চাঁদরাত একটি শব্দ শুধু নয়, এটি একটি মুহূর্ত, সারা রমজান মাসের আবেগের সন্ধিক্ষণ যেন। গোধূলির আকাশে, নীল কালোর মায়াবী ক্যানভাসে যখন রুপালি চাঁদের সরু রেখা আঁকা পড়ে তখন প্রতিটি ছাদে ছাদে মানুষের ভিড় আর উৎকণ্ঠা আর ঠোঁটে থাকে অস্পষ্ট দোয়া। বাতাসে যেন ভেসে আসে তাকবিরের ধ্বনি- 'আল্লাহু আকবর'। সেই মুহূর্তে কত শত মোবাইলে বন্দি হয় এই অপার্থিব কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, আনন্দের কম্পন- চাঁদরাত। চাঁদরাতে সেই ক্ষীণ আলো যেন এক আশ্চর্য বার্তা নিয়ে আসে। আকাশে চাঁদের আলো, স্তিমিত হলেও মাটিতে তখন আনন্দের জোয়ার। মহল্লায় মহল্লায় মানুষের ঢল নামে, বাজার অলিগলি শপিংমলসহ সব জায়গায় এক উৎসবের কোলাহল। মনে হয়, যেন এক ফালি চাঁদের আলো শহরের বুকে পূর্ণিমার জ্যোৎস্নার রূপ নিয়ে আলোক-ঝরনার বন্যা বইয়ে দিয়েছে। কাপড়ের দোকান, জুতোর শোরুম, আতরের দোকান, পাঞ্জাবির দোকান, সেলুন- সবখানেই মানুষের ভিড় ও ব্যস্ততা উপচে পড়ছে। রাত যত গভীর হয় বাজারের আলো তত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তবে চাঁদরাত মানেই শুধু কেনাকাটা নয়, প্রতিটি ঘরে চলে ঈদের খানাপিনার প্রস্তুতি। এ প্রস্তুতি কেবল নারীর হাতের কোনো রান্না নয়, এ যেন এক শিল্পসাধনা। চালের আটার খামির করে নিপুণ আকারের চালের রুটি, মসলা বাটা, নারকেল কোরা, বাদাম, খুরমার মিহি সরু দৃষ্টিনন্দন কর্তন- সব একসঙ্গে যেন এক সুসংগঠিত অর্কেস্ট্রার মতো তাল মিলিয়ে চলে। মসলা বাটার ছন্দে তৈরি হয়, ঘ্রাণের রাগ-গাওয়া ঘিয়ে সোনালি পেঁয়াজের বেরেস্তায় জাগে স্বাদের আলাপ আর নারকেলের মিঠি দুধে ফুটতে থাকে সেমাইয়ের কোমল লয়ের তরঙ্গ... তিজেল হাঁড়ি, কড়াই, খুন্তির মৃদু শাব্দিক নড়াচাড়ার নৃত্য- যেন সৃজনশীলতা ও অভিজ্ঞতার যুগল মেলবন্ধন। শুরু হয়ে যায় আগামী দিনের ঈদের দিনের দস্তরখান সাজানো প্রস্তুতি। পরদিন ঈদ হয়ে ওঠে আরও রঙিন ও জীবন্ত।
লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা
[email protected]