ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৪ (কসবা, আখাউড়া) আসনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষতার ঘাটতির অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার।
তার অভিযোগ, একটি দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, অথচ অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে আখাউড়া পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব অভিযোগ করেন তিনি।
আতাউর রহমান সরকার বলেন, নির্বাচনি মাঠ সমতল থাকবে এবং সব দল সমান সুযোগ পাবে- এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর আগেই একটি দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মোটরসাইকেল শোডাউন ও বড় পরিসরে সভা-মিছিল করেছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন, ব্যানার ও বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। উপজেলার ধরখার ইউনিয়নে একজন কর্মীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। তবে কসবা–আখাউড়া এলাকায় প্রশাসনের আচরণে পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। প্রচারণায় বাধাদানকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার তালিকা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হবে। বিরোধী দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগেও পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আতাউর রহমান সরকার বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে নদী-নালা ও খাল-বিল সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যুবসমাজের জন্য উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ, স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন, পাঁচটি অ্যাম্বুল্যান্স সংযোজন, সড়ক সংস্কারসহ দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করা হবে।
এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন খান। এ সময় জেলা শিবির সভাপতি জুলফিকার হায়দার রাফীসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জুটন বনিক/অমিয়/