মহান মে দিবসকে শ্রমিক শ্রেণির মুক্তির লড়াইয়ে অনুপ্রেরণার স্থল হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। একইসঙ্গে দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
শুক্রবার (১ মে) সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশ ও র্যালিতে নেতারা এসব কথা বলেন।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূর আহমদ বকুল বলেন, মে দিবস শ্রমের মর্যাদা ও অধিকার স্বীকৃতির লড়াইয়ের দিন হলেও পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিকদের মানবিক মর্যাদা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
নতুন নতুন উদ্ভাবনের আড়ালে কৌশলে শ্রমশোষণ চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিশ্বের নিপীড়িত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে না।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে কল-কারখানায় নির্মম শ্রমশোষণ চলছে এবং ন্যূনতম মজুরিও নির্ধারিত নয়। লুটেরা মালিক শ্রেণি কখনোই শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা করে না।’
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও 'নন ডিসক্লোজ চুক্তির' সমালোচনা করে তিনি সতর্ক করেন যে, এর ফলে জনজীবনে সংকট বাড়বে এবং রাষ্ট্র স্বৈরাচারী হয়ে উঠবে। আজকের দিনে সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিহত করার দায়িত্ব নিতে তিনি শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক অভিযোগ করেন, সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদী শক্তি রাশেদ খান মেননকে মিথ্যা মামলায় বিনা বিচারে আটকে রেখেছে। অবিলম্বে তার মুক্তির দাবিতে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
পলিটব্যুরো সদস্য অধ্যাপক সুশান্ত কুমার দাস দেশে প্রগতিশীল বাম আন্দোলন পুনর্গঠন এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নিজস্ব শক্তি বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি তোপখানা রোড ও পুরানা পল্টন হয়ে জিরো পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পার্টি অফিসের সামনে এসে শেষ হয়। র্যালির শুরুতে গণসংগীত পরিবেশন করেন নারী নেত্রী নাসরিন খান লিপি ও মনিকা মণ্ডলসহ গণশিল্পীর একদল শিল্পী।
মিছিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নজরুল হক নীলু, আলী আহমদ এনামুল হক এমরানসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।
জয়ন্ত সাহা/অন্তরা