। সামনে নির্বাচন, তাই দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতামূলক কথাবার্তা থাকবে। তবে সবাইকে অতীত ও বর্তমানের অবস্থান ভেবে বক্তব্যে দেওয়া উচিত।’

বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের বর্তমান কাঠামো দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আনতে সক্ষম হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ ও ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে।’

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের বিদ্যমান কর ও রাজস্ব কাঠামোর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের নজির নেই। বর্তমান ব্যবস্থার মধ্যে থেকে এ লক্ষ্য অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ দেখা যাবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটের রূপরেখা পর্যালোচনা করে সে ধরনের কোনো কার্যকর সংস্কারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।’

তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘কয়েকটি পণ্যের ওপর কর হ্রাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।’

সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এত অল্প সময়ের ব্যবধানে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনা নজিরবিহীন। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।’

বাজেটে সুশাসন ও জবাবদিহিতার ঘাটতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাজেটে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বড় বাজেট মানেই বড় ব্যয়ের সুযোগ; আর সেখানে জবাবদিহিতা না থাকলে দুর্নীতির ঝুঁকিও বাড়ে। বাজেটে দুর্নীতি রোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উল্লেখ নেই, যা উদ্বেগজনক।’

রিফাত/

জনকল্যাণমুখী বাজেটের দাবিতে বাসদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
জনকল্যাণমুখী বাজেটের দাবিতে বাসদের বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোসহ জনকল্যাণমুখী বাজেটের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ঢাকা মহানগর শাখা। 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বাজেটের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ‘অসম’ বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

সমাবেশে বাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট ঘোষণা করেছে, তা মূলত ঋণনির্ভর। বাজেটের ঘাটতি পূরণে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা এবং সুদ বাবদ ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা সরকারের দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইএমএফের পরামর্শে জনগণের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা বাড়ানো হয়েছে, অথচ ধনীদের স্বার্থে উৎস কর কমানো হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষির মতো জনকল্যাণমুখী খাতগুলো অবহেলিত রেখে সামরিকসহ অনুৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে।’

জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যু থামানো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে এটিকে ‘জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ বা মহামারি হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান তারা।’

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধেরও দাবি জানান বাসদ নেতারা। পাশাপাশি, বিগত সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দাসত্বের চুক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানানো হয়।

বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার ইনচার্জ নিখিল দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, নগর নেতা আহসান হাবিব বুলবুল, জাকির হোসেন ও রুখসানা আফরোজ আশা। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন নগর নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

সীমান্তে ‘পুশইন’ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতার পরিপন্থী: চরমোনাই পীর

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
সীমান্তে ‘পুশইন’ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতার পরিপন্থী: চরমোনাই পীর
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। ছবি: খবরের কাগজ

সীমান্তে ভারতের ‘পুশইন’ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আচরণ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করে।’

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পঞ্চগড় জেলা শাখার আয়োজনে জেলা কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘সীমান্তে যে পুশইনের কার্যক্রম আমরা লক্ষ্য করছি, তা সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক ও মানবতাবিরোধী। যেভাবে মানুষকে অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। এ জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি বিজিবিকে ধন্যবাদ জানান।’

ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রেজাউল করীম বলেন, ‘এ ধরনের আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত আচরণ থেকে সরে এসে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। প্রয়োজনে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মেও আলোচনা হতে পারে।’

বাজেট প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা ছাড়া কোনো বাজেট জনগণের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর-ভ্যাট দিচ্ছে। তাই জনগণের অর্থ কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা জাতির সামনে পরিষ্কার থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজেটের সুফল তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। সরকার যদি জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তাহলে দেশের ও মানুষের কল্যাণ হবে।’

 রনি মিয়াজী/রিফাত/

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে সিলেটে জেলা বিএনপির আনন্দ মিছিল

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে সিলেটে জেলা বিএনপির আনন্দ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘উন্নয়নমুখী, জন-বান্ধব ও দূরদর্শী’ আখ্যায়িত করে সিলেটে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সিলেট জেলা বিএনপি। 

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্ট প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ এমপি বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট দিয়েছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে অনুমোদিত এই বাজেটের মূল দর্শন হলো জনগণের কল্যাণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা একটি বৈষম্যহীন ও আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণের সুস্পষ্ট রূপরেখা।’

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘ দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। এটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’র পথে এগিয়ে নেওয়া।

সমাবেশে বক্তারা বাজেটের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, ‘সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষায় মূল্যস্ফীতি ৭-৮ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রত্যয় এই বাজেটকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় চাল, ডাল, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, তেল ও মসলাসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তারা।’

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, অতীতের মতো বাজেট ঘোষণার পর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এবার থাকবে না। বক্তব্যে বাজেট উপস্থাপনায় সিলেট অঞ্চলের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে বলা হয়, ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের ৫৫টি বাজেটের মধ্যে সিলেট বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি ৩০টি বাজেট সংসদে পেশ করা হয়েছে। যার মধ্যে সাবেক সফল অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান একাই ১২টি বাজেট পেশ করে ইতিহাস গড়েছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহজামাল নুরুল হুদা, মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, নাজিম উদ্দিন লস্কর; উপদেষ্টা কামরুল হাসান শাহীন; যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, তাজরুল ইসলাম তাজুল, আনোয়ার হোসেন মানিক, আবুল কাশেম, আব্দুল আহাদ খান জামাল, শাকিল মোর্শেদ, জসিম উদ্দিন; সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, সাহিদুল হক সুহেল, মাহবুব আলম, অর্জুন ঘোষ, মনিরুল ইসলাম তুরন, ড. নাজিম উদ্দিন, সুমেল আহমদ চৌধুরী, রায়হান এইচ খাঁন, আশরাফুল আলম বাহার, জুবের আহমেদ ও আব্দুল মুতাকাব্বির সাকি প্রমুখ।

রিফাত/

গাজীপুরের শ্রীপুরে যুবলীগের মিছিল-পথসভা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
গাজীপুরের শ্রীপুরে যুবলীগের মিছিল-পথসভা
শ্রীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ও পথসভার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুরের শ্রীপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবসে মিছিল ও পথসভা করেছে যুবলীগ।

শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ৮টায় শ্রীপুর পৌরসভার আসপাডা মোড় এলাকায় এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম সজিব। মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পথসভায় অংশ নেন নেতাকর্মীরা।

মিছিল ও পথসভার কর্যক্রমের ভিডিও আশরাফুল ইসলাম সজীবের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করা হয়েছে। ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায় নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে মিছিল করছেন।

“শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে, এ্যাকশন এ্যাকশন-ডাইরেক্ট এ্যাকশন” মিছিলে এমন শ্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। মিছিল ও পথসভায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামীলীগের প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

পথসভায় যুবলীগ নেতা সজিব বলেন, ‌‍আজকের এই মিছিলের পরে আমি-আমরা গ্রেপ্তার হতে পারি। যদি আমাদের ফাঁসির কাষ্টেও নিয়ে যাওয়া হয় তবুও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের পক্ষে আমরা আপোষহীন থাকবো। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা যে প্রতিজ্ঞা করেছি, সেই প্রতিজ্ঞা থেকে আমরা পিছ পা হবো না।

গাজীপুরের শ্রীপুর-কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা মিছিলের সংবাদ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে কাউকে পায়নি।

পলাশ/আমান