কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারে এবার দেখা গেছে ভিন্নধর্মী চিত্র। খেলার মাঠে তরুণদের সঙ্গে মিশে যাওয়া, লবণখেতের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলা এবং নারীদের উঠান বৈঠকে অংশ নেওয়া— সব মিলিয়ে দলটির প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন ব্যতিক্রমী নির্বাচনি প্রচার আগের কোনো আমলে দেখেননি তারা। কক্সবাজারে এখন সবার মুখে মুখে ফিরছে বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নাম। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারে এসে প্রচার শুরু করেন তিনি। ওই দিন রাতে তিনি পেকুয়ায় বাল্যবন্ধু ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে ঘরোয়া আড্ডায় অংশ নেন। সেখানে এক তরুণের গান উপস্থিত সবাইকে আনন্দিত করে।
প্রচারের প্রথম দিনে সালাহউদ্দিন আহমদ চকরিয়া থেকে কার্যক্রম শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি মাঠে গিয়ে তরুণদের সঙ্গে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলায় অংশ নেন। তার এই ব্যতিক্রমী প্রচার-কৌশল স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে গত শুক্রবার তিনি পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের লবণখেত ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং মোবাইল ফোনে সেলফি তোলেন। পরে শিশুদের সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানো ও ধানের শীষের স্লোগানে অংশ নেন। পরে মগনায় একটি বাড়িতে গিয়ে এক গ্লাস পানি পান করেন এবং কিছু সময় ওই বাড়ির উঠানে বসে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ ছাড়া রাস্তার পাশে রাজহাঁস দেখে গাড়ি থামান। রাজহাঁসকে খাবার দেন এবং স্নেহভরে একটি রাজহাঁসের বাচ্চাকে হাতে তুলে নেন। পরে তিনি চকরিয়ার শাহ ওমর (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং চকরিয়ায় একাধিক বড় পথসভায় বক্তব্য রাখেন। গভীর রাতে পেকুয়ার শয্যাশায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিদ্দিক আহমদকে দেখতে যান তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রচারে সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে নেতা-কর্মীরা সরাসরি অংশ নিচ্ছেন না, বরং সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নিচ্ছেন।
বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা জানান, দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সবাই নিজ নিজ ওয়ার্ডে কাজ করছেন। বর্তমানে বিএনপির সহযোগী ও সমমনা আটটি দল আলাদাভাবে ধানের শীষের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। শনিবার সালাহউদ্দিন আহমদ কোনো গণসংযোগে অংশ নেননি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে তিনি চট্টগ্রামে অবস্থান করবেন। এদিন চকরিয়ায় গণসংযোগের সময় দুই পা না থাকা এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি চলাচলের জন্য একটি গাড়ির আবেদন করলে সালাহউদ্দিন আহমদ তার প্রেস সচিব সফওয়ানুল করিমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। এ জন্য যে খরচ হবে, তা নিজে বহন করবেন বলে জানান।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুকও নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় আছেন। গত শুক্রবার তিনি পেকুয়ায় একটি মিছিল করেন। গতকাল চকরিয়ায় আরেকটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এসব মিছিলে নেতা-কর্মীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক দেখা যায়। জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। চকরিয়ায় জামায়াতপ্রার্থী একটি উঠান বৈঠকও করেছেন। তবে তা সীমিত পরিসরে হয়েছে।