বর্তমান বিশ্বে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি তেল তথা জীবাশ্ম জ্বালানি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আমাদের দৈনন্দিন যাতায়াত, শিল্পকারখানার কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জ্বালানি তেল সরাসরি ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশে যেখানে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিই কৃষিকাজ, সেসব জায়গায় ফসল উৎপাদনের জন্য সেচকাজ পরিচালনা করতেও জ্বালানি তেল দরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বর্তমানে আমাদের আমদানিনির্ভর জাতীয় অর্থনীতিতে জটিল প্রভাব আনতে পারে। তাই দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের অর্থনৈতিক অস্তিত্বের স্বার্থে এবং পরিবেশগত দায়বদ্ধতার জন্য তেলের অপচয় রোধ করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের দরকার কিছু অভ্যাসগত পরিবর্তন, যেমন- জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য মহাসড়কে গাড়িকে একটি পরিমিত গতিতে (সাধারণত ৫০-৬০ কিমি/ঘণ্টা) রাখার চেষ্টা করতে হবে, রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম বা সিগন্যালে গাড়ি এক মিনিটের বেশি আটকে থাকলে ইঞ্জিন বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে উন্নত পাবলিক বাস বা ট্রেন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়াটাও জরুরি। এ ছাড়া প্রয়োজন কিছু দীর্ঘমেয়াদি প্রাকৃতিক ও টেকসই সমাধান, যেমন- সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং জলবিদ্যুতের মতো প্রাকৃতিক ও অফুরন্ত নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার বাড়ানো, বিভিন্ন উদ্ভিদজাত তেল ও শস্য থেকে বায়োডিজেল এবং ইথানলের মতো বায়োফুয়েল উৎপাদনে দ্রুত রাষ্ট্রীয়ভাবে গবেষণার প্রসার বাড়ানো, একবার ব্যবহৃত তেল ফেলে না দিয়ে সেটিকে রি-ফাইনিং বা রিসাইকেল করে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করাটাও মঙ্গলজনক। সর্বোপরি, আমাদের সচেতনতা এবং অভ্যাসগত পরিবর্তনই জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক উভয় সংকট থেকে আমাদের মুক্তির একমাএ পথ।
বি এম হিশাম লাজ
শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]