জঙ্গি হামলা পুরো বিশ্বে একটি আতঙ্কের নাম। পৃথিবীতে এর আগে যত রকমের জঙ্গি হামলা এবং সন্ত্রাসমূলক কার্যক্রম সংঘটিত হয়েছে, তাতে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সম্পদ এবং নিরপরাধ সাধারণ মানুষের ক্ষতি চরম পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। সম্প্রতি, বাংলাদেশে আবারও জঙ্গি হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যসূত্রের মতে, এবার দেশে জঙ্গিদের লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা এবং বাহিনীর সদস্য, পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের কাছাকাছি সময়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে হামলা চালানোয় অনেক উগ্রবাদী এবং জঙ্গি সংগঠনের লোকজন পালিয়ে যায়। মূলত, অন্তর্বর্তী সরকারের দূরদর্শিতার অভাবের কারণে দেশে উগ্রবাদীরা ভিন্ন ভিন্ন সংগঠনের নামে সংগঠিত হয়ে তাদের জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০টি জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। দেশে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির মদতদাতা হিসেবে বর্তমান সময়ে পাকিস্তানের চিহ্নিত দুই জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি) ও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর নাম সামনে আসছে। জানা যায়, এই দুই সংগঠন বিভিন্নভাবে তাদের এজেন্টদের দেশে প্রবেশ করাচ্ছে। সর্বোপরি, দেশে এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জঙ্গি হামলা হয়েছে। যাতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, সাংবাদিক, বিচারক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এ ধরনের জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছেন। দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং বিভিন্ন বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তৎপর হতে হবে।
বি এম হিশাম লাজ
শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]