বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতা পেলে জনগণের সম্পদ বাড়াবে, নিজেদের সম্পদ বাড়াবে না। নির্বাচনি হলফনামায় যে সম্পদ থাকবে পাঁচ বছরেও সেই সম্পদ থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার থেকে সংসদ সদস্য পর্যন্ত সবাইকে বছরে একবার সম্পদের হিসেব দিতে হবে বলে ঘোষণা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত মনোনীত ও ১০ দল সমর্থিত মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী তাজ উদ্দিন খান এবং মেহেরপুর-২ আসনের প্রার্থী নাজমুল হুদার সমর্থনে এ নির্বাচনি জনসভার আয়োজন করা হয়।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মেহেরপুর ছোট জেলা, এখানে মাত্র তিনটি উপজেলা। মানুষ একে অপরকে চেনে। অথচ এই জেলাও চাঁদাবাজদের দখলে চলে গেছে। জনগণের রায়ে আমরা ক্ষমতায় গেলে এই মানুষগুলোর দায়িত্ব আমরা নেব। তাদেরকে কাজ দেব, যেন চাঁদাবাজি করতে না হয় এবং সম্মানের সঙ্গে সমাজে চলতে পারে।
গত ৫৪ বছরের শাসকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতো সময়ের মধ্যেও দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তরুণ সমাজ মাদক ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের জন্য আমাদের মায়া হয়। দায়িত্ব পেলে দেশকে ফুলের মতো সাজাবো, যাতে মানুষ দেশ নিয়ে গর্ব করতে পারে।
বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বেকার ভাতা দেবো না, রাষ্ট্রের টাকা থাকলেও না। ভাতা দিলে বেকারত্ব কমে না, বরং বাড়ে। আমরা ভাতা নয়, কাজ দেব। নিজ যোগ্যতায় আমাদের দেশের মানুষকে গড়ে তুলবো যাতে কাউকে বেকার থাকতে না হয়। একবার আপনারা জামায়াতে ইসলামীকে সেই সুযোগ করে দেন।
জনসভা শেষে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান মেহেরপুরের দুটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় নির্বাচনি প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন এবং উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, মেহেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দিন খান, মেহেরপুর-২ আসনের প্রার্থী নাজমুল হুদা, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইকবাল হুসাইন প্রমুখ।
তারেক হোসেন/নাঈম