ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া টুঙ্গিপাড়া) আসনে কোটালীপাড়া উপজেলার একই গ্রামের একই বংশের দুই নেতা দুটি আলাদা রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থী হয়েছেন। ইতোমধ্যে এই রাজনৈতিক দল দুটি তাদের দুজনকে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই দুই প্রার্থী হলেন, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার মাঝবাড়ি গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিন দাড়িয়ার ছেলে ও গণঅধিকার পরিষদ কোটালীপাড়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আবুল বশার দাড়িয়া বাসু এবং একই গ্রামের মো. সিদ্দিক দাড়িয়ার ছেলে ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. আরিফুল দাড়িয়া।
আসনটিতে সম্প্রতি আবুল বশার দাড়িয়া বাসুকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই আবুল বশার দাড়িয়া বাসুকে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি প্রার্থী হিসেবে মো. আরিফুল দাড়িয়ার নাম ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার পরই উপজেলাজুড়ে বিষয়টি ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছে।
মাঝবাড়ি গ্রামের সমাজসেবক রেয়াজুল দাড়িয়া বলেন, ‘একই বংশ, একই গ্রামে দুইজন এমপি প্রার্থী, এটা আমাদের সৌভাগ্য। আমাদের দাড়িয়া বংশ হতে আমার জানামতে এই প্রথম এমপি পদে দাঁড়িয়েছে।’
একই গ্রামের বাসিন্দা নার্গিস বেগম বলেন, ‘শুনেছি আমাগো গ্রাম থেকে দুইজনে নির্বাচন করবে। আমরা যারে ভালো ও যোগ্য মনে করব, তারে ভোট দেব।’
আবুল বশার দাড়িয়া বাসু বলেন, ‘যেকোনো দলের প্রার্থী হয়ে যে কেউ নির্বাচন করতে পারেন, এটা তার গণতান্ত্রিক অধিকার। একই গ্রামের দুইজন নয়, পাঁচজনও প্রার্থী হয়ে আসতে পারেন। আমার দল আমাকে প্রার্থী করেছেন। আমি দীর্ঘদিন ধরে জনতার কাছে গিয়ে গণসংযোগ করে আসছি। আশা করছি ভালো কিছু হবে।’
এ বিষয়ে আরিফুল দাড়িয়া বলেন, ‘দল আমাকে তাদের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। আমি এলাকায় প্রচার শুরু করেছি। একই গ্রামে দুইজন প্রার্থী, এতে আমার নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না।’
এ আসনে এই দুই প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও গোপালগঞ্জ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির এম এম রেজাউল করিম, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মারুফ শেখকে গণসংযোগ করতে দেখা গেছে।