গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া কার্যকর গণতন্ত্র কল্পনাও করা যায় না। জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করা, ক্ষমতার জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের অনিয়ম প্রকাশ করাই সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হলো, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পেশাগত অভিজ্ঞতা ছাড়াই কেউ কেউ ভুয়া পরিচয়পত্র, অচেনা অনলাইন পোর্টাল বা সামাজিক আইডি দেখিয়ে প্রশাসনিক ও নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের মনে সন্দেহ তৈরি করা হচ্ছে। এতে নির্বাচনের পরিবেশ উত্তপ্ত হচ্ছে এবং সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরাও সন্দেহের চোখে পড়ছেন। তাদের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তথ্যপ্রবাহে বিলম্ব হচ্ছে এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ যথাযথভাবে প্রকাশিত হচ্ছে না। এ ছাড়া, কিছু পত্রিকা ও সাংবাদিক প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন সংগ্রহের স্বার্থে অযোগ্য ব্যক্তিদের সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছে, যা পেশার নৈতিকতা ও গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সারা দেশে সাংবাদিক পরিচয়ের স্বচ্ছ, যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সাংবাদিক কার্ডের অপব্যবহার, ভয়ভীতি বা অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
ডা. মু. মাহতাব হোসাইন মাজেদ
লেখক
[email protected]