আগামী ১২ তারিখ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং পরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত–জোট ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত পটুয়াখালীর বাউফল পাবলিক মাঠে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি দলের নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ ও গণতন্ত্র রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি, লুটপাট ও চাঁদাবাজি হয়েছে; নতুন সরকারের মাধ্যমে এসব নির্মূল করা হবে এবং সরকারি অর্থের পাচার আটকানো হবে। ক্ষমতায় গেলে পাচার হওয়া অর্থ খুঁজে বের করে রাষ্ট্রীয় তহবিলে ফেরত দেওয়া হবে এবং দেশের সবচেয়ে বঞ্চিত ও নির্যাতিত অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নদী ভাঙন, বঞ্চনা ও অন্যান্য সামাজিক সমস্যা দূর করতে সরকার ব্যবস্থা নেবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, মিথ্যা মামলা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করা হবে এবং যেকোনো অপকর্মের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি এ সময় নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং দেশের সকল অঞ্চলে ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দেন।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, পটুয়াখালী-১ আসনের এবি পার্টির প্রার্থী ডা. আব্দুল ওহাব মিনার, পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, পটুয়াখালী-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন। পটুয়াখালীসহ ১১ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও জনসভায় অংশ নেন।
সকাল থেকে বাউফল পাবলিক মাঠ ও আশপাশে হাজার হাজার নারী পুরুষ নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত হয়ে জনসভাকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। দূর-দূরান্ত থেকে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে যোগ দেন।
সমাবেশ শেষে জামায়াত আমির জোট প্রার্থীদের হাতে নিজ নিজ দলের প্রতীক তুলে দেন এবং প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধভাবে জোট প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
জনসভা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন এবং আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
হাসিবুর রহমান/নাঈম