ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
Nagad desktop

খাগড়াছড়ি আসনে পাহাড়ি-বাঙালি ভোটের জটিল হিসাব

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
খাগড়াছড়ি আসনে পাহাড়ি-বাঙালি ভোটের জটিল হিসাব
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় প্রবীণ ভোটারদের কাছে ধানের শীষে ভোট চাইছেন বিএনপি প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া (বাঁয়ে)। কমলছড়িতে ভোটের প্রচারে জামায়াত প্রার্থী এয়াকুব আলী চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় সংসদের ২৯৮নং আসন খাগড়াছড়ি। পাহাড়ি-বাঙালির বসবাস থাকা এই আসনে এখন নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মী সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়ায় দলটির প্রার্থীকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া মারমা জনগোষ্ঠীর সমর্থন পাওয়ায় অন্য দলের প্রার্থীর থেকে তিনি বেশ এগিয়ে আছেন। পিছিয়ে নেই জামায়াতের প্রার্থীও। চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর একটি অংশ প্রথমবারের মতো দলটির প্রার্থীর প্রচারে অংশ নেওয়ায় তিনিও বেশ ফুরফুরে। তবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাদের মধ্যে একজন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত। পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনের অঘোষিত সমর্থন থাকায় তাদের ভোটের হিসাব পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। সামগ্রিক বিবেচনায় এই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাজনৈতিক শক্তির চেয়েও বেশি নির্ভর করছে ব্যক্তিগত প্রভাব, পাহাড়ি-বাঙালি সমাজের সমর্থন এবং ভোটের দিনের পরিস্থিতির ওপর।

৯টি উপজেলা, তিনটি পৌরসভা ও ৩৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ২৬৯৯.৫৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় সংসদীয় আসন মাত্র একটি। এই আসনে এবার বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ জাতীয় পর্যায়ের আট দলের প্রার্থীর পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও তিনজন পাহাড়ি স্বতন্ত্র প্রার্থী। আসনটিতে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন। এর মধ্যে বাঙালি ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৯৮৬ জন এবং পাহাড়ি ভোটার ২ লাখ ৭১ হাজার ১২৩ জন। বাকি চারজন তৃতীয় লিঙ্গের। 

খাগড়াছড়ি আসনে ভোটের হিসাবে জাতীয় পর্যায়ের দলের পাশাপাশি বড় ফ্যাক্টর আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তি। আসনটিতে পাহাড়ি এবং বাঙালি ভোটের বিভাজন বরাবরই জটিল সমীকরণ তৈরি করে। এবারে খাগড়াছড়ি আসনে মোট ১১জন প্রার্থী থাকলেও ভোটযুদ্ধ হবে মূলত চারজনের মধ্যে। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের ওয়াদুদ ভূঁইয়া, জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী) সমীরণ দেওয়ান ও ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ধর্মজ্যোতি চাকমা। ভোটে অংশ নেওয়া কলস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা অবশ্য তাদের তুলনায় পিছিয়ে আছেন। 

জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দৃশ্যত এগিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া। এর পরের অবস্থানে জামায়াতের এয়াকুব আলী চৌধুরী। এ ছাড়া পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনীতির সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান এবং ধর্মজ্যোতি চাকমাও এবার টেক্কা দেবেন জাতীয় পর্যায়ের দলের প্রার্থীদের সঙ্গে। 

জেলা সদরসহ নয় উপজেলার মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো বেশ শক্তিশালী। এসব জায়গায় জোরে-শোরে চলছে ধানের শীষের প্রচার। তবে জেলার লক্ষ্মীছড়ি, মহালছড়ি, দীঘিনালা এবং পানছড়ি উপজেলার দুই তৃতীয়াংশ এলাকায় প্রচার ঝুঁকি বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে বিএনপিকে। দলটির সঙ্গে জোট বেঁধেছে খাগড়াছড়ির মারমা জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের পদ-পদবিধারী নেতাসহ আওয়ামী ঘনিষ্ঠ অনেক নেতা-কর্মীর বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ঘটনাও খাগড়াছড়ির বিএনপি প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। 

