সাম্প্রতিককালে দেশ বেশকিছু সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের সাক্ষী হয়েছে। এসব ঘটনার সংঘটন ধারাবাহিক, দৃশ্যত পরিকল্পিত! প্রোঅ্যাকটিভ পদক্ষেপের অভাবেই মূলত ঘটছে এগুলো। এসব ঘটনার নিন্দা প্রকাশে দায়িত্বশীল কিছু প্রতিষ্ঠানের বিলম্ব সমাজকে ভুল বার্তা দিচ্ছে! এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়াও যথেষ্ট কৌশলী মনে হয়! সমস্যা সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়াতেই যেন আগ্রহ বেশি! গণমাধ্যমকে সতর্ক ও সংযতভাবে খবর প্রকাশ করতে দেখা গেছে! স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ একটি জাতির জন্য এই বিচ্যুতি কতটা মানানসই? আসন্ন নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের এসব ঘটনা কতটা প্রভাব ফেলবে?
উসকানি ছড়ায় এমন ধর্মীয় বা সামাজিক প্রচার সংযত করা যাচ্ছে না! এসব ঘটনা দেশকে পেছনের দিকে ধাবিত করার ইঙ্গিত দেয়! রাষ্ট্রকে পশ্চাৎপদ সংস্কারে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলার ষড়যন্ত্রের আঁচ পাওয়া যাচ্ছে! দারিদ্র্য কমেছে, কিন্তু মনের দারিদ্র্য না ঘুচলে তো উন্নয়ন টেকসই হয় না।
মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ছিল সমতাভিত্তিক মানবিক সমাজ গঠন। অথচ অদ্ভুত এক প্রতিক্রিয়ার স্রোতে ভেসে এ দেশে চলছে ঘৃণার চাষ! রাজনৈতিক দলগুলো কি সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী রাজনীতি নির্মাণ করতে পেরেছে, নাকি ধর্ম ও রাজনীতি নিজেদের মধ্যে সমঝোতা গড়ে তুলেছে? রাজনীতিতে আদর্শ, সাম্প্রদায়িকতা আর মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে দল কী ভূমিকা রাখবে তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
রাষ্ট্রগঠন একটি অবিরত প্রক্রিয়া। অর্থনীতির মজবুত ভিতের জন্য স্থিতিশীল সরকারের পাশাপাশি প্রয়োজন বহুত্ব, সমতা ও বিবিধ মতপথের অন্তর্ভুক্তি। আশা রাখি, বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির প্রসন্ন জ্যোতিকণা ঘুচিয়ে দেবে সব অন্ধকার; ভোরের আশ্বাসে আবারও জেগে উঠবে সম্ভাবনার আলোকমালা! অটুট থাকুক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
আসিফ আল মাহমুদ
ফ্রিল্যান্স রাইটার/কলামিস্ট
রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম ৪২০২
[email protected]