ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণের আর মাত্র এক দিন বাকি। প্রচারে শেষ প্রান্তে এসে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনি উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। জেলার ১০টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এসব আসনের মধ্যে তিনটিতে ত্রিমুখী, একটিতে চতুর্মুখী এবং বাকি দুটিতে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
শেষ মুহূর্তে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। মাঠে সক্রিয় রয়েছেন প্রায় সব দলের প্রার্থী। প্রত্যেকেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া)
এই আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম জহির উদ্দিন স্বপন, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. কামরুল ইসলাম খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে রাসেল সরদার, জাতীয় পার্টি (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীকে সেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আhlsস সোবাহান ফুটবল প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, এই আসনে মূল লড়াই হবে ধানের শীষের জহির উদ্দিন স্বপন ও ফুটবল প্রতীকের আব্দুস সোবাহানের মধ্যে। তবে হাতপাখা ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীরাও প্রচারে পিছিয়ে নেই।
বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর)
এই আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাস্টার আব্দুল মান্নানকে ঘিরেই মূল প্রতিযোগিতা হচ্ছে বলে মনে করছেন ভোটাররা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মদ নেছার উদ্দীনসহ অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে লড়াই সবচেয়ে জটিল। এখানে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট, ইসলামী আন্দোলন ও বাম দলসহ ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের গোলাম কিবরিয়া টিপু, ইসলামী আন্দোলনের সিরাজুল ইসলাম, ১১-দলীয় জোটের এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং বাম দলের প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন।
স্থানীয়দের ধারণা, এখানে চতুর্মুখী লড়াই হবে। বর্তমানে কারাগারে থাকা গোলাম কিবরিয়া টিপুর পক্ষে তার পরিবারের সদস্যরা প্রচার চালাচ্ছেন।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসন যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এলাকা। এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে রাজিব আহসান, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে সৈয়দ এছহাক মো. আবুল খায়ের (চরমোনাই পীরের ছোট ভাই) শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, এখানে মূল লড়াই হবে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে।
বরিশাল-৫ (বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা) বিভাগীয় সদর দপ্তরের এই আসনটি ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম। এ ছাড়া বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্তীসহ কয়েকজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। ভোটারদের মতে, মূল লড়াই হবে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের আবুল হোসেন খান ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের মাওলানা মাহমুদুন্নবীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জমে উঠেছে।
সব মিলিয়ে ভোটারদের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জমজমাট লড়াই চলছে। শেষ মুহূর্তের প্রচার শেষে কার ভাগ্যে জয় আসে, তার উত্তর মিলবে ভোটের দিনই।
বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার সংখ্যা ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৮ জন। এর মধ্যে বরিশাল-১ আসনে ৩ লাখ ২৮ হাজার ২০০ জন, বরিশাল-২ আসনে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৮ জন, বরিশাল-৩ আসনে ৩ লাখ ৩২ হাজার ১০১, বরিশাল-৪ আসনে ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৭৫, বরিশাল-৫ আসনে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৩ জন এবং বরিশাল-৬ আসনে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৬১ জন ভোটার রয়েছেন।