এদিকে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় অন্যান্য সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার খাগড়াছড়ি আসনে বেশি ভোট টানার সম্ভাবনা রয়েছে জামায়াতের। আগে কখনো পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে জামায়াতের নির্বাচনি প্রচারে দেখা না গেলেও এবার চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীও যোগ দিয়েছে দাঁড়িপাল্লার প্রচারে। 

অন্য দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান এবং ধর্মজ্যোতি টেক্কা দেবেন পাহাড়ি ভোট নিয়ে। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে সমীরণ দেওয়ানকে সমর্থন দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বিভক্ত দুই গ্রুপ এবং ধর্মজ্যোতি চাকমাকে সমর্থন দিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। 

বিএনপি প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, ‘২০০১-২০০৬ সালে এমপি থাকাকালে আমার উন্নয়ন কাজ, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ-কারাভোগ এবং মাঠে সক্রিয় অংশগ্রহণের সার্বিক বিবেচনায় সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালিরা সাম্প্রদায়িক বিভাজন না করে আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।’ জামায়াত প্রার্থী এয়াকুব আলী চৌধুরী বলেন, ‘চাঁদাবাজি, দুর্নীতিমুক্ত এবং অসাম্প্রদায়িক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিনির্মাণে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই আমাদের পক্ষে এক হয়েছে।’ 

বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান বলেন, ‘আমি এর আগে পাহাড়ি-বাঙালির ভোটে নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলাম। এবার নির্বাচিত হলে আগের মতোই সব সম্প্রদায়ের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখব।’

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা বলেন, ‘এর আগেও আমি সকল সম্প্রদায়ের ভোটে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছিলাম। এবারও পাহাড়ি-বাঙালি ভোটের বিভাজন না রেখে খাগড়াছড়ি আসনের ভোটাররা আমাকেই নির্বাচিত করবেন বলে বিশ্বাস করি।’

বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের বর্তমান কাঠামো দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আনতে সক্ষম হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ ও ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে।’

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের বিদ্যমান কর ও রাজস্ব কাঠামোর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের নজির নেই। বর্তমান ব্যবস্থার মধ্যে থেকে এ লক্ষ্য অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ দেখা যাবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটের রূপরেখা পর্যালোচনা করে সে ধরনের কোনো কার্যকর সংস্কারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।’

তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘কয়েকটি পণ্যের ওপর কর হ্রাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।’

সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এত অল্প সময়ের ব্যবধানে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনা নজিরবিহীন। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।’

বাজেটে সুশাসন ও জবাবদিহিতার ঘাটতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাজেটে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বড় বাজেট মানেই বড় ব্যয়ের সুযোগ; আর সেখানে জবাবদিহিতা না থাকলে দুর্নীতির ঝুঁকিও বাড়ে। বাজেটে দুর্নীতি রোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উল্লেখ নেই, যা উদ্বেগজনক।’

রিফাত/

জনকল্যাণমুখী বাজেটের দাবিতে বাসদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
জনকল্যাণমুখী বাজেটের দাবিতে বাসদের বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোসহ জনকল্যাণমুখী বাজেটের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ঢাকা মহানগর শাখা। 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বাজেটের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ‘অসম’ বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

সমাবেশে বাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট ঘোষণা করেছে, তা মূলত ঋণনির্ভর। বাজেটের ঘাটতি পূরণে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা এবং সুদ বাবদ ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা সরকারের দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইএমএফের পরামর্শে জনগণের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা বাড়ানো হয়েছে, অথচ ধনীদের স্বার্থে উৎস কর কমানো হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষির মতো জনকল্যাণমুখী খাতগুলো অবহেলিত রেখে সামরিকসহ অনুৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে।’

জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যু থামানো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে এটিকে ‘জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ বা মহামারি হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান তারা।’

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধেরও দাবি জানান বাসদ নেতারা। পাশাপাশি, বিগত সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দাসত্বের চুক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানানো হয়।

বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার ইনচার্জ নিখিল দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, নগর নেতা আহসান হাবিব বুলবুল, জাকির হোসেন ও রুখসানা আফরোজ আশা। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন নগর নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

চট্টগ্রামে যুবলীগের মিছিল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
চট্টগ্রামে যুবলীগের মিছিল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
ছবি:সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের একটি ঝটিকা মিছিল বের হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর বায়েজিদ এলাকা থেকে এ মিছিলটি বের করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

স্থানীয়রা জানান, নামাজ শেষে হঠাৎ করেই কয়েকজন ব্যক্তি দলবদ্ধ হয়ে সড়কে বের হয়ে আসেন এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মিছিলটি করেন, পরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। মিছিলটি বায়েজিদ এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। মিছিলে কারা কারা ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

রিফাত/

সীমান্তে ‘পুশইন’ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতার পরিপন্থী: চরমোনাই পীর

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
সীমান্তে ‘পুশইন’ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতার পরিপন্থী: চরমোনাই পীর
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। ছবি: খবরের কাগজ

সীমান্তে ভারতের ‘পুশইন’ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আচরণ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করে।’

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পঞ্চগড় জেলা শাখার আয়োজনে জেলা কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘সীমান্তে যে পুশইনের কার্যক্রম আমরা লক্ষ্য করছি, তা সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক ও মানবতাবিরোধী। যেভাবে মানুষকে অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। এ জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি বিজিবিকে ধন্যবাদ জানান।’

ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রেজাউল করীম বলেন, ‘এ ধরনের আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত আচরণ থেকে সরে এসে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। প্রয়োজনে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মেও আলোচনা হতে পারে।’

বাজেট প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা ছাড়া কোনো বাজেট জনগণের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর-ভ্যাট দিচ্ছে। তাই জনগণের অর্থ কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা জাতির সামনে পরিষ্কার থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজেটের সুফল তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। সরকার যদি জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তাহলে দেশের ও মানুষের কল্যাণ হবে।’

 রনি মিয়াজী/রিফাত/

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে সিলেটে জেলা বিএনপির আনন্দ মিছিল

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে সিলেটে জেলা বিএনপির আনন্দ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘উন্নয়নমুখী, জন-বান্ধব ও দূরদর্শী’ আখ্যায়িত করে সিলেটে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সিলেট জেলা বিএনপি। 

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্ট প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ এমপি বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট দিয়েছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে অনুমোদিত এই বাজেটের মূল দর্শন হলো জনগণের কল্যাণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা একটি বৈষম্যহীন ও আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণের সুস্পষ্ট রূপরেখা।’

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘ দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। এটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’র পথে এগিয়ে নেওয়া।

সমাবেশে বক্তারা বাজেটের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, ‘সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষায় মূল্যস্ফীতি ৭-৮ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রত্যয় এই বাজেটকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় চাল, ডাল, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, তেল ও মসলাসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তারা।’

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, অতীতের মতো বাজেট ঘোষণার পর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এবার থাকবে না। বক্তব্যে বাজেট উপস্থাপনায় সিলেট অঞ্চলের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে বলা হয়, ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের ৫৫টি বাজেটের মধ্যে সিলেট বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি ৩০টি বাজেট সংসদে পেশ করা হয়েছে। যার মধ্যে সাবেক সফল অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান একাই ১২টি বাজেট পেশ করে ইতিহাস গড়েছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহজামাল নুরুল হুদা, মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, নাজিম উদ্দিন লস্কর; উপদেষ্টা কামরুল হাসান শাহীন; যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, তাজরুল ইসলাম তাজুল, আনোয়ার হোসেন মানিক, আবুল কাশেম, আব্দুল আহাদ খান জামাল, শাকিল মোর্শেদ, জসিম উদ্দিন; সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, সাহিদুল হক সুহেল, মাহবুব আলম, অর্জুন ঘোষ, মনিরুল ইসলাম তুরন, ড. নাজিম উদ্দিন, সুমেল আহমদ চৌধুরী, রায়হান এইচ খাঁন, আশরাফুল আলম বাহার, জুবের আহমেদ ও আব্দুল মুতাকাব্বির সাকি প্রমুখ।

রিফাত/