শহরে বাস করা এখন কেবল স্বপ্ন নয়, বরং প্রতিদিনের এক কঠিন সংগ্রামের নাম। এ সংগ্রামের সবচেয়ে বড় ও নীরব শত্রু হয়ে উঠেছে বাড়ি ভাড়া। আয় বাড়ে ধীরে, কিন্তু ভাড়া বাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে- এ বাস্তবতায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন দিন দিন আরও চাপে পড়ছে। একসময় বাড়ি ভাড়া ছিল পরিবারের মোট আয়ের সহনীয় একটি অংশ। এখন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আয়ের অর্ধেক বা তারও বেশি চলে যাচ্ছে শুধু মাথার ওপর ছাদের জন্য। চাকরিজীবী, শিক্ষক, ছোট ব্যবসায়ী কিংবা অবসরপ্রাপ্ত মানুষ- কারও জন্যই বিষয়টি আর আলাদা নয়। মাসের শুরুতেই ভাড়া দেওয়ার চিন্তা মানুষের মনে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
সমাধান কি নেই? আছে, যদি সদিচ্ছা থাকে। সরকারিভাবে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা কার্যকর করা, নির্দিষ্ট সময়ের আগে ভাড়া না বাড়ানোর নিয়ম, মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে স্বচ্ছ চুক্তি- এসবই হতে পারে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। পাশাপাশি মালিকদেরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি; ভাড়াটিয়ারা শুধু আয় করার উৎস নয়, তারাও এ সমাজেরই অংশ। বাড়ি ভাড়া বাড়ার এ সংকট আসলে আমাদের শহুরে জীবনের আয়না। এখানে কেবল অর্থনীতির হিসাব নয়, আছে মানুষের স্বস্তি, নিরাপত্তা আর সম্মানের প্রশ্ন। এ জায়গায় ভারসাম্য না এলে শহর থাকবে, কিন্তু শান্তি থাকবে না।
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
লেখক
[email protected]