জ্বালানি হলো এমন পদার্থ যা পোড়ালে বা রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন হয়। বিশ্বে কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত প্রধান জ্বালানি পদার্থ হিসেবে বিবেচিত এবং পরিচিত। এসব জ্বালানি পদার্থ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দৈনন্দিন জীবনের যান্ত্রিকতা সচল রাখার প্রধান উৎস। আধুনিক সভ্যতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, যানবাহন চলাচল, শিল্পকারখানা এবং রান্নার কাজে জ্বালানি অপরিহার্য। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের টানাপোড়েন পুরো বিশ্বের অর্থনীতিকে এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তাই জীবাশ্ম জ্বালানির সীমিত মজুত, উচ্চমূল্য, পরিবেশদূষণ কমানো এবং ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সংরক্ষণ অপরিহার্য। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বর্তমানে সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং স্মার্ট মিটারিং প্রযুক্তির প্রয়োগ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এলইডি বাতি, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি, পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানিসাশ্রয়ী উন্নত চুলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা। স্মার্ট ও দক্ষ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যেমন এসির বদলে ইনভার্টার প্রযুক্তি সম্পন্ন এসি ব্যবহার করলে প্রচুর বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। আবার তাপ পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তির মাধ্যমে সিমেন্ট ও ইস্পাতশিল্পে অপচয় হওয়া তাপকে পুনরায় ব্যবহার করার প্রযুক্তি ব্যবহার করেও জ্বালানি সাশ্রয় করা যায়। এ প্রযুক্তিগুলো ব্যবহারে যে কোন দেশের জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম হবে।
মো. জাহিদুল ইসলাম
নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান (আইসিটি সেল), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
[email protected]