প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও জি এম কাদেরের নেতৃত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। গত ডিসেম্বরে ২৩৯টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং আপিল প্রক্রিয়া শেষে জাপার ১৯৫ জন প্রার্থী টিকে রয়েছেন ভোটের মাঠে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের একটি হোটেলে জাপা মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ১৯৫ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এ সময় জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, শেরীফা কাদেরসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জাপার বহিষ্কৃত ও দলছুট নেতারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নিয়েছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে নতুন ‘কিংস পার্টি’ গঠন করে ভোটের মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন দলছুটদের অনেকেই। মনোনয়ন দেওয়ার এখতিয়ার না থাকলেও নিজেকে জাপার চেয়ারম্যান ও মহাসচিব ঘোষণা করে বহিষ্কৃত নেতাদের মনোনয়ন দিয়েছিলেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। জাপার সাবেক দুই কো-চেয়ারম্যানই বিপাকে ফেলেছেন দলছুটদের। ভিন্ন কোনো নিবন্ধিত দলের প্রতীকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকলেও ‘লাঙ্গল’ দখলের প্রত্যাশায় নানা কৌশল অবলম্বন করেন এই দুই নেতা। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদারসহ জাপার বহিষ্কৃত ও দলছুট নেতাদের সবার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আপিলেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি তারা।
‘না’ ভোটের আহ্বান জি এম কাদেরের
গতকালের সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, গণভোট সম্পূর্ণভাবে সংবিধান ‘পরিপন্থি’।
গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দেশ রক্ষার স্বার্থে জনগণকে ব্যালটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান জি এম কাদের।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পন্থায় জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় পার্টির তিনজন প্রার্থী একাধিক মামলায় কারাবন্দি অবস্থায় থেকেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।
‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাচ্ছে না জাপা’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের অভিযোগ করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে তার দল সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ পাচ্ছে না।
জি এম কাদের জানান, দলের অন্তত তিনজন প্রার্থী বর্তমানে কারাবন্দি অবস্থায় নির্বাচন করছেন এবং জামিন পাওয়ার পরপরই নতুন মামলা দিয়ে তাদের আবার গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আরও কয়েকজন প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা মিথ্যা মামলার ভয়ে এলাকায় যেতে ও নির্বাচনের কাজ করতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে মামলার কোনো তদন্ত, চার্জশিট বা বিচার না থাকলেও গ্রেপ্তার ও হয়রানি চলছেও বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, শুধু প্রার্থীদেরই নয়, জাতীয় পার্টির সমর্থক ও ভোটারদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দলটির পক্ষে কাজ করলে বা দলটিকে ভোট দিলে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হচ্ছে। এতে নির্বাচনি পরিবেশ ভীতিকর হয়ে উঠেছে।
জি এম কাদের নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের সময়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতি গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের পরিপন্থি। এভাবে নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।’