ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Nagad desktop

নির্বাচনে পাঁচ জোট, লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াত জোটের মধ্যে

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩২ পিএম
নির্বাচনে পাঁচ জোট, লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াত জোটের মধ্যে
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

জুলাই-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতির সমীকরণ ক্ষণে ক্ষণে বদলেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আসন বণ্টনের গোপন আলোচনাও চলেছে দিনের পর দিন। গত বেশ কয়েকদিন ধরেই চলেছে জোটের নানা সমীকরণ। কয়েকটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে এরই মধ্যে। 

নির্বাচনে লড়তে চূড়ান্ত হয়েছে জোটের সমীকরণ। গতকাল সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এর পরেই শুরু হবে নির্বাচনের প্রচার। কয়েকদিন পরই শুরু হবে প্রার্থীদের গণসংযোগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এলাকায় প্রার্থীদের যত প্রভাবই থাকুক না কেন; প্রচারে জোটের প্রভাবই মুখ্য হয়ে উঠবে। 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে ভিড়েছে নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত ১০টি রাজনৈতিক দল। কয়েকটি ছোট দলের জোটও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এই জোটে। অনেক নাটকীয়তার পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভিড়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে। এর বাইরে রয়েছে- ৭টি বাম দলের জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। জাপার দলছুট নেতাদের নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) এবং তিনটি ধর্মভিত্তিক দলের বৃহত্তর সুন্নি জোট। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াত জোটের। 

শরিকদের নিয়ে দ্বন্দ্ব তৃণমূলে, ভাবনায় বিএনপির থিঙ্ক ট্যাংক 
বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের দলগুলো হলো- বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণফোরাম, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ভাসানী জনশক্তি পার্টি; জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) নেতৃত্বাধীন ১২-দলীয় জোট; ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের ১১টি দল ও গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য। শেষ মুহূর্তে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামও যুক্ত হয়েছে এই জোটে। 

দল নিবন্ধিত হলেও ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করতে নিজ দলের প্রতীক ছেড়ে ধানের শীষ প্রতীক বেছে নিয়েছেন শরিক দলের কোনো কোনো নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন, গণঅধিকার পরিষদের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান (ঝিনাইদহ-৪); জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩)। দল বিলুপ্ত করে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন  বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১); বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা (কিশোরগঞ্জ-৫)। এলডিপি ছেড়ে এসে দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি  কুমিল্লা-৭ আসনে নির্বাচন করবেন।

শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি। সে কারণে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ রয়েছেন। তাদের ভাষ্যে, গত ১৭ বছরে যারা বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন কিংবা জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্য দলের প্রার্থীকে মেনে নিতে না পেরে অনেক বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। দল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে জেনেও তাদের এমন পদক্ষেপ ভাবিয়ে তুলছে বিএনপির থিঙ্ক ট্যাঙ্ককে। নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের বাক্সে ভোট বেশি পড়লে শরিক দলগুলোর নেতাদের ভরাডুবি হতে পারে, এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। 

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের আগে বেশ কয়েকটি আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন করলেও শরিক দলগুলোর আসনে কোনো পরিবর্তন আনেনি। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

এনসিপি, এবি পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে চাঙা জামায়াত জোট
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে দলের সংখ্যা এখন ১১। রবিবার জোটে যোগদান করে এলডিপি ও এনসিপি। সোমবার জোটে সংযুক্ত হয় এবি পার্টি। জামায়াতের জোটে এই তিনটি দল ছাড়া আরও রয়েছে, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। 

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে এনসিপির যোগদানের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এনসিপিকে ঘিরে তারুণ্যনির্ভর নতুন রাজনীতির যে প্রত্যাশা ছিল, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠনের সিদ্ধান্তে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে দলটির ভেতরে বিভাজন দেখা দিয়েছে। কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা আপত্তি জানিয়েছেন, কেউ কেউ পদত্যাগ করেছেন, অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই জোটে যোগদান করায় এনসিপির আদর্শ ও জনপ্রিয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যরা এটিকে কৌশলগত নির্বাচনি সমঝোতা হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, জোট হলেও নিজস্ব পরিচয় বজায় রাখা জরুরি। সামগ্রিকভাবে ভোটের প্রচার শুরুর আগে থেকেই আবারও দুটি বড় জোটে বিভক্ত হচ্ছে দেশের রাজনীতি। 

জাপার দলছুটদের জোট আছে নানা সংশয়ে
জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কারের পর দলটির সাবেক সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আলাদা দল গঠন করেছেন। তিনি তার দলটিকে ‘আসল জাতীয় পার্টি’ হিসেবে দাবি করেছেন। তবে এখন তিনি লাঙ্গল প্রতীকের কর্তৃত্ব নিয়ে জি এম কাদেরের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি লাঙ্গল প্রতীক পাবেন কি না, সে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবুও ভোটের মাঠে প্রার্থী হতে চান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও তার সঙ্গীরা। তাই জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট গঠন করেছেন তারা। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি (জেপি) ছাড়াও গত নির্বাচনের ‘কিংস পার্টি’খ্যাত তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে (বিএনএম) জোটে ভিড়িয়েছেন তারা। সম্প্রতি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ১১৯ আসনে ১৩১ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে এনডিএফ। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের দায়ে এনডিএফের শীর্ষ নেতারা ভোটের মাঠে দাঁড়াতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। নির্বাচনি প্রচার শুরুর অপেক্ষা করছেন এনডিএফভুক্ত দলগুলোর নেতারা। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে; তা নিয়ে সংশয়ে আছেন দলগুলোর নেতারা। 

এখনো ছক কষেননি বাম নেতারা 
বাম গণতান্ত্রিক জোটের ৬টি দলের সঙ্গে সম্প্রতি নির্বাচনি ঐক্য করেছে বাংলাদেশ জাসদ। এ দলগুলোর নতুন জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টে ভোটের শোরগোল নেই। সিপিবি প্রাথমিকভাবে একটি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। তবে তা চূড়ান্ত নয়। বাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী), বাংলাদেশ জাসদ শেষ পর্যন্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি। 

এ বিষয়ে সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীদের বিষয়ে আরও কিছু দিন পরে সিদ্ধান্ত হবে। এখন দলগুলোর প্রার্থীরা আলাদা আলাদাভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এখন তাদের কতজন জোটভুক্ত হয়ে ভোটের মাঠে থাকবেন, কতজন উন্মুক্তভাবে লড়বেন, তা চূড়ান্ত করা হয়নি।’

বৃহত্তর সুন্নি জোট
এর বাইরে ‘বৃহত্তর সুন্নি জোট’ ইতোমধ্যে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

যারা জুলাই চেতনা ধারণ করে, তারাই এগিয়ে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এ বিষয়ে খবরের কাগজকে বলেন, বিএনপি সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণা আছে। এক হলো- তারা ৫ আগস্টের পর সারা দেশে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। দুই- তারা আওয়ামী লীগঘেঁষা কয়েকজন নেতাকে মনোনয়ন দিয়েছেন- এমন অভিযোগ আছে। তিন- তারা কয়েকজন ঋণখেলাপিকে মনোনয়ন দিয়েছে। তাই বিএনপির অবস্থান একটু নড়বড়ে। তাদের জোটসঙ্গীদের বিষয়ে লোকের ধারণা খুব ভালো না। তবে জোটসঙ্গী ছোট দলের নেতারা এককভাবে নির্বাচন করে জিততে পারবে না। তারা বড় দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন করেই জিতে আসতে হবে।

জামায়াতের জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা খুব কৌশলগতভাবে অগ্রসর হচ্ছে। একাত্তরে তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়ে মানুষ আর কথা শুনতে পছন্দ করে না। আর সম্প্রতি এনসিপি তাদের সঙ্গে জোটে যোগ দিয়েছে। এতে জামায়াতের ইমেজ কিছুটা ভালো হয়েছে।’ 

বাম দলগুলোর জোট নিয়ে তিনি বলেন, ‘শহর ছাড়া গ্রামে বাম দলগুলোর কোনো প্রভাব নেই। একদম জিরো।’ 

শেষে তিনি বলেন, ‘জোটের সমীকরণে তারাই এগিয়ে থাকবে যারা জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বেশি ধারণ করছে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে জোট গঠন। এটাকে তো বাঁকা চোখে দেখার কোনো সুযোগ নেই।’

নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রলীগের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী সদর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মিছিলের শুরুতে পুলিশ বাধা দিলেও একপর্যায়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এবং বর্তমান সরকারের 'সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির' বিরুদ্ধে ওই মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। এতে সহস্ত্রাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করে।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার ছাত্রলীগ যুবলীগের হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থকরা মিছিলটি বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশে বাধা উপেক্ষা করেই নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন। এসময় পুলিশ সদস্যরা গা-ঢাকা দেন।

বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু।

মিছিল শেষে সমাবেশে আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু বলেন, আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় এবং সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হব না এবং রাজপথ ছাড়ব না।

কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্বে জায়গা থেকেই আমরা প্রতিবাদ করেছি। পুলিশ প্রথমে আমাদেরকে বাধা দিলে আমাদের নেতাকর্মী ভয়ে এদিক সেদিক চলে যায়। পরে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আমরা প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিয়ে মিছিল করি এবং সমাবেশ করি। আমরা বিশ্বাস করি অতি দ্রুত আমাদের নেত্রী দেশে ফিরে দেশের দায়িত্ব নিবেন এবং আমাদের নেত্রী দেশে ফেরার সাথে সাথেই বর্তমান সময়ের সন্ত্রাস চাঁদাবাজরা দেশ ছেড়ে পালাবে। 

জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আগে থেকেই টের পেয়ে পুলিশের ছয় সদস্যের দল সেখানে উপস্থিত ছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে আমাদের কিছুই করার ছিল না । আমরা মিছিলে শুরুতে তাদের বাধা দিলেও পরবর্তীতে তাদের উপস্থিতি সংখ্যা বেড়ে গেলে আমাদের সদস্যরা সরে পড়েন।


ইকবাল হোসেন মজনু/এসএন

সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। ছবি: খবরের কাগজ

দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সরকারকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না জানানো হলে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শুক্রবার (৫ জুন) বাদ জুমা ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে একটি মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওসমান হাদির সমাধিস্থলে আসে। সেখান থেকে হাদি হত্যার বিচারে সরকারকে আলটিমেটাম দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। 

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সরকার হাদি হত্যার বিচারের কোনো রূপরেখা দেয়নি। সরকার কতদিনের মধ্যে আসামিকে ফিরিয়ে আনবে এবং এ হত্যার বিচার করবে, সে বিষয়ে জানতে চায় ইনকিলাব মঞ্চ। যদি আগামী শুক্রবারের মধ্যে সুনির্দিষ্ট তথ্য, সময়সীমা না দিতে পারে; আমরা বাংলাদেশের জনগণকে নিয়ে শাহবাগে লাগাতার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। এই কর্মসূচি কোথায় গিয়ে শেষ হবে, আমরা জানি না।’

গত ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। তিন দিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র।

হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন?

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন?
ছবি: খবরের কাগজ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র প্রয়াত শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। 

শুক্রবার (৫ জুন) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ঘটনার সময়কার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে এবং কার অনুমতিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই হত্যা মামলার বাদী হলেন, তা অবিলম্বে পরিষ্কার করতে হবে।

পোস্টে মাসুমা হাদি লেখেন, ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে, যেসব বিষয়ে তিনি এখনো মুখ খোলেননি শুধু ভাইয়ের কথা ভেবে। তবে দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার বাদী হওয়া নিয়ে যে ‘নোংরামি’ চলছে, তার প্রেক্ষিতে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

মাসুমা হাদি উল্লেখ করেন, ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়েই তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান এবং এক মুহূর্তের জন্যও ভাইয়ের পাশ থেকে সরেননি। তার প্রশ্ন ‘প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে স্বাক্ষর (সাইন) নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের স্বাক্ষর দেবে কেন?’ এ বিষয়ে তাকে বোঝানো হয়েছিল যে, ওমর (ওসমান হাদির ভাই) এর কাছে পুলিশ গিয়েছিল এবং তিনি চিকিৎসার ব্যস্ততার কারণে পরে বিষয়টি দেখবেন বলেছিলেন। মাসুমা হাদি বলেন, ‘এ ধরনের ফৌজদারি মামলায় বাদীর স্বাক্ষর আগে বা পরে নেওয়া নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই, এবং পুলিশ চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়েও আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতো।’

তৎকালীন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে মাসুমা হাদি লেখেন, একই রিকশায় দুই ভাই থাকায় ওসমান গণির (হাদি) রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত হয়ে পড়েছিলেন। বুলেট আরেকটু এদিকে লাগলে ওমরও সেদিন মারা যেতে পারতেন। ওসমান হাদিকে যেদিন সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়, সেদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে নিজের পোশাক ও হাতের ঘড়ি থেকে ভাইয়ের রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন।

এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাবের যদি আমাদের নলছিটির ছেলে না হতো, তাহলে কোনো প্রশ্নই থাকত না। কারণ ওসমান গণির সঙ্গে দীর্ঘদিন যারা চলাফেরা করেছেন, তারা জানেন তার জীবনে তার ছোট আপুর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই ছোট আপুর সঙ্গে পরামর্শ না করে কার অনুমতিতে জাবের মামলার বাদী হলো এটি পরিষ্কার করতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমরের লাইফস্টাইল নিয়ে চলা ট্রলিংয়ের জবাবে মাসুমা হাদি জানান, ওমর যে ঘড়ি পরেন তা পাঁচ বছর আগে ১৭ হাজার টাকায় কেনা। এছাড়া ২০১৬ সালে তিনি ৩০ হাজার টাকার ব্লেজার এবং ৭০ হাজার টাকার মোবাইল ব্যবহার করতেন। কাউকে না জেনে অযথা ট্রল না করার অনুরোধ জানান তিনি।

চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে অনেকেই দায়িত্ব নিতে চাইলেও পরিবার সায় দেয়নি। সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে থাইল্যান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। পরে সরকার বিষয়টি জানার পর দায়িত্ব নেয় এবং দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুরে কাগজপত্র পাঠালে তা গ্রহণ করা হয়। এরপরই ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।’

রাজু/রিফাত/

রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে দেশের রাজনীতি এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য চারদিকে সুপরিকল্পিত ও গভীর চক্রান্ত চলছে।’

শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে এখনকার রাজনীতিতে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন করে সমাজের কাছে, রাজনীতির কাছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের হীন প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি মূলত রাজনীতিকে ধ্বংস করার একটি চক্রান্ত এবং এটি সুস্থ রাজনীতির জন্য কোনো শুভ লক্ষণ নয়।’

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ব্যাখ্যা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকেই অনেক রকম চিন্তা করেন। কিন্তু বিএনপির মূল চরিত্র হচ্ছে এটি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘একটা বড় আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের পর আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আজ গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সবকিছুকে ভেঙে ফেলা এবং মস্তহীন করার মধ্য দিয়ে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতির মধ্য দিয়ে একটি সরকার গঠন করতে পেরেছি। এখন এই সরকারের দায়িত্ব হবে দ্রুততার সঙ্গে এই চক্রান্তকে চিহ্নিত করে সঠিক খাতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা।’

স্মরণ সভায় প্রয়াত নেতাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা ভাইয়েরা এমন এক সময়ে রাজনীতি করেছেন যখন রাজনীতিতে এথিক্স, মোরালিটি ও মূল্যবোধ ছিল। তারা সবসময় জনগণের কল্যাণ, মানুষের সমস্যার সমাধান এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে গেছেন।’

রিফাত/

হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফারের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নোয়াখালীর হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়দেইল গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে।

সম্প্রতি তিনি ফেসবুক লাইভে এসে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে নোয়াখালী-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। আবদুল গাফফার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।

ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান, রিফাত ও মাহিমকে সেফ হোমে রেখে আমি বাঁচিয়েছি। তখন তাদের ভিডিওবার্তা থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করেছি। তার কারণে হান্নানের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার রাজনৈতিক গার্ডিয়ান হিসেবে ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সঙ্গে ছিলাম। যার কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন আমি এতে বাধা দিই।’

গাফফার অভিযোগ করে বলেন, ‘হান্নানের তিন কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা গত বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খানকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর আমি রাশেদ খানের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসউদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা ধরনের হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি হান্নান মাসউদকে জানাই। তিনি বলেন, ওই সব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শোনে না। তারা যা করার করুক।’

ছাত্রদল নেতা গাফফারের দাবি, ‘চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁসের পর হান্নানের যোগসাজশে তার অনুসারীরা আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা আমাদের ভবনের একটি জানালা ভাঙচুর করে এবং প্রধান ফটকে হামলা চালায়। পরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়। আমার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম (৬০) ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন (৬৯) একাই বাড়িতে থাকেন। তারা এখনও ভীতসন্ত্রস্ত। মা-বাবা বলছেন, আমি যেন আর কোনো বক্তব্য না দিই। আবারও তারা বাড়িতে হামলা করতে পারে।’

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তিন কোটি টাকা দাবির স্ট্যাটাস দেওয়ায় গত দুই দিন ধরে ছাত্রদল নেতা গাফফারকে প্রকাশ্যে হান্নান মাসউদের অনুসারী এনসিপির নেতা-কর্মীরা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। যারা হুমকি দিয়েছে, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল তিবরিজ বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা গাফফার দৃঢ়ভাবে বলছে, এটা এনসিপির নেতা-কর্মীরা করেছে। তাহলে আমরা ধরে নেব, তারা নিজেরাই ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় এমপি মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করার পর আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। আমি সেগুলোই সামাল দিতে পারি না, আরেকজনের বাড়িতে হামলা করব কেন? পুরো বিষয়টি একটি সাজানো নাটক, যাতে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক তারা কী করতে পারে।’

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘গ্রামের বাড়িতে একতলা ভবন। ওই ভবনের দক্ষিণ পাশে অন্ধকার। ওই দিক থেকে কেউ একজন ঢিল মেরেছে। ইটের টুকরা এসে পড়লে জানালার একটি অংশ ভেঙে যায়। কে মারছে, কাউকে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মজনু/রিফাত/