ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, দেশের নির্বাচনি পরিবেশ ততই উত্তপ্ত ও সহিংস হয়ে উঠছে! বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার তারা ভোট দিতে আগ্রহী, তবে ভোটারদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও ভীতি বিরাজ করছে! নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে শঙ্কার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। নির্বাচনি প্রচারণার পর থেকে দেশব্যাপী সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে! বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা এবং অসহিষ্ণু আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে! অর্থ, বাহুবল এবং ধর্ম- এই তিন শক্তির অপব্যবহার প্রকট হওয়ার দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছে! ফলে, সমান প্রতিযোগিতাসহ নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে! ভোটের দিন পরিবেশ স্বাভাবিক না থাকলে এবং নিরাপদে সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে না পারলে, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি হলো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মূল মাপকাঠি। এটা তখনই সম্ভব হবে, যখন ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে। সাধারণ মানুষ যদি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভোট কেন্দ্রে না যায়, তাহলে নির্বাচন কখনোই অংশগ্রহণমূলক হবে না।
দলগুলোর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারে। অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রকাশিত হলে দেশে গণতন্ত্র জোরদার হবে। ভোটারবিহীন সহিংস নির্বাচন দেশকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং এতে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আসিফ আল মাহমুদ
রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম
[email protected]