বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এ শহরকে ঘিরে কোটি মানুষের স্বপ্ন, জীবন এবং জীবিকার হাতছানি। কিন্তু আধুনিকতার তকমা, তীব্র গতিশীলতা আর উন্নয়নের গগনচুম্বী প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, ঢাকা আজ যেন এক নিরবচ্ছিন্ন শোকের নগরী। এই শহরের কোলাহল ভেদ করে প্রতিনিয়ত ভেসে আসে এক নীরব সাইরেন- মৃত্যুর সাইরেন।
গত ২১ জুলাই উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিষ্পাপ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারীসহ মোট ৩১ জন প্রাণ হারান। যে বাবা-মা গত ২১ জুলাই দুপুরে তাদের সন্তানকে স্কুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে ছিলেন, তাদের কাছে আকাশ থেকে নেমে আসা মৃত্যু এক অকল্পনীয় অভিশাপ। আবার যে আবুল কালাম আজাদ ফার্মগেটের ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তিনি হয়তো কল্পনাও করেননি যে শহরের সর্বোচ্চ আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে নির্মিত স্থাপনা থেকেই তার ওপর নেমে আসবে মৃত্যু। মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড কেড়ে নেবে তার প্রাণ।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। খবরের পাতা খুললেই দেখা যায় বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪৬ জন। বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লেগে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ জন। প্রতিদিনই সড়কে প্রাণ ঝরছে। সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে গড়ে দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান। এ ছাড়া বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মানুষ মরছে, খোলা ম্যানহোলে পড়ে মানুষ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এখানেই শেষ নয়। বায়ুদূষণ ক্যানসার ও শ্বাসকষ্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে; নোংরা পানিতে জন্ম নিচ্ছে ডায়রিয়া, সংক্রমণ আর দীর্ঘমেয়াদি রোগ আর শব্দদূষণ মানসিক অস্থিরতা ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই অদৃশ্য ঘাতকরা প্রতিনিয়ত শহরের মানুষের জীবনের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে।
ইব্রাহীম খলিল (সবুজ)
শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]