ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার দ্বিতীয় দিনে চরম ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীরা। নিজ নিজ প্রতীকে ভোট চেয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তারা। নানাভাবে সব প্রার্থীই ভোটারদের নিজ প্রতীকের প্রতি আকৃষ্ট করছেন। প্রার্থীর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীদের পদচারণে মুখরিত ছিল স্থানীয় এলাকা।
চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনের বিএনপির প্রার্থী মীর হেলালের দিনভর নির্বাচনি গণসংযোগ করেছেন উপজেলার বুড়িশ্চর শিকারপুর ইউনিয়নে। সেখানে ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন তিনি। গতকাল সকালে হাটহাজারী উপজেলার আওতাধীন ১৫ নম্বর বুড়িশ্চর আজিজিয়া দরবার শরিফ মাজার জিয়ারত করে তার গণসংযোগ শুরু করেন। তিনি সেখান থেকে পায়ে হেঁটে বুড়িশ্চর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং শিকারপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী-পুরুষ সবার কাছ ভোট ও দোয়া, আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। এ সময় মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ–সব ধর্মের মানুষ তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আসেন। এদিকে বাদ জুমা স্থানীয় নিয়ামত আলী সড়ক থেকে পুনরায় গণসংযোগ শুরু করে বিকেলের প্রচার শুরু করেন। প্রচারকালে মীর হেলাল বেশ কয়েকটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্যে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতীক ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন গতকাল সকালে। উপজেলার নাজিরহাট এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শিবির নেতা আফাছ ও জামায়াত নেতা খোরশেদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি তার নির্বাচনি প্রচার ও গণজমায়েতের সূচনা করেন। সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া এই গণজমায়েতটি নাজিরহাট বাসস্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে এটি নাজিরহাট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঝংকার মোড়ে এসে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান চট্টগ্রামের বড়পুল এলাকায় গণসংযোগ চালিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেছেন, ‘আপনারা অনুমতি দিলে আমি সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকতে পারব, হাত মেলাতে পারব, তাদের নিয়ে কাজ করতে পারব। আমি রাজনীতিতে এসেছি সাধারণ মানুষের জন্য। যেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমার দেখা হয়, কথা হয় এবং মোলাকাত করতে পারি।’
তিনি ভোটারদের আরও বলেন, ‘আপনারা আমার বাবার সহকর্মী ছিলেন, এখন আমার সহকর্মী।’ তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনকে নিজের রাজনৈতিক কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। গণসংযোগের সময় তিনি চট্টগ্রামের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “চট্টগ্রামকে ‘আসল অর্থে’ বাণিজ্যিক রাজধানী করতে চাই। আমি সারা জীবনের জন্য মানুষের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরুর পক্ষে মাঠে নেমেছেন তার ছেলে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু। গতকাল চট্টগ্রাম-১১ আসনে বাবার পক্ষে দ্বিতীয় দিনের প্রচার চালান তিনি।
এ সময় ইসরাফিল খসরু বলেছেন, ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি পরিবর্তন, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। ধানের শীষ মানেই মানুষের অধিকার, ন্যায়ের রাজনীতি এবং সাধারণ মানুষের কথা বলার শক্তি। চট্টগ্রাম-১১ আসনের মানুষ পরিবর্তন চান, তারা সৎ নেতৃত্ব ও জনবান্ধব রাজনীতি দেখতে চান। সেই প্রত্যাশা পূরণে ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই। এদিন ইপিজেড মোড় থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ হালিশহর ফেলা গাজী বাড়ি, কলসিদীঘি মোড়, ওয়াশিল চৌধুরীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচারের অংশ নেন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। এ সময় পাড়া-মহল্লায় লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করা হয়।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সংসদ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান মিরসরাইয়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। এ সময় তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে একটি সমৃদ্ধ, দক্ষ ও উন্নত মিরসরাই গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও উপস্থিত সুধীজনদের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থী ও জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এ ধরনের গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।