যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপত্তার অভাব, করোনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এখন বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক তেমন আসতে আগ্রহ প্রকাশ করছে না। একদিকে জঙ্গি হামলা, বিদেশিদের হত্যা। অন্যদিকে নাইট ক্লাব, মদ, বার, ম্যাসেজ পার্লার না থাকা এবং পর্যটন এলাকায় ভালো ও উন্নতমানের হোটেল ও বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় বিদেশিরা বাংলাদেশ ভ্রমণে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এতে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা হারাতে বসেছে। দেশি পর্যটনও সংকটে। আমাদের দেশে সরকারের যে কয়টি পর্যটন হোটেল-মোটেল ও কটেজ রয়েছে তাও আধুনিকতা থেকে অনেক পেছনে। খাবার মান আন্তর্জাতিক মানসম্মত নয়। এখন অনেক পর্যটক মায়ানমারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। পর্যটক আকৃষ্ট করতে মায়ানমারের জুরি নেই। তাদের দেশের অভ্যন্তরে শান্তি, সৌন্দর্য, বিনোদন, নাইট ক্লাব, মদ-বিয়ার ও রাতে মায়ানমারে যাতায়াত করতে বিদেশিরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করে না। সেখানে বিদেশিদের জন্য সরকার ও বেসরকারি উদ্যোগে অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে যেসব বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন সে তুলনায় এখন অনেক কমেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী পর্যটন খাতে বিদেশিদের ব্যয় কমেছে। বাংলাদেশে আগের মতো বিনিয়োগ না থাকা, ব্যবসায়িক সভায় ও পর্যটকদের মাথাপিছু ব্যয় কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে পর্যটন ক্ষেত্রে পতনের বেশ প্রভাব পড়েছে। তবে দেশি পর্যটক মোটামুটি থাকায় এখনো এ ব্যবসা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এতে দেশের পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা খুশি নন। বাংলাদেশে পর্যটন ব্যবসার সুবিধার্থে চীনা পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশে পর্যটক আকর্ষণ ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিদেশিদের সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা এবং তাদের বিনিয়োগ অপরিহার্য। বিষয়টি সরকার ভেবে দেখবে, এটাই আশা করি।
মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী
গণমাধ্যমকর্মী, ১৭ ফরিদাবাদ, গেন্ডারিয়া, ঢাকা
[email protected]