ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Nagad desktop

ইশতেহারের আগেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫০ এএম
ইশতেহারের আগেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি
বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে মুখর। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার প্রকাশের আগেই ভোটারদের কাছে তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির ‘ভিশন’ ও ‘রূপরেখা’ তুলে ধরছে। বিশেষ প্রাধান্য পাচ্ছে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বেকারত্ব দূরীকরণ, রাষ্ট্র সংস্কার ও সুশাসনের বিষয়গুলো। মূলত ইশতেহারের আগাম বার্তা হিসেবেই দলগুলো তাদের এই প্রাথমিক অঙ্গীকারগুলো ভোটারদের সামনে নিয়ে আসছে। ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের নতুন প্রত্যাশা তৈরি করছে।

জানা গেছে, বিএনপি এবং জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহার তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দুই দলই ইশতেহার পুস্তক আকারে প্রকাশ করবে। ইশতেহারের নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে দল দুটির শীর্ষ নেতারাসহ সংসদ সদস্য প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করতে পারে দল দুটি। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনি ইশতেহারও প্রায় চূড়ান্ত। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহার তৈরির কাজ চলমান। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কাজ করছেন। এবারের ইশতেহার হবে দেশবাসীর সামনে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি।’

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা আবদুল হালিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ইশতেহার তৈরির কাজ চলমান। বিভিন্ন মহলের বিশেষজ্ঞ ও নেতাদের মতামত নিয়ে একটি কমিটি ইশতেহার তৈরির কাজ করছে। শিগ্‌গিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে।’

ভোটারদের কাছে বিএনপির যেসব প্রতিশ্রুতি 
নির্বাচন সামনে রেখে গত ২২ জানুয়ারি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর পুণ্যভূমি সিলেট থেকে বিএনপির নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এদিন সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করলে দেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করা হবে। নতুন করে খাল খনন, কৃষকদের কার্ড প্রদান, নারীদের ফ্যামিলি কার্ডের মতো বিশেষ সহায়তা প্রদানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধান করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এরপর তারেক রহমান মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে জনসভায় যোগ দিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। এরপর ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে জনসভা করেন তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও ঢাকার উত্তরায় জনসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। 

এসব জনসভা থেকে ভোটারদের কাছে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি; নতুন করে খাল খনন; কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান; নারীদের ফ্যামিলি কার্ড; তরুণদের কর্মসংস্থান; বিভিন্ন ভাষা শিক্ষা ও আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ; মাদক নিয়ন্ত্রণ; কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন করে আধুনিকায়ন করা; যুবকদের দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা; ইমাম, খতিব ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও হালাল উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা; পরিবেশ সুরক্ষায় ৫০ কোটি গাছের চারা রোপণ; বায়ুদূষণ কমাতে ধাপে ধাপে পুরোনো ও জরাজীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার; ঢাকার বাইরে স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলা; ঢাকা শহরের ভেতরের চক্রাকার মনোরেল রেল চালু; উপজাতিদের অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা; গ্রামীণ এলাকায় এক লাখ প্রাথমিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ; যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচসি) আদলে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা’; প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা; কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন করা; বিদেশে চাকরি ও শিক্ষার জন্য সহজ শর্তে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করা; কুমিল্লায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা; বস্তিবাসীর পুনর্বাসনসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

গতকাল ময়মনসিংহ জনসভায় তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে স্লোগান হবে একটাই– করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। সবার মনে রাখতে হবে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আসুন, আমাদের আজকে শপথ হোক, আমরা এই বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে পরিণত করব, আমরা বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে রূপান্তরিত করব।

জামায়াত যেসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে
চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে নির্বাচনি জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন জামায়াত। এরপর পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, খুলনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গায় ও ঝিনাইদহ জনসভায় নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন জামায়াতের আমির। সবশেষ গতকাল যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটে জনসভায় যোগ দেন শফিকুর রহমান।

এসব জনসভায় থেকে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ; ধনী-গরিব, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, নারী-পুরুষ, শিশু, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার; জনগণের চাওয়া অনুযায়ী বদলে যাওয়া বাংলাদেশ; দিনাজপুর ও বগুড়াকে পৃথক সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করা; বগুড়ায় একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা; দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ; উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানানো; কৃষিকে আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ ও জায়গায় জায়গায় সংরক্ষণাগার তৈরি; বিগত সাড়ে ১৫ বছরে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা; চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়া; নারীদের সম্মান অটুট রাখা; মায়েদের জন্য আলাদা বাসের ব্যবস্থা করা; কুষ্টিয়ার নদীগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা; চালের ট্রাক থেকে সব ধরনের চাঁদা আদায় বন্ধ করা; মামলাবাণিজ্য বন্ধ করা; যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা; বন্ধ কলকারখানা চালু; জনগণের চৌকিদার হয়ে তাদের সম্পদের আমানত হেফাজত করা; জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের প্রতিবছর জনগণের সামনে প্রকাশ করা; শুকিয়ে যাওয়া নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনা; কর্মস্থল ও রাস্তায় নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; যুবকদের বেকার ভাতা নয় বরং সরকারি খরচে উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা; শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা এবং প্রবীণদের জন্য পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার ব্যবস্থা, চাঁদাবাজদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুপথে ফিরিয়ে আনা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা; দলের কোনো জনপ্রতিনিধি কালোটাকার দিকে হাত বাড়াবে না; বিদেশি কাউকে প্রভুর মতো আচরণ করতে দেব না; ৬৪ জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াতের আমির। 

জানা গেছে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াতের মতোই একই প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। 

গতকাল খুলনার জনসভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি আমরা একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, তাদের হাতে হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। যুবসমাজকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করতে চাই। জুলাই বিপ্লবে তাদের যে অবদান, কিছুটা হলেও তার ঋণ শোধ করতে চাই।

তিনি বলেন, একটি দল একদিকে দিচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে দিচ্ছে মা-বোনদের গায়ে হাত। যারা মাকে অসম্মানিত করছে, তাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাই।

চরমোনাই পীরের প্রতিশ্রুতি
জামায়াত জোট থেকে শেষ মুহূর্তে বেরিয়ে গিয়ে এককভাবে নির্বাচন করছেন চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এ ছাড়া কোরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে একটা শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ে তোলা; দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা; বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ করা, সব ধর্ম-বর্ণভেদে ধনী-গরিব সবার সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা; সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাসহ নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছে। 

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ১৮ অঙ্গীকার
নির্বাচনের ইশতেহারে ১৮টি বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। এর মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন; গণতান্ত্রিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন; স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ; নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার ও প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা; অর্থনৈতিক পুনর্গঠন; কর্মসংস্থান; দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস; শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন; জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার গণমুখী সংস্কার; খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি সংস্কার; শ্রমিক অধিকার ও ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা; নারী অধিকার ও লিঙ্গসমতা; যুবশক্তির বিকাশ; পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো; পরিবেশ, জলবায়ু ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষা; বিজ্ঞান-প্রযুক্ত ও গবেষণার গণমুখী সংস্কার; গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা; সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চেতনা এবং পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সংহতি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, লুটপাটের অর্থনীতি বন্ধ, প্রতিটি মানুষের ও দেশের মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংসদে ভূমিকা নেবেন কাস্তে প্রতীকের প্রার্থীরা। ঢাকা সচল করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমনভাবে উন্নয়ন করতে হবে, যাতে ওইসব এলাকায় মানুষ কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা পায়। দেশে দরিদ্রতা বাড়ছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র গড়ে উঠছে না। বন্ধ কলকারখানা চালু করে অবস্থা পরিবর্তনে ব্যবস্থা করতে হবে।

নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রলীগের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী সদর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মিছিলের শুরুতে পুলিশ বাধা দিলেও একপর্যায়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এবং বর্তমান সরকারের 'সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির' বিরুদ্ধে ওই মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। এতে সহস্ত্রাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করে।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার ছাত্রলীগ যুবলীগের হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থকরা মিছিলটি বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশে বাধা উপেক্ষা করেই নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন। এসময় পুলিশ সদস্যরা গা-ঢাকা দেন।

বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু।

মিছিল শেষে সমাবেশে আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু বলেন, আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় এবং সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হব না এবং রাজপথ ছাড়ব না।

কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্বে জায়গা থেকেই আমরা প্রতিবাদ করেছি। পুলিশ প্রথমে আমাদেরকে বাধা দিলে আমাদের নেতাকর্মী ভয়ে এদিক সেদিক চলে যায়। পরে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আমরা প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিয়ে মিছিল করি এবং সমাবেশ করি। আমরা বিশ্বাস করি অতি দ্রুত আমাদের নেত্রী দেশে ফিরে দেশের দায়িত্ব নিবেন এবং আমাদের নেত্রী দেশে ফেরার সাথে সাথেই বর্তমান সময়ের সন্ত্রাস চাঁদাবাজরা দেশ ছেড়ে পালাবে। 

জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আগে থেকেই টের পেয়ে পুলিশের ছয় সদস্যের দল সেখানে উপস্থিত ছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে আমাদের কিছুই করার ছিল না । আমরা মিছিলে শুরুতে তাদের বাধা দিলেও পরবর্তীতে তাদের উপস্থিতি সংখ্যা বেড়ে গেলে আমাদের সদস্যরা সরে পড়েন।


ইকবাল হোসেন মজনু/এসএন

হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন?

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন?
ছবি: খবরের কাগজ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র প্রয়াত শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। 

শুক্রবার (৫ জুন) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ঘটনার সময়কার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে এবং কার অনুমতিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই হত্যা মামলার বাদী হলেন, তা অবিলম্বে পরিষ্কার করতে হবে।

পোস্টে মাসুমা হাদি লেখেন, ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে, যেসব বিষয়ে তিনি এখনো মুখ খোলেননি শুধু ভাইয়ের কথা ভেবে। তবে দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার বাদী হওয়া নিয়ে যে ‘নোংরামি’ চলছে, তার প্রেক্ষিতে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

মাসুমা হাদি উল্লেখ করেন, ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়েই তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান এবং এক মুহূর্তের জন্যও ভাইয়ের পাশ থেকে সরেননি। তার প্রশ্ন ‘প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে স্বাক্ষর (সাইন) নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের স্বাক্ষর দেবে কেন?’ এ বিষয়ে তাকে বোঝানো হয়েছিল যে, ওমর (ওসমান হাদির ভাই) এর কাছে পুলিশ গিয়েছিল এবং তিনি চিকিৎসার ব্যস্ততার কারণে পরে বিষয়টি দেখবেন বলেছিলেন। মাসুমা হাদি বলেন, ‘এ ধরনের ফৌজদারি মামলায় বাদীর স্বাক্ষর আগে বা পরে নেওয়া নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই, এবং পুলিশ চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়েও আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতো।’

তৎকালীন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে মাসুমা হাদি লেখেন, একই রিকশায় দুই ভাই থাকায় ওসমান গণির (হাদি) রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত হয়ে পড়েছিলেন। বুলেট আরেকটু এদিকে লাগলে ওমরও সেদিন মারা যেতে পারতেন। ওসমান হাদিকে যেদিন সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়, সেদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে নিজের পোশাক ও হাতের ঘড়ি থেকে ভাইয়ের রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন।

এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাবের যদি আমাদের নলছিটির ছেলে না হতো, তাহলে কোনো প্রশ্নই থাকত না। কারণ ওসমান গণির সঙ্গে দীর্ঘদিন যারা চলাফেরা করেছেন, তারা জানেন তার জীবনে তার ছোট আপুর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই ছোট আপুর সঙ্গে পরামর্শ না করে কার অনুমতিতে জাবের মামলার বাদী হলো এটি পরিষ্কার করতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমরের লাইফস্টাইল নিয়ে চলা ট্রলিংয়ের জবাবে মাসুমা হাদি জানান, ওমর যে ঘড়ি পরেন তা পাঁচ বছর আগে ১৭ হাজার টাকায় কেনা। এছাড়া ২০১৬ সালে তিনি ৩০ হাজার টাকার ব্লেজার এবং ৭০ হাজার টাকার মোবাইল ব্যবহার করতেন। কাউকে না জেনে অযথা ট্রল না করার অনুরোধ জানান তিনি।

চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে অনেকেই দায়িত্ব নিতে চাইলেও পরিবার সায় দেয়নি। সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে থাইল্যান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। পরে সরকার বিষয়টি জানার পর দায়িত্ব নেয় এবং দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুরে কাগজপত্র পাঠালে তা গ্রহণ করা হয়। এরপরই ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।’

রাজু/রিফাত/

রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে দেশের রাজনীতি এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য চারদিকে সুপরিকল্পিত ও গভীর চক্রান্ত চলছে।’

শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে এখনকার রাজনীতিতে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন করে সমাজের কাছে, রাজনীতির কাছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের হীন প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি মূলত রাজনীতিকে ধ্বংস করার একটি চক্রান্ত এবং এটি সুস্থ রাজনীতির জন্য কোনো শুভ লক্ষণ নয়।’

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ব্যাখ্যা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকেই অনেক রকম চিন্তা করেন। কিন্তু বিএনপির মূল চরিত্র হচ্ছে এটি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘একটা বড় আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের পর আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আজ গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সবকিছুকে ভেঙে ফেলা এবং মস্তহীন করার মধ্য দিয়ে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতির মধ্য দিয়ে একটি সরকার গঠন করতে পেরেছি। এখন এই সরকারের দায়িত্ব হবে দ্রুততার সঙ্গে এই চক্রান্তকে চিহ্নিত করে সঠিক খাতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা।’

স্মরণ সভায় প্রয়াত নেতাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা ভাইয়েরা এমন এক সময়ে রাজনীতি করেছেন যখন রাজনীতিতে এথিক্স, মোরালিটি ও মূল্যবোধ ছিল। তারা সবসময় জনগণের কল্যাণ, মানুষের সমস্যার সমাধান এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে গেছেন।’

রিফাত/

হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফারের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নোয়াখালীর হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়দেইল গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে।

সম্প্রতি তিনি ফেসবুক লাইভে এসে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে নোয়াখালী-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। আবদুল গাফফার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।

ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান, রিফাত ও মাহিমকে সেফ হোমে রেখে আমি বাঁচিয়েছি। তখন তাদের ভিডিওবার্তা থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করেছি। তার কারণে হান্নানের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার রাজনৈতিক গার্ডিয়ান হিসেবে ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সঙ্গে ছিলাম। যার কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন আমি এতে বাধা দিই।’

গাফফার অভিযোগ করে বলেন, ‘হান্নানের তিন কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা গত বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খানকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর আমি রাশেদ খানের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসউদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা ধরনের হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি হান্নান মাসউদকে জানাই। তিনি বলেন, ওই সব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শোনে না। তারা যা করার করুক।’

ছাত্রদল নেতা গাফফারের দাবি, ‘চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁসের পর হান্নানের যোগসাজশে তার অনুসারীরা আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা আমাদের ভবনের একটি জানালা ভাঙচুর করে এবং প্রধান ফটকে হামলা চালায়। পরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়। আমার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম (৬০) ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন (৬৯) একাই বাড়িতে থাকেন। তারা এখনও ভীতসন্ত্রস্ত। মা-বাবা বলছেন, আমি যেন আর কোনো বক্তব্য না দিই। আবারও তারা বাড়িতে হামলা করতে পারে।’

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তিন কোটি টাকা দাবির স্ট্যাটাস দেওয়ায় গত দুই দিন ধরে ছাত্রদল নেতা গাফফারকে প্রকাশ্যে হান্নান মাসউদের অনুসারী এনসিপির নেতা-কর্মীরা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। যারা হুমকি দিয়েছে, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল তিবরিজ বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা গাফফার দৃঢ়ভাবে বলছে, এটা এনসিপির নেতা-কর্মীরা করেছে। তাহলে আমরা ধরে নেব, তারা নিজেরাই ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় এমপি মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করার পর আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। আমি সেগুলোই সামাল দিতে পারি না, আরেকজনের বাড়িতে হামলা করব কেন? পুরো বিষয়টি একটি সাজানো নাটক, যাতে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক তারা কী করতে পারে।’

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘গ্রামের বাড়িতে একতলা ভবন। ওই ভবনের দক্ষিণ পাশে অন্ধকার। ওই দিক থেকে কেউ একজন ঢিল মেরেছে। ইটের টুকরা এসে পড়লে জানালার একটি অংশ ভেঙে যায়। কে মারছে, কাউকে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মজনু/রিফাত/

চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, চট্টগ্রাম মহানগরের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের অনেককে মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়।

মিছিলটি বন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে শেখ মুজিব সড়ক হয়ে আগ্রাবাদ মোড়ের দিকে অগ্রসর হয় এবং পরে বিদ্যুৎ ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যানার বহন করেন। ব্যানারে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু, শিশু ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচার এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানানো হয়।

স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম নগরে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বেশ কয়েকটি ঝটিকা কর্মসূচির পর এটি আরও একটি আলোচিত রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে সামনে এসেছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও পর্যালোচনা করে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

রিফাত/