স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহিদদের প্রতি যে অঙ্গীকার ছিল, তার ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ আজও সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন।
রবিবার (১ মার্চ) এরশাদবিরোধী আন্দোলনের শহিদ তাজুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন সকাল ১০টায় রাজধানীর মুক্তিভবনের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে সিপিবির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বামপন্থি রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী শাসনামল এবং সাম্প্রতিক ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার-কেউই শহিদদের আত্মত্যাগ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি সঠিক বিচার করতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার অভিমুখে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।’
সিপিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম অভিযোগ করেন, শহিদদের রক্তদানের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে পরবর্তী সরকারগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘দলীয় দখলদারি’ কায়েম করেছে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধেও প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণের অভিযোগ তোলেন।
সমাবেশে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‘দেশি-বিদেশি শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশে একটি স্বাধীন বামপন্থি ও গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির উত্থান বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।’
১৯৮৪ সালের ১ মার্চ তৎকালীন এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে ডাকা শিল্প ধর্মঘট ও হরতালের সমর্থনে আদমজী জুটমিল এলাকায় মিছিল করার সময় শ্রমিক নেতা তাজুল ইসলাম হামলার শিকার হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিনই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিবছর এই দিনটিকে ‘শহিদ তাজুল দিবস’ হিসেবে পালন করে বামপন্থি সংগঠনগুলো।
জয়ন্ত/এসজি